রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মোবাইলফোনের রিংটোন হিসেবে জাতীয় সঙ্গীত ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকল

প্রকাশিত : ১২ মে ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মোবাইল ফোনে রিংটোন ও ওয়েলকাম টিউন হিসেবে জাতীয় সঙ্গীতের বাণিজ্যিক ব্যবহারকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখেছে আপীল বিভাগ। এ রায়ের ফলে মোবাইল ফোনের রিংটোন হিসেবে জাতীয় সঙ্গীত ব্যবহার নিষিদ্ধই থাকল। হাইকোর্টের রায়ে গ্রামীণফোনকে লিভার ফাউন্ডেশনে এবং বাংলালিংককে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি রিসার্চে ‘দাতব্য অনুদান’ হিসাবে ৫০ লাখ টাকা দিতে বলা হয়েছিল। আপীল বিভাগের রায়ে ওই অর্থের পরিমাণ কমিয়ে ৩০ লাখ টাকা করা হয়েছে। দেশের দুই মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের করা আপীলের আবেদন খারিজ করে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন বিচারকের আপীল বেঞ্চ সোমবার এ রায় দেয়।

এর আগে ২০১০ সালের ৫ আগস্ট জনস্বার্থে দায়ের করা রিটের নিষ্পত্তি করেন হাইকোর্টের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। ওই সময় জাতীয় সঙ্গীত বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করায় তিন মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণ ফোন, বাংলালিংক ও রবিকে ৫০ লাখ করে দেড় কোটি টাকা চ্যারিটেবল ডোনেশনের জন্য দিতে বলা হয়। এ রায়ের ফলে মোবাইল ফোনের রিংটোন হিসেবে জাতীয় সঙ্গীত ব্যবহার নিষিদ্ধই থাকল। হাইকোর্টের রায়ে গ্রামীণফোনকে লিভার ফাউন্ডেশনে এবং বাংলালিংককে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি রিসার্চে ‘দাতব্য অনুদান’ হিসাবে ৫০ লাখ টাকা দিতে বলা হয়েছিল। আপীল বিভাগের রায়ে ওই অর্থের পরিমাণ কমিয়ে ৩০ লাখ টাকা করা হয়েছে। ২০০৬ সালে জাতীয় সঙ্গীতকে রিংটোন, ওয়েলকাম টিউন ব্যবহারের বিরুদ্ধে কালিপদ মৃধা হাইকোর্টে এ রিট আবেদন করেন।

তার যুক্তি ছিল, সংবিধানের ৪ অনুচ্ছেদে জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় প্রতীক সংরক্ষণের কথা বলা আছে। এছাড়া ১৯৭৮ সালের জাতীয় সঙ্গীত বিধানে ২০টি ক্ষেত্রে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু মোবাইল ফোনের রিংটোন হিসেবে জাতীয় সঙ্গীত ব্যবহার সংবিধান ও আইনের পরিপন্থী। তার আবেদনের ওপর শুনানি করে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০১০ সালের ৫ অগাস্ট মোবাইল ফোনে রিংটোন ও ওয়েলকাম টিউন হিসেবে জাতীয় সঙ্গীতের ব্যবহার অবৈধ ও বেআইনী ঘোষণা করে।

ওই রিট আবেদনে গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের পাশাপাশি মোবাইল অপারেটর রবিও বিবাদী হিসেবে ছিল। তাদেরও ৫০ লাখ টাকা দাতব্য অনুদান দিতে বলা হয়েছিল। রিট আবেদনকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার মাসুদ আহমেদ সাঈদ জানান, হাইকোর্টের শুনানিতে মোবাইল কোম্পানিগুলোর পক্ষে কোন আইনজীবী না আসায় বিচারক ওই দাতব্য অনুদান দেয়ার নির্দেশনা দেয়। গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপীলের আবেদন করলেও সোমবার সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তা খারিজ হয়ে গেল।

প্রকাশিত : ১২ মে ২০১৫

১২/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: