রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রাজধানীর বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে সাংবাদিক প্রবেশে পুলিশী বাধার অভিযোগ

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫, ১২:৫২ এ. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকার দুই সিটিতে ভোট গ্রহণের শুরু থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিশেষ করে বেশি প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন ফটোসাংবাদিকরা। যদিও নির্বাচন কমিশন ও মহানগর পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ সংক্রান্ত কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়া হলেই ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয় ইসির পক্ষ থেকে। বিভিন্ন কেন্দ্রে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা বলেন, ওপরের নির্দেশে সাংবাদিকদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। তারা শুধুমাত্র ওপরের নির্দেশ বাস্তবায়ন করছেন। এসব ঘটনাকে নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বাকবিত-া ও হয়।

উত্তরের ৬নং ওয়ার্ডের বিদ্যানী একাডেমিতে ফটোসাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। একই ওয়ার্ডের আদর্শ বিদ্যাপীঠ কেন্দ্রে শুরুতে সাংবাদিক প্রবেশে পুলিশ বাধা দিলেও অলিখিত এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। ৫নং ওয়ার্ডের মিরপুর বাংলা স্কুলে সাংবাদিক প্রবেশে বাধা দেয়া হয়। তিন নং ওয়ার্ডের মিরপুর আইডিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেয়া হলে বিষয়টি তাৎক্ষণিক ঢুকতে নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজকে জানানোর পর পুলিশ সাংবাদিকদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়। এছাড়াও সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টারে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেন কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা বলেন, এ সংক্রান্ত সরকারী কোন নির্দেশনা না থাকলেও ওপরের নির্দেশ রয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার শহীদুল ইসলামকে জানানো হয়। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন, এতে কোন বাঁধা নেই। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সাংবাদিক প্রবেশে কোন নিষেধাজ্ঞাও আসেনি বলে জানান তিনি। যাত্রাবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ফটোসাংবাদিকদের ছবি তোলার সময় বাধা দেয় পুলিশ। তাদের বক্তব্য, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত মৌখিক নির্দেশনা রয়েছে।

সিটি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের কর্তব্য পালনে বাধা দেয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ। মঙ্গলবার ইসি সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সাংবাদিকরা আগে যেভাবে কাজ করেছেন সেভাবেই কাজ করবেন। তাদেও যেন পুলিশ বাধা না দেয় সে জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরপরও যদি বাধা দেয়া হয় আমাদের জানাবেন আমরা ব্যবস্থা নেব।

শাহজাহানপুর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মির্জা আব্বাস মহিলা স্কুল এ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশের সময় সেখানে কর্মরত শাহজাহানপুর থানার উপ-পরিদর্শক সাইফুল পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘কোন সাংবাদিক ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে না। কোন ছবিও তুলতে পারবে না। ওসি স্যারের নির্দেশ আছে। এ সময় সাংবাদিকরা বলেন, আমাদের তো অনুমতিপত্র রয়েছে। জবাবে মোঃ সাইফুল বলেন, ‘আপনাদের যে অনুমতি দিয়েছে তাকে বলবেন পুলিশ ছবি তুলতে দিচ্ছে না। তিনি যদি আমাদের বলেন তখন ছবি তুলতে দেয়া হবে। উত্তরে বাড্ডা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশ সাংবাদিকদের ঢুকতে দেয়নি। সকাল আট টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকে ওপরের নির্দেশের দোহাই দিয়ে ওই কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা কোনভাবেই সাংবাদিকদের ঢুকতে দেয়নি। পুলিশ সাংবাদিকদের কয়েক ঘণ্টা পর কেন্দ্রে ঢোকার পরামর্শ দেয়। সকাল নয়টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তরের বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল কেন্দ্র পরিদর্শনে এলে তিনি বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর পুলিশ সদস্যদের জিজ্ঞেস করেন, কেন সাংবাদিকদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এ সময় নাসির নামে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, আমাদের ওপর এভাবেই কাজ করার নির্দেশ আছে। কে বা কারা এ নির্দেশ দিয়েছে জানতে চাইলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা কিছুই জানাননি।

রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলা উচ্চবিদ্যালয়, মোহাম্মদপুরের কিশলয় স্কুল, মোহাম্মদপুরের কাদেরিয়া মাদ্রাসা ও বরাব মোহনপুর স্কুল এবং খিলগাঁও ও গুলশানসহ বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন সাংবাদিকরা।

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫, ১২:৫২ এ. এম.

২৯/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: