আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে তাকায়ুসি সুজুকি

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল ২০১৫

তাকায়ুসি সুজুকি জাপানের আইচি জেলার তায়োহাশি নামক শহরে ১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখতেন মানুষের জন্য কাজ করবেন। ১৯৬৮ সালে তিনি টোকিও ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স থেকে পদার্থবিজ্ঞানে সম্মান পাস করে একই বছরে অমরণ তাতেইশি ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানিতে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ২ বছর কাজ করার পর ১৯৭১ সালে ডা. নারার জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ এ্যাসোসিয়েশনে যোগদান করেন। সে সময় তিনি ভারতে রিফুজি ক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন। রিফুজিদের খাবার এবং অন্যান্য কাজের জন্য জাপানে ডা. নারাকে নিয়ে ফান্ড গঠন করেন।

সুজুকি বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সবসময় এক অন্যরকম ভালবাসা অনুভব করেন। তাই তো বারবার ছুটে আসেন এই দেশে। যেখানে বিদ্যুতের আলো পৌঁছেনি, বিশুদ্ধ খাবার পানি নেই, বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হয়, শহরের রাস্তায় ময়লা আবর্জনা আর নোংরা পরিবেশ থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের নিয়োজিত কর্মকর্তারা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তার সঙ্গে আছে গ্যাস বিড়ম্বনা, পানির স্বল্পতা, বিদ্যুতের লোডশেডিং। এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সুজুকি দীর্ঘদিন গবেষণার মাধ্যমে এক অভিনব পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। জাপানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ময়লা-আবর্জনা থেকে বায়োগ্যাস তৈরি করেন, যা দিয়ে রান্নার কাজও করা যাবে, পাশাপাশি বায়োগ্যাস ইঞ্জিন জেনারেটরের মাধ্যমে দেশে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা যাবে।

এই প্রকল্পের কাজ করার জন্য সুজুকি ২০১৩ সালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এ্যাডজাংক্ট প্রফেসর হিসেবে যোগদান করেন। বায়োগ্যাস ইঞ্জিন জেনারেটরে ব্যবহৃত সকল যন্ত্র বাংলাদেশের স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয় করা যায়। পুরাতন টয়োটা গাড়ির ইঞ্জিনের সঙ্গে ডায়নামো এবং অন্যান্য যন্ত্র যুক্ত করে অতি সহজেই তৈরি করা যায় এই জেনারেটর। অন্যান্য জেনারেটরের সঙ্গে এই জেনারেটরের প্রধান পার্থক্য হলো কম্পিউটারের মাধ্যমে সফটওয়ার দিয়ে এর নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এটি শব্দদূষণ এবং প্রাকৃতিক দূষণমুক্ত সর্বোপরি পরিবেশবান্ধব। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সুজুকি বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের জন্য সফটওয়ারের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের আগ্রহী শিক্ষার্থীদেরও প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয়া হবে। এছাড়াও তার নির্দেশনায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সফটওয়ার বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাইন ট্রেকার রোবট তৈরি করেন এবং রোবট কন্ট্রোল সফটওয়্যার তৈরির কাজে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সুজুকি একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। তিনি বাংলাদেশের জন্য ‘এনজিও তামা’ নামের একটি এনজিও স্থাপন করেন। যা এ দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে চলেছে। পথশিশুদের কিংবা অনাথ শিশুদের নিয়ে এখন তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে তার খুব ভাল লাগে। তাই বাংলাদেশে থাকার ইচ্ছা আছে কিনা জানতে চাইলে একটু হেসে তিনি বলেন, কিছু সমস্যা আছেÑ যেমন খাবার, অতিরিক্ত শব্দ, কালো ধোঁয়া। তাছাড়া ট্রাফিক জ্যাম এবং মানুষের নিয়ম না মানার প্রবণতা তাকে বেশ হতাশ করেছে। তবে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন। জ্যাম এবং নিয়ম না মানার প্রবণতা দূর করা গেলে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন সুজুকি।

য় মোঃ সাইফুল ইসলাম খান

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল ২০১৫

১৯/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: