আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ব্যস্ত জীবনে সময় মেপে কাজ করুন

প্রকাশিত : ৪ মে ২০১৫

সকালে মিলির অফিসে আছে জরুরী মিটিং। নাহিদকে ও সময় মতো অফিসে পৌঁছতে হবে। এদিকে কাজের লোকটাও গেছে ছুটিতে। ভোরে ঘুম ভাঙতেই রাজ্যের কাজ এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে মিলির কাঁধে। সকালের নাশতা তৈরি, দুপুরের লাঞ্চ, ঘর গোছানো, অফিসের জন্য তৈরি হওয়া ছাড়াও অনেক কাজের চাপে দিশেহারা হয়ে যায় মিলি। চাকরিজীবী দম্পতিদের সংসারের রোজগার চিত্র এটি। এ পরিস্থিতিতে পড়েন না এমন কেউ নেই। বাড়িতে নানা কাজের ঝক্কি ছাড়াও আছে রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম। এসব কিছুর টেনশনে হয়ত সারাক্ষণই বাড়ির কর্তা-গিন্নী উভয়কে মানসিক চাপে থাকতে হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত মাথায় থাকে হাজারো কাজের টেনশন। সারাদিন কেটে যায় কাজ আর সময়ের পেছনে ছুটতে ছুটতে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চাই একটু পরিকল্পনা। একটু কৌশল আর পরিকল্পনা করে চলতে পারলেই আপনি মুক্তি পাবেন অযথা টেনশন থেকে।

কাজের পরিকল্পনা করুন

সব সময় হয়ত পরিকল্পনামাফিক চলা যায় না। তবুও যতটা সম্ভব প্ল্যান করে চলুন। আগামী দিন কি কি কাজ করবেন বা করতে হবে তা মনে মনে একবার ঠিক করে নিন।

কাজের সঙ্গে সময়টাও ঠিক করুন।

সবই প্ল্যান করে রাখুন। এতে করে কাজের বাড়তি চাপ থেকে যুক্তি পাবেন। অফিস এবং বাসার কাজ ভাগ করে নিন। কখনই বাসার কাজ অফিসে বা অফিসের কাজ বাসায় আনবেন না। এতে করে কাজ যেমন সহজ হবে তেমনি কাজের অযথা চাপ অনুভব করতে হবে না। পরিকল্পনা মতো কাজ করলে ভুল হবার সম্ভাবনা কম থাকে। এমনকি কোন কাজ মিস হওয়ার সম্ভাবনাও থাকবে না।

প্রাধান্য অনুযায়ী কাজ করুন : বেশি কাজের চাপে দিশেহারা হবেন না। অযথা টেনশন করবেন না। কাজের গুরুত্ব অনুযায়ী পরিকল্পনা করুন। কোন কাজটি আগে করতে হবে তা ঠিক করে নিন।

মাথা ঠা-া রেখে কাজ গুছিয়ে নিন। একসঙ্গে অনেক কাজ না করে একটি শেষ করেই অন্যটিতে হাত দিন। এতে করে কাজে ভুল হবে না এবং এলোমেলো হওয়ারও সম্ভাবনা থাকবে না। কাজের চাপ সব সময় থাকবেই। গুরুত্ব অনুযায়ী কাজের প্রাধান্য নির্ধারণ করুন।

সবকিছু লিখে রাখুন : সারাদিন অনেক কাজ করতে হয়। সবকাজের কথা মনে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, মানসিক চাপ বাড়ে। তাই নোট করুন। লিখে রাখুন কখন কোন কাজ করবেন। এর ফলে কোন কাজ ভুলে যাবার সম্ভাবনা থাকবেন না। আবার সময়ানুযায়ী কাজ করাও হবে। প্রতিদিন সম্ভব না হলে সপ্তাহের শুরুতে বা প্রথম দিনে কাজের লিস্ট করে নিন। নোট করে রাখুন কোনদিন কোন কাজটি করবেন। বাসার আর অফিসের কাজের জন্য চাইলে আলাদা নোট লিখে রাখতে পারেন। কাজ সম্পন্ন হলে নোট থেকে তা কেটে দিন।

নিজের জন্য সময় রাখুন : যতই কাজে ব্যস্ত থাকুন না কেন, নিজের জন্য একটু সময় রাখুন। সারাদিনের মধ্যে অন্তত এক ঘণ্টা নিজের জন্য রাখুন।

কাজ করতে করতে নিজেকে যন্ত্র বানিয়ে ফেলবেন না। নিজের সঙ্গে একান্ত কিছুটা সময় কাটান। এ সময় পছন্দের গান শুনুন, বই পড়ুন। নিজের যা ভাল লাগে তাই করুন। চাইলে মেডিটেশনও করতে পারেন। ইচ্ছে করলে বাইরে কোথাও থেকে ঘুরে আসতে পারেন। বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে আড্ডা দিয়েও নিজেকে আবার চাঙ্গা করে নিতে পারেন।

দায়িত্ব ভাগ করে নিন : সংসারের সব কাজ একা করতে যাবেন না। সব কাজের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেবেন না। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কাজ বা দায়িত্ব ভাগ করে দিন। এতে করে কাজের চাপ থেকে কিছুটা মুক্তি পাবেন। অন্যদিকে পরিবারের অন্যান্য সদস্যও দায়িত্বশীল হবে। তাছাড়া ঘরে-বাইরে সব ধরনের কাজ একা করতে গেলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী কাজের দায়িত্ব পরিবারের অন্যদের মধ্যে ভাগ করে দিন। এতে সময়ও বাঁচবে এবং আপনিও কাজের চাপ থেকে হাল্কা থাকবেন।

কয়েকটি সাধারণ নিয়ম

* গুরুত্ব অনুযায়ী কাজের প্রাধান্য দিন।

* দৈনন্দিন কাজে একটি রুটিন করুন আর তা মেনে চলার চেষ্টা করুন।

* বাসার চাবি, গাড়ির চাবি একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখুন। তাহলে হারানোর সম্ভাবনা থাকবে না।

* অযথা মানসিক চাপ নেবেন না।

* তাড়াহুড়ো না করে সময় নিয়ে কাজ করুন।

* সপ্তাহের শুরুতে লিস্ট অনুযায়ী বাজার করে নিন।

* অফিস ও বাসার কাজ আলাদা করে রাখুন এবং নির্দিষ্ট সময়ে তা করুন।

* সব কাজ একা করার চেষ্টা না করে বাড়ির সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দিন।

* অযথা বাজে কাজে সময় নষ্ট করবেন না। আগের কাজ আগের করুন।

* কখন কোন কাজ করবেন তার নোট রাখুন। কাজ শেষে নোটের সঙ্গে তা মিলিয়ে নিন।

যাপিত ডেস্ক

প্রকাশিত : ৪ মে ২০১৫

০৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: