কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ‘র‌্যাগ ডে’-তে বাঁধভাঙ্গা উল্লাস

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল ২০১৫

‘কারও হাতে রং বেরঙের ব্যানার, কারও হাতে ফেস্টুন, কেউ হাতে প্লেকার্ড, কেউবা ঢোলের তালে নৃত্য, অবার কেউবা বাঁশির সুরে তুলেছে ঝংকার’। এভাবেই কাটল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের র‌্যাগ ডের দিনটি।

নিজেদের মেধার সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটিয়ে কৃষিশিক্ষা ও গবেষণায় অবদান রাখার লক্ষ্যে চার বছর আগে ভর্তি হয়েছিলাম বাকৃবিতে। সারা দিন প্রাকটিক্যাল ও এ্যাসাইনমেন্টের ব্যস্ততার মাঝে আনন্দ করার সময়টুকু খুঁজে পাওয়া অনেকটাই কষ্টকর ছিল। ক্লাসে বসে বসে ভাবতাম কখন শেষ হবে ঘুম থেকে উঠেই ক্লাসে যাওয়ার ব্যস্ততা। অবশেষে চলে এলো সেই দিনটি। ক্লাস শেষ করলাম কিছুদিন আগেই। তাই অনার্স জীবনের শেষ দিনটিতে যাতে আনন্দের কোন কমতি না থাকে তাই অনেকদিন আগে থেকেই পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম আমরা। ২ দিনব্যাপী আমাদের র‌্যাগ ডের অনুষ্ঠানে মেয়েরা কি রঙের জামা পরবে লাল, সবুজ না কমলা আর ছেলেরা শার্ট-প্যান্ট না পাঞ্জাবি এ রকম কত কি পরিকল্পনা। আগের পরিকল্পনা মতো আমরা আলপনা, বিভিন্ন রঙের আলোকসজ্জায় বর্ণিল সাজে সাজিয়েছিলাম আমাদের পুরো অনুষদ ভবনটি। সকালে ধবধবে সাদা টি-শার্টটিতে মার্কার দিয়ে নিজেদের নাম ও স্মৃতিচিহ্নগুলো এঁকে দিয়েছিলাম। ঢোল ও বাঁশির তালে আত্মহারা হয়ে রং ছিটিয়েছি একে অন্যের ওপর। কে কত রং দিতে পারে। কিছুক্ষণ পড়েই মুখগুলো রঙিন হয়ে চেহারাই বদলে গেল সবার। সবাই বিভিন্ন প্রতীক প্রদর্শনের মাধ্যমে মধুর সেই দিনগুলোর স্মৃতি, স্মৃতিময় করে রাখার চেষ্টায় ছিলাম আমরা। নেচে গেয়ে মুখরিত করেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ’৭১, টিএসসি, বোটানিক্যাল গার্ডেন, সেন্ট্রাল লাইব্রেরি, হতাশার মোড় জায়গাগুলো। ট্রাকে করে চড়ে বেরিয়েছি সম্পূর্ণ ক্যাম্পাস । দর্শনার্থীরা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখেছেন মনোরম এ দৃশ্য। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যস্ত ছিলেন মুঠোফোন ক্যামেরায় রঙিন দৃশ্যগুলো ধারণ করতে। র্যাগ ডে-তে সব আয়োজন আর আনন্দের মাঝে নিজেদের মধ্যে কেমন জানি শূন্যতা টের পাচ্ছিলাম। বোধহয় বন্ধুদের আড্ডা মিস করার শূন্যতা, প্রিয় মুখগুলো চলে যাওয়ার শূন্যতা, ভালবাসার এ চিরচেনা ক্যাম্পাসকে রেখে চলে যাওয়ার শূন্যতা। ওদের সবাইকে সত্যি খুব মিস করব। অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে পবিত্র বলেন, ‘প্রাণের ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করে না, তবু নতুনদের জায়গা করে দিতে হয়। তাই বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে আমাদেরও আজ চলে যেতে হচ্ছে।’

য় মোঃ মুসফিকুর রহমান সিফাত

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল ২০১৫

১৯/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: