আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অপরূপ সৌন্দর্যের আধার ধানমণ্ডি লেক

প্রকাশিত : ১১ মে ২০১৫
  • পান্থ আফজাল

‘কেউতো আমার জন্য কখনই অস্বস্তি নিয়ে অপেক্ষা করেনি

ধানম-ি লেক, কিংবা পরিচিত কোন রেস্তরাঁয়।

কেউতো কখনই বলেনি-

আজ থাক ক্লাস করার দরকার নেই,

চলে এসো এই মেঘলা হাওয়ায়

দু’জনে কিছুক্ষণ হেঁটে বেড়াই।’

জীবনটা ভীষণভাবে ‘রামপুরা টু বসুন্ধরা ভায়া গুলশান’ হয়ে গেছে! অথচ একটা সময় পুরান, নতুন, অতি নতুনÑ চষে বেড়াতাম ঢাকা শহরের প্রতিটা প্রান্তে। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা আমার পর্যটক মন আর নাছোরবান্দা পার্কে হার মানাতে পারত না কেউই। তাঁতীবাজার, বেইলি রোড, টিএসসি, ধানম-ি, মিরপুর, উত্তরা- ছুটে বেড়াতাম যখন যেখানে ইচ্ছে। অথচ এখন বাসা-অফিস-বাসা আর যাত্রাপথে গুলশানে ছোট্ট বিরতি, তাও আবার অধিকাংশ সময়েই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্যাফেতে।

হায়, কতকাল ধানম-ি লেক দেখি না, পুরান ঢাকার জ্যাম দেখি না, বিহারি ক্যাম্পের চাপ দেখি না, চিড়িয়াখানার বাঘ দেখি না, উত্তরার বাওনিয়ায় বিদেশ ফেরত প্লেন দেখি না! রোজ একই পথ, একই রথ আর বাড়ি কিংবা অফিসমুখী একই মুখ দেখতে দেখতে বিরক্ত মন যখন বলেÑ ‘চল, বেড়িয়ে পড়ি’, মধ্য বয়সী শরীর সায় দেয় না, তার যে এখন একটুতেই ক্লান্ত লাগে!

নগর জীবনের প্রতিটি দিন কাটে ব্যস্ততায়। অবসর বলতে সপ্তাহান্তে একটি ছুটির দিন। সেখানেও নেই খুব শান্তি। রয়েছে হরেক রকম পারিবারিক- সামাজিক ব্যস্ততা। এভাবেই একসময় মন হয়ে ওঠে বিষণœ। সময় স্বল্পতার কারণে যাওয়া হয়ে ওঠে না দূরে কোথাও। তবে ইচ্ছে আর একখ- সময় বের করতে পারলে শহরে মধ্যেও কিন্তু কাটাতে পারেন অবসন্নতা। ছেড়ে আসতে পারেন স্বস্তিÍর নিঃশ্বাস।

ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন নিয়ে নির্মল বাতাসে, সবুজের স্পর্শে ঘুরে আসতে পারেন ধানম-ি লেক থেকে। লেক এলাকায় পা রাখা মাত্রই সবুজ মনোরোম পরিবেশ অনেকটা স্বস্তি দেবে আপনাকে, যেখানে পাবেন স্নিগ্ধ বাতাসের সঙ্গে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের উদ্বেলিত মিশ্রণ।

লেকটি ঘিরে রয়েছে অনেকগুলো বসার স্থান। প্রত্যেকটির আবার রয়েছে ভিন্ন নাম। যেমন ব্যাচেলর পয়েন্ট, জিয়া চত্বর, শূটিং পয়েন্ট, জাহাজবাড়ি পয়েন্ট, দ্বীপ চত্বর, লেক ভিউ সাইড, রবীন্দ্র সরোবর, ডিঙ্গি চত্বর, সুরধনী চত্বর, শতায়ু অঙ্গন ইত্যাদি। সব স্থানই লেকটির তীর ঘেঁষে তৈরি। যেখানে বসে খোলা হাওয়ায় মিশে পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠতে পারেন আপনিও।

ব্রিটিশ শাসন অবসানের পর ১৯৫৬ সালে উপযুক্ত পরিবেশ ও আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে লেকসহ ২৪০.৭৪ হেক্টর জমিতে ধানম-ি আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা হয়। সমগ্র ধানম-ি এলাকার প্রায় ১৬ শতাশং জুড়ে রয়েছে এই লেকটি। এর বর্তমান দৈর্ঘ্য ৩ কিলোমিটার, প্রস্থ ৩৫ থেকে ১০০ মিটার, গভীরতা ৪.৭৭ মিটার, জলাশয়ের মোট আয়তন ৩৭.৩৭ হেক্টর। এই লেকটি ধানম-ি ২ নম্বর সড়ক থেকে শুরু করে ধানম-ি ২৭ নম্বর সড়কে এসে শেষ হয়েছে। অবকাশ অথবা আড্ডা শেষে খাবারের প্রয়োজন হলে লেকের ভেতরেই অনেক খাবারের দোকান পেয়ে যাবেন। লেকে রয়েছে কয়েকটি ব্রিজ। এগুলো আপনার ভ্রমণে আনবে ভিন্নতা। লেকের জলে নিজের ছায়াটুকু দেখার খুব বেশি মেলে না শহুরে মানুষের।সুযোগটি হাতছাড়া করবেন না!

৩২ নম্বরে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি। এটি এখন জাদুঘর। বঙ্গবন্ধুর অনেক স্মৃতি সংরক্ষিত এখানে। চাইলে ঢুঁ মেরে আসতে পারেন বঙ্গবন্ধুর বাড়ি থেকে।

লেকের পাড়ে রয়েছে একটি সুরম্য বাড়ি। জাহাজ বাড়ি নামেই পরিচিতি এ বাড়িটি। লেকের পাড়ে বসে জলে লাল বাড়িটির প্রতিচ্ছবি দেখতে পছন্দ করেন সবাই। শিশুদের জন্যও জায়গাটি বেশ খোলামেলা। এখানে এসে প্রাণভরে খেলতে পারে শিশুরা। চাইলে ঘাস আর মাটিতে এক শান্তির পরশও নিতে পারেন। ‘কৌতূহলের সমুদ্র’ বাংলাদেশের সর্বাপেক্ষা রহস্যময় জাহাজ বাড়ির অজানা ভুতুড়ে যত রহস্য কথা! আধুনিক যুগে এসেও সবার মনে একটাই প্রশ্ন, বাড়িটি রহস্য ঘেরা ভৌতিক বাড়ি কেন? ধানমি আবাসিক এলাকার লেক ঘেঁষা লাল ইটের তৈরি জাহাজ আকৃতির বাড়িটি স্থাপত্য শিল্পের এক অপরূপ নিদর্শন। আরব্য উপন্যাস এ্যারাবিয়ান নাইটসের গল্পে যাদুর বাড়ির মতো এই বাড়িটি সবার নজর কাড়বে। অনেকেই বাড়িটিকে চেনে জাহাজ বাড়ি হিসেবে। তবে স্থাপত্যশৈলীর দিক দিয়ে আকর্ষণীয় হলেও বাড়িটি নিয়ে রহস্যের শেষ নেই। অনেকটায় আলিফ লায়লার যাদুর বাড়ির মতোই এই বাড়িটি। তাই তো বিশ্বের সর্বকালের সেরা মুষ্টিযোদ্ধা (বক্সার) মুহম্মদ আলী সোনার দেশ বাংলাদেশ নিয়ে বলেছিলেন, ‘স্বর্গে যেতে চাইলে বাংলাদেশ ঘুরে আসুন।’

প্রকাশিত : ১১ মে ২০১৫

১১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: