কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নবনির্বাচিত মেয়র আনিসুল ও সাঈদ খোকন দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে

প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল ২০১৫, ১২:৩২ এ. এম.

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে নবনির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় দুই মেয়র আনিসুল হক ও সাঈদ খোকন বুধবার রাতে দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী আবারও ভোট কারচুপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে অভিযোগকারীদের ভোটের হারের দিকে দৃষ্টি দিতে বলেছেন। সিটি নির্বাচনে ৪৪ ভাগ ভোট পড়ার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, কারচুপি হলে এত কম ভোট হবে কেন? এ নির্বাচনে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। দেশের মানুষ বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা-সহিংসতা ও পুড়িয়ে হত্যার বিরুদ্ধে জনরায় দিয়েছে।

বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত সাক্ষাত অনুষ্ঠানে দুই মেয়র ছাড়া দল সমর্থিত বিজয়ী কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন। তিন সিটি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় সব পর্যায়ের নেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন গণভবন। এ সময় সবার মুখে ছিল বিজয়ের তৃপ্তির হাসি। সূত্র জানায়, অনুষ্ঠান শেষে নবনির্বাচিত দুই মেয়রসহ বিজয়ী কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলরদের নৈশভোজে আপ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী।

রাত পৌনে আটটার দিকে প্রথমে সাঈদ খোকন এবং এর কিছু পরই গণভবনে প্রবেশ করেন আনিসুল হক। গণভবনে প্রবেশ করেই উপস্থিত সকল নেতার সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন দুই মেয়র। শুরুতেই নবনির্বাচিত দুই মেয়র উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আনিসুল হক, দক্ষিণের সাঈদ খোকন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং দোয়া কামনা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও দলের নবনির্বাচিত দুই মেয়রকে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সদ্যসমাপ্ত তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হয়েছে। এ নির্বাচনে সন্ত্রাসী-জঙ্গীবাদী ও নাশকতাকারীদের বিজয় হয়নি, বিজয় হয়েছে গণতন্ত্রের। ভোটাররা বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা-সহিংসতা ও পুড়িয়ে মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে জনরায় দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, বেগম মতিয়া চৌধুরী, এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, এইচটি ইমাম, ড. মশিউর রহমান, মাহবুব-উল আলম হানিফ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, ডা. দীপু মনি, আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ড. আবদুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব) ফারুক খান, মন্ত্রী মজিবুল হকসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয়, মহানগর এবং সহযোগী ও ভাতৃপ্রতীম সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসলে বিএনপির সিটি নির্বাচন বর্জনের ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিজয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সিটি নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির যে অভিযোগ এসেছে, তার তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে যেসব কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল আমার হাতে আসবে। কে কত ভোট পেয়েছে তা দেখতে পারব।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিজিবি, র‌্যাব ও নির্বাচন কমিশনসহ (ইসি) নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার প্রচেষ্টায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হয়েছে। এ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন গণতন্ত্রের সেবকরা।

বৈঠকে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অনিয়ম ও ব্যালটে ক্ষমতাসীনদের অবাধে সিল মারা নিয়ে গণমাধ্যমে যেসব সমালোচনা হয়েছে তার পাল্টা সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি মহল সরকারের কাজকে বিতর্কিত করে ক্ষমতায় যাওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। অসাংবিধানিক কেউ আসলে তারা পতাকা পাবে। কিন্তু সেই শিকে আর ছিঁড়বে না।

শেখ হাসিনা বলেন, বুধবার কোন কোন পত্রিকা নির্বাচন নিয়ে বড় বড় নিউজ করেছে। ২০০১ সালের নির্বাচনে আমাদের নেতাদের ধরে ধরে যখন আটকে রেখে নির্বাচন করা হয়েছিল, তখন তারা কোথায় ছিল? ২০০১ সালের নির্বাচনে বর্তমান কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর নির্বাচনী এলাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় একটি ভোট কেন্দ্রে মোট ১২শ’ ভোটার ছিল। কিন্তু ভোট পড়েছে ২৮শ’। ফলে হেরে গিয়েছিলেন মতিয়া চৌধুরী। এখন সে ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। বিএনপি জোটের ৯২ দিন ধরে চলা অবরোধে পেট্রোলবোমায় মানুষ মারা যাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি মানুষ পুড়িয়ে মারলে অপরাধ হিসেবে দেখা হয় না; এ কথা কেউ বলে না। যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদের মানুষ এত ভোট দেয় কিভাবে? মির্জা আব্বাস মানুষ পোড়ানোর সঙ্গে জড়িত, তাবিথের বাবা এতে অর্থায়ন করেছে। তাদের মানুষ ভোট দেয় কিভাবে?

প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল ২০১৫, ১২:৩২ এ. এম.

৩০/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: