আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ভূমিকম্পে সতর্ক থাকুন ...

প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল ২০১৫
  • পান্থ আফজাল

ভূমিকম্প হলো এমন দুর্যোগ যা অন্য আর ১০টা দুর্যোগ থেকে ভিন্ন; অন্যান্য দুর্যোগ হলে আগেভাগেই এর পূর্বাভাস পাওয়া যায় কিন্তু ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে কোন পূর্বাভাস পাওয়া যায় না। বাংলাদেশে বিশেষত ঢাকা শহরে বড় কোন ভূমিকম্প হলে পরিস্থিতি কী হবে, সেটা চিন্তা করতেও ভয় লাগে। হঠাৎ বড় ভূমিকম্প হলে, রাস্তা বা ফাঁকা মাঠে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে কি করবেন সে সম্পর্কে নিম্নে কিছু ধারণা দেয়া হলো।

* ভূমিকম্পের সময় সবচেয়ে উত্তম পন্থা হলো ড্রপ-কাভার-হোল্ড অন বা ডাক-কাভার পদ্ধতি। অর্থাৎ কম্পন শুরু হলে মেঝেতে বসে পড়ুন, তারপর কোন শক্ত টেবিল বা ডেস্কের নিচে ঢুকে আশ্রয় নিন। এমন ডেস্ক বেছে নিন বা এমনভাবে আশ্রয় নিন যেন প্রয়োজনে স্থান বদল করতে পারেন।

* অপরদিকে উদ্ধার কর্মীদের মতে বিল্ডিং ভেঙে পড়ার সময় সিলিং যখন কোন কিছুর ওপর পড়ে একে গুঁড়িয়ে দেয় এবং ঠিক তার পাশেই ছোট্ট একটি খালি জায়গা বা গর্তের সৃষ্টি হয়। একে বলা হয় সেফটি জোন বা ট্রায়াঙ্গল অফ লাইফ। তাই ভূমিকম্পের সময় বড় কোন সোফা বা বড় কোন কিছুর পাশে আশ্রয় নিলে বাঁচার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

* মানুষের বেঁচে থাকার জন্য ছোট্ট একটু গর্তই যথেষ্ট। বিপন্ন অবস্থায় কুকুর, বিড়াল এবং শিশুদের একটা সহজাত প্রবৃত্তি হলো কু-লি করে গুটিসুটি হয়ে যাওয়া। ভূমিকম্পের সময় মানুষেরও এটা অনুসরণ করা উচিত।

* রাতের বেলা ঘুমানোর সময় ভূমিকম্প হলে কোন হড়াহুড়ি করার দরকার নেই। বিছানাকে ঢাল বানিয়ে গড়িয়ে মেঝেতে কু-লি পাঁকিয়ে শুয়ে পড়ুন। তার মানে আবার বিছানার নিচে যেন ঢুকবেন না, বিছানার পাশে আশ্রয় নিন। তেমনি ভূমিকম্পের সময় জানালা বা বারান্দা দিয়ে লাফ দেয়া এসবও করবেন না।

* ভূমিকম্পের সময় কখনই সিঁড়িতে আশ্রয় নেবেন না। সিঁড়ির মোমেন্ট অফ ফ্রিকোয়েন্সি বিল্ডিংয়ের চাইতে ভিন্ন হয় এবং অনেক সময় বিল্ডিং ভেঙে না পড়লেও সিঁড়ি দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে।

* চেষ্টা করুন বাসার একেবারে ভেতরের দিকের রুমে না থেকে বাইরের দেয়ালের কাছাকাছি আশ্রয় নিতে। বিল্ডিংয়ের ভেতরের দিকে থাকলে সবকিছু ভেঙে পড়ার পর আপনার উদ্ধার পাবার রাস্তা বন্ধ হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বাইরের দেয়ালের কাছাকাছি থাকলে ঝুঁকি কম থাকবে, তাড়াতাড়ি উদ্ধার পাবার সম্ভাবনাও বেশি থাকবে।

* বড় ভূমিকম্পের পরপরই আরেকটা ছোট ভূমিকম্প হয়, যেটাকে আফটার শক বলে; এটার জন্যও সতর্ক থাকুন, না হলে পচা শামুকেই শেষমেশ পা কাটতে হতে পারে।

* প্রথম ভূমিকম্পের পর ইউটিলিটি লাইনগুলো (গ্যাস, বিদ্যুত ইত্যাদি) একনজর দেখে নিন। কোথাও কোন লিক বা ড্যামেজ দেখলে মেইন সুইচ বন্ধ করে দিন।

* জরুরী অবস্থার জন্য হাতের কাছে সর্বদা চার্জার লাইট, ব্যাটারি রাখুন। এছাড়াও দেয়াশলাই, এন্টিসেপটিক, শুকনো কাপড় সংরক্ষণ করুন।

* বাড়ির সবাইকে নিয়ে সম্ভব হলে নিরাপদ বা খোলামেলা জায়গায় আশ্রয় নিন।

* হাতের কাছে সর্বদা কিছু শুকনো খাবার ও পানি রাখুন।

* যে কোন বিপদে সবচেয়ে বেশি ভোগায় গুজব, তাই গুজবে কান না দেয়াই ভাল।

* সবচেয়ে বড় কথা একটি ভূমিকম্পের সময় যেটুকু সময় পাওয়া যায় মাথা ঠা-া রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কিন্তু আমাদের চেষ্টা করতে হবে যথাসম্ভব মাথা ঠা-া রাখা। সফল হলেই বাঁচার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে অনেকগুণ।

সময় এখন ই-বুক-এর

ডিজিটাল বই শুধু কাগজে ছাপা বইয়ের ইলেক্ট্রনিক সংস্করণ নয়, যে বই কাগজে ছাপা হয়নি বা মুদ্রিত হয়ে প্রকাশিত হয়নি সে বইও ডিজিটাল বই আকারে প্রকাশিত হতে পারে। ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে উন্নত বিশ্ব কাগজের বইয়ের চাহিদা কমিয়ে ‘অন লাইন পাবলিশিং’র ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এখন পাঠক শুধুমাত্র কাগজের প্রকাশনার নীরব হরফ ও স্থিরচিত্রে সন্তুষ্ট নয়। পাঠক চায় ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রাণময় সজীব অক্ষর আর গতিময় ছবি। এ পরিপ্রেক্ষিতে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের প্রকাশনারও বহুমাত্রিক বিস্তৃতি প্রয়োজন।

গত ৫০০ বছর বই প্রকাশনার পদ্ধতি এবং চর্চা মূলত অপরিবর্তিত ছিল। মুদ্রণ ও প্রকাশনায় প্রাথমিক বিপ্লব সাধনের প্রধান ক্রীড়নকের ভূমিকা পালন করেছে কম্পিউটার। বিবর্তনের ফলে বই আদিকালের সেই পাথুরে অবস্থা থেকে আজ ডিজিটাল অবস্থায় রূপ নিয়েছে। সময়ের সঙ্গে বইকে সুলভ ও সহজসাধ্য করার চেষ্টার ফলে বই তার আজকের রূপ পেয়েছে। বদলে যাওয়া দিনে প্রযুক্তি এখন পরিবর্তন হচ্ছে সময়ের মতো দ্রুত গতিতে। সকলের হাতের নাগালে চলে এসেছে তথ্যপ্রযুক্তি। প্রযুক্তি সকল ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। আর একে সমৃদ্ধ করেছে নানা ধরনের প্রযুক্তিপণ্য। বই কেনা, বিক্রি এবং সংরক্ষণের ধারণাই পাল্টে দিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি।

বইয়ের জগতে আবির্ভাব ঘটেছে ‘ডিজিটাল বই’ নামের এক নতুন অতিথির। ডিজিটাল বই বা ই-বুক পড়ার অভ্যেস এখন দ্রুত বেড়ে চলেছে। আমাদের দেশের নতুন প্রজন্মের মানসিক গঠন, ডিজিটাল বইয়ের সহজ প্রাপ্যতা আর প্রকাশনা শিল্পের নতুন ধারা বই পড়ায় ব্যাপক বিবর্তন এনেছে। ডিজিটাল বই অনেক নতুন পাঠক তৈরি করবে আর বই কেনা অনেক সহজ করবে। প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে প্রচলিত কাগজের বই সাংঘর্ষিক নয়। বরং প্রযুক্তির ব্যবহার বইয়ের উৎকর্ষতা আরও বাড়াবে। কাগজে ছাপানো বইয়ের সঙ্গেই চলবে ডিজিটাল বই পাঠ। বিশ্ববিখ্যাত অনলাইন বিক্রয় প্রতিষ্ঠান আমাজন ডট কম যত ছাপানো বই বিক্রয় করে তার প্রায় সমান অথবা তার থেকেও বেশি পরিমাণে বিক্রি করে ই-বুক বা ডিজিটাল বই। গড়ে প্রায় ২৩% করে বছরে ই-বুকের সংখ্যা বাড়ছে।

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দিক থেকেও বেশ এগিয়ে গেছে। বিশেষ করে বর্তমান সরকার দেশের সব ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রবর্তনে নানাবিধ প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। অফিস-আদালত, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা এমনকি শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেকাংশেই বাংলাদেশ ডিজিটালকরণে এগিয়ে গেছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্যবইসমূহ ইতিমধ্যেই ডিজিটাল করা হয়েছে। কম্পিউটার, ট্যাব, বা মোবাইল থেকে অনায়াসে একজন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বই পড়তে পারে। আগামীতে প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে ডিজিটাল বই পড়ানো/ব্যবহারের সরকারী উদ্যোগ বাস্তবায়নাধীন। আমাদের দেশে এই মুহূর্তে স্কুল-কলেজের পাঠ্যবই ও কিছু গবেষণাপত্রের বাইরে অন্যান্য বইয়ের লিগ্যাল ডিজিটাল সংস্করণ সংখ্যাগত দিক থেকে অনেক কম। বিষয়টি গুরুত্বেও সঙ্গে বিবেচনার দাবিদার।

ডিজিটাল বই শুধু কাগজে ছাপা বইয়ের ইলেক্ট্রনিক সংস্করণ নয়, যে বই কাগজে ছাপা হয়নি বা মুদ্রিত হয়ে প্রকাশিত হয়নি সে বইও ডিজিটাল বই আকারে প্রকাশিত হতে পারে। ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে উন্নত বিশ্ব কাগজের বইয়ের চাহিদা কমিয়ে ‘অন লাইন পাবলিশিং’র ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এখন পাঠক শুধুমাত্র কাগজের প্রকাশনার নীরব হরফ ও স্থিরচিত্রে সন্তুষ্ট নয়। পাঠক চায় ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রাণময় সজীব অক্ষর আর গতিময় ছবি। এ পরিপ্রেক্ষিতে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের প্রকাশনারও বহুমাত্রিক বিস্তৃতি প্রয়োজন।

নানা প্রতিকূলতাকে সাথী করে বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্প সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশে প্রকাশনা শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা কম, সরকারী-বেসরকারী যৌথ উদ্যোগে পাঠ্যবইয়ের সহায়ক বইসহ সব ধরনের বই ডিজিটাল আকারে প্রকাশ করার জন্য প্রকাশকদের উৎসাহ যোগানোর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

যদি প্রকাশকবৃন্দ কাগজের বই প্রকাশনার পাশাপাশি ডিজিটাল-বুক প্রকাশ করেন তবে এর চাহিদা পাঠকদের মধ্যে তৈরি হওয়ারও যথেষ্ট সুযোগ হবে। প্রিন্ট প্রকাশনায় যেমন প্রকাশক ও লেখক বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হয়ে থাকেন, তেমনি ই-বুক বা ডিজিটাল বই প্রকাশনার মাধ্যমেও প্রকাশক ও লেখক বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে পারেন। ধারণা করা যায় ডিজিটাল বই প্রকাশনায় প্রকাশকবৃন্দ আরও বেশি লাভবান হবেন। কারণ প্রিন্ট প্রকাশনার ব্যাপ্তি খুবই সামান্য কিন্তু ডিজিটাল বইয়ের ব্যাপ্তি হবে সহজেই বিশ্বজুড়ে। দেশীয় এবং প্রবাসী উভয়ই খুব সহজেই এর সুফল ভোগ করতে পারবে, যে যার অবস্থান থেকে বাংলা ভাষায় বা বাংলাদেশে প্রকাশিত যে কোনো বই কম খরচে সহজেই পড়তে পারবেন।

বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। অনেক ইতিহাস এবং ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে এই মাতৃভাষা বাংলার সঙ্গে। এই ইতিহাস আর ঐতিহ্যের কারণেই এটি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে সম্মান অর্জন করেছে। তাই বাংলা ভাষায় ডিজিটাল বই ব্যাপকহারে প্রকাশিত হলে আন্তর্জাতিক পরিসরে মাতৃভাষার সম্মান আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

আমাদের দেশে ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসারের কারণে অনেকেই এখন ইন্টারনেটে বই কিনতে আগ্রহী হচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এর হিসাব অনুসারে দেশে ইন্টানেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩.৫ কোটি।

আমাদের দেশে মুদ্রিত বইয়ের পাশাপাশি নতুন প্রকাশিতব্য বইয়ের ডিজিটাল সংস্করণ প্রকাশ করা যেতে পারে। প্রকাশকদের সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল বই বিক্রির কাজ করতে পারে বিভিন্ন বিপনণ সংস্থা। এতে বই এর ক্রেতাও বাড়বে, পাঠক ও বাড়বে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুই দিকেই ডিজিটাল বই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিগত বছরের বইমেলায় বিপুল সংখ্যকে ক্রেতার উপস্থিতি এবং বই বিক্রির পরিসংখ্যান আমাদের বুঝতে সাহায্য করে বাংলাদেশে একটি বড় পাঠক শ্রেণী তৈরী হয়েছে যারা নিয়মিত বই পাঠ করছেন। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং ডিজিটাল বইয়ের চাহিদার কারণে কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক বই পিডিএফ হিসেবে নেটে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে করে লেখক এবং প্রকাশক উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বাংলাদেশে পাঠাভ্যাস তৈরিতে যে কয়টি সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে তার মধ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র অন্যতম। সেকায়েপ-এর পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির ২০১৫ সালে পাঠক সংখ্যা ১৫ লাখ। সব মিলিয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মাধ্যমেই ২০১৫ সালে ২০ লাখ পাঠক বইপড়ার সুযোগ পাচ্ছে। যারা কেন্দ্রের কর্মসূচীর বাইরে আরও বই পড়তে আগ্রহী। গত এক বছরে কেন্দ্রের ই-লাইব্রেরি থেকে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার বই ডাওনলোড হয়েছে। আমরা উপলব্ধি করতে পারছি ভবিষ্যতের বই শুধু কাগজে ছাপানো বই হলেই চলবে না, ছাপানো ও ইলেক্ট্রনিক দুটোই করা প্রয়োজন। বইকে সহজলভ্য, বাজার এবং পাঠকবৃদ্ধির জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তিকে একটা বিরাট সুযোগ হিসেবে নেয়া যেতে পারে। এখন প্রয়োজন শুধু উদ্যোগ গ্রহণ করার।

ডিজিটাল বই প্রকাশনায় সীমাবদ্ধতা, আইনগত নিরাপত্তা, কারিগরি সুবিধা-অসুবিধা ইত্যাদি পর্যালোচনা করে তা সহজলভ্য করার উপায় খুঁজে বের করতেই আমাদের আজকের এই উদ্যোগ। ’

নজরুল হোসেন

মডেল : রিবা

প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল ২০১৫

২৭/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: