কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দুই সিটির মেয়র প্রার্থীদের ॥ বেশিরভাগই অপরিচিত

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৫

রাজন ভট্টাচার্য ॥ ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে মেয়র প্রার্থী ৩৬ জন। তাদের বেশিরভাগই ভোটারদের কাছে অপরিচিত মুখ। প্রচারেও তাদের দেখা নেই। ভোটাররাও তাদের সম্পর্কে কিছুই জানেন না। নাম সর্বস্ব রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করছেন কেউ কেউ। তাতে কি। জয়ের ব্যাপারে যেন আশাবাদী প্রত্যেকেই। এমন অনেক প্রার্থী আছেন, তাদের নেতাকর্মী বলতে কিছু নেই। পোলিংবুথে এজেন্ট দেয়ার মতোও জনবল নেই অনেক প্রার্থীর হাতে। মাত্র তিন জন লোক নিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন একাধিক মেয়র প্রার্থী। ধার নিয়ে নির্বাচন করছেন অনেকেই। নির্বাচনী অফিস, ক্যাম্পও নেই কারও কারও। তবুও প্রার্থী তাঁরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজের পরিচিত লোকজন প্রার্থী না হলে নির্বাচন জমে না। শুধুমাত্র বড় দলের প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকে। ভোটারদেরই আগ্রহ থাকে হেভিওয়েট প্রার্থীদের দিকেই। প্রার্থিতা বাতিল ও প্রত্যাহারের পর নির্বাচন কমিশনের হিসেবে এখন ঢাকা উত্তরে মেয়র প্রার্থী ১৬ জন, ঢাকা দক্ষিণে আছেন ২০ জন। প্রত্যাহারের আগে দক্ষিণে প্রার্থী ছিল ২৪ ও উত্তরে ১৯ জন। যাঁরা প্রত্যাহার করেছেন তাঁদের বেশিরভাগই বড় দুই রাজনৈতিক দল অর্থাৎ আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ জাতীয় পার্টির। নির্বাচনী কৌশল ও দলের হাইকমান্ডের চাপের পাশাপাশি বহিষ্কারের ভয়ে এসব প্রার্থী নিজেদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে অনেকটা বাধ্যই হয়েছেন। পরিচিত মেয়র প্রার্থীদের কেউ কেউ আছেন, যারা দলীয় চাপের মুখে মনোনয়নপত্র জমাই দেননি। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং কয়েকটি বাম সংগঠন-সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের পরিচিতি আছে। বাকিদের সাধারণ ভোটাররা তো চেনেনই না, তারা নিজেরাও নির্বাচনের মাঠে নেই। তাদের প্রতীক আছে, কিন্তু পোস্টার নেই, নেই প্রচার। জনসমর্থনও নেই। তবে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে তারা হাজির থাকেন নিয়মিত। পরামর্শও দেন। জানান, ব্যক্তিগত বিভিন্ন দাবি দাওয়া।

ঢাকা দক্ষিণ ॥ ঢাকা দক্ষিণে মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন ২০ জন। সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা ৫৭টি। সাধারণ ওয়ার্ডে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৮৮৯টি। ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৫৩ জন। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট সমর্থিত ও সুন্নি নাগরিক ঐক্য পরিষদ কর্তৃক মনোনীত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে চরকা প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করছেন মাওলানা মাসুদ হোসাইন আলকাদেরী। ইতোমধ্যে নির্বাচনী ইশতেহারও ঘোষণা করেছেন তিনি। কিন্তু রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় তাঁর পক্ষে কোন প্রচার লক্ষ করা যায়নি। দক্ষিণে সম্মিলিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী হয়েছেন রেজাউল করিম চৌধুরী। তাঁর পক্ষেও প্রচার ও পোস্টার চোখে পড়েনি। ভোটাররাও তাকে চেনেন না। পীর সাহেব চরমোনাই ও সম্মিলিত নগর উন্নয়ন আন্দোলন সমর্থিত ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী আবদুর রহমানের ব্যক্তিগত পরিচয় না থাকলেও দলের পক্ষ থেকে স্বল্প পরিসরে হলেও জনসংযোগ চলছে। তবে পোস্টার, লিফলেট বা কর্মী সমর্থকদের তৎপরতা নেই। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সমর্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হয়েছেন শহীদুল ইসলাম। তিলোত্তমা নগরী গড়ে তুলতে চান ঢাকা দক্ষিণের আরেক মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান। বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহার তুলে ধরেন চিতাবাঘ প্রতীক পাওয়া এই মেয়র প্রার্থী। তবে প্রচারের দিক থেকে আলোচনায় নেই তিনি। ভোটারদের কাছেও পরিচিত কোন মুখ নন এই প্রার্থী। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সমর্থিত মেয়র প্রার্থী বজলুর রশীদ ফিরোজের পক্ষে প্রচারের দিক থেকে ব্যাপক কোন তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে না। মেয়র প্রার্থীর একজন হলেন বাংলাদেশ মেস সংঘ-সমর্থিত মো. আখতারুজ্জামান আয়াতুল্লাহ। তিনি এই মেস সংঘের সভাপতিও। এর আগে তিনি একবার ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। দক্ষিণে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সাঈদ খোকন, বিএনপির মীর্জা আব্বাস, জাতীয় পার্টির হাজি সাইফুদ্দিন মিলনের পোস্টারসহ প্রচার চলছে ব্যাপক আকারে।

ঢাকা উত্তর ॥ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে লড়ছেন ১৬ জন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হক, বিএনপির তাবিথ আউয়াল, বিকল্পধারার মাহী বি চৌধুরী, জাতীয় পার্টির বাহাউদ্দিন বাবুলের প্রচার দৃশ্যমান। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করছেন এসব প্রার্থীসহ কর্মীরা। এছাড়াও কমবেশি প্রচারে আছেন, জাসদের নাদের চৌধুরী, বাম মোর্চার জোনায়েদ সাকী, সিপিবির আবদুল্লাহ আল ক্বাফী। মেয়র প্রার্থীর একজন হলেন ২৯ দলীয় জোট বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স-সমর্থিত শেখ শহীদুজ্জামান। তিনি ন্যাশনাল কংগ্রেস নামে একটি রাজনৈতিক দলেরও প্রধান। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে সাধারণ ৩৬টি ওয়ার্ড। মোট ভোটকেন্দ্র ১ হাজার ৯৩টি। ভোট কক্ষের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৯২টি। ভোটার সংখ্যা ২৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৭৪ জন।

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৫

২০/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: