মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রবাসীদের পেনশন স্কিম

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৫

বয়স বাড়লে মানুষের কর্মক্ষমতা কমে আসে। তখন বয়সের ভারে অনেকেই ক্লান্ত, শ্রান্ত হয়ে পড়েন। সে সময় অনেকেরই নিয়মিত আয় থাকে না। যারা সরকারী চাকরি করেছেন বা করছেন তাদের জন্য রয়েছে পেনশনের ব্যবস্থা, যা দিয়ে অবসর জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু বেসরকারী চাকরিজীবী বা অন্য স্বাধীন পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে সরাসরি সরকারী এই ব্যবস্থাটি এখনও চালু হয়নি। অবশ্য কোন কোন ক্ষেত্রে বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় সম্প্রতি এই ধরনের সুবিধা চালু হয়েছে, কোথাও চালুর কথা ভাবা হচ্ছে। রয়েছে বিভিন্ন ইনসিওরেন্স কোম্পানি বা সংস্থার পেনশন পলিসিও। যেগুলো পেনশন সুবিধার সুযোগ এনে দেয়। কিন্তু এই সুবিধা সব পেশা বা শ্রেণীর মানুষের সহজে পাওয়ার সুযোগ এখনও নিশ্চিত হয়নি। বিশেষ করে প্রবাসী-কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে। অথচ এই প্রবাসীরাই প্রতিবছর ১৪ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠাচ্ছেন, যা জিডিপির প্রায় ৮ শতাংশ। সেই প্রবাসীদের জন্য আরেকটি সুসংবাদের কথা জানা গেল সোমবারের জনকণ্ঠে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসীদের জন্য ‘পেনশন স্কিম’ চালু করা হবে। যা হবে অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তাদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের ‘পেনশনার সঞ্চয়পত্র’-এর মতো। শনিবার ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে রেমিট্যান্স বিষয়ে এক সেমিনারে প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে গবর্নর এই ঘোষণা দেন। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ এর মাধ্যমে বিনিয়োগে নিয়ে আসার বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ প্রশংসাযোগ্য। উল্লেখ্য, প্রবাসীদের কল্যাণে ইতোপূর্বে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখা খোলা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দূতাবাসে প্রবাসীদের নানা সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হয়েছে।

সারা বিশ্বে সরকারী হিসাবে বাংলাদেশের ৮৬ লাখ কর্মজীবী অবস্থান করছেন। বেসরকারী হিসাবে এক কোটি ছাড়িয়ে গেছে বলে বলছে বিভিন্ন সংস্থা। তাদের কষ্টের ঘামে উপার্জিত অর্থ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ গঠনের পথে অনেকখানি এগিয়ে নিচ্ছে। এ ব্যাপারে আতিউর রহমান বলেছেন, ‘সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আমাদের প্রবাসীরা অনেক কষ্ট করে টাকা উপার্জন করে দেশে পাঠান। সেই টাকার কিছু অংশ যদি তারা প্রতি মাসে সঞ্চয় হিসেবে পেনশন স্কিমে রাখেন তাহলে যখন তারা দেশে ফিরবেন তখন সেই টাকা তুলে নিজে চলতে পারবেন, সন্তানদেরও চালাতে পারবেন।’ শুধু এই সুবিধাই নয়, ছোটখাটো বিনিয়োগেও এই অর্থ কাজে লাগানো যাবে। যতদূর জানা যায় বিদেশে ব্যাংকে টাকা রাখলে কোন সুদ পাওয়া যায় না। সরকার তথা বাংলাদেশ ব্যাংক যদি ন্যায্য সুদ দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে তাহলে প্রবাসীরা এই স্কিমে অর্থ রাখতে উৎসাহিত হবেন।

একথা সত্য যে, আমাদের বৈদেশিক আয়ের বড় অংশই প্রবাসী শ্রমিক শ্রেণীর পাঠানো অর্থ। যারা অনেকেই কাঠখড় পুড়িয়ে অর্থ উপার্জনের জন্য দূর প্রবাসে রয়েছেন। তাদের কল্যাণে পেনশন স্কিম চালুর যে উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়েছে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীরা উপকৃত হবেন এতে সন্দেহ নেই। তবে এই উদ্যোগে প্রবাসীদের আস্থায় নিতে হবে। তাদের এই স্কিমে বিনিয়োগের নিরাপত্তা সুষ্ঠুভাবে নিশ্চিত করতে না পারলে এই প্রকল্পের ভিত্তি দুর্বল হয়ে যেতে পারে- যা কোনভাবেই কাক্সিক্ষত নয়।

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৫

২২/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: