কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

যুদ্ধাপরাধী বিচার ॥ ননি-তাহেরের নেতৃত্বে পাকিরা ২৬ জনকে গুলিতে হত্যা করে

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল ২০১৫
  • প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের দুই রাজাকার মাহিদুর রহমান, আফসার হোসেন চুটুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। ১৫ এপ্রিল থেকে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হবে। অন্যদিকে নেত্রকোনার মুসলিমলীগ নেতা আতাউর রহমান ননি ও নেজামে ইসলামের ওবায়দুল হক তাহেরের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী নুরুল আমিন জবানবন্দী প্রদান করেছেন। জবানবন্দীতে নুরুল আমিন বলেন, ননি-তাহেরের নেতৃত্বে রাজাকার ও পাকিস্তানী সেনারা নেত্রকোনা জেলগেট থেকে ২৭ হিন্দুকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর গুলি করে ২৬ জনকে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে একজন প্রাণে বেঁচে যান। জবানবন্দী শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করেন। পরবর্তী সাক্ষীর জন্য ১৯ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এ আদেশগুলো প্রদান করেছেন।

ননি ও তাহেরের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম নুরুল আমিন। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৬৭-৬৮ বছর। আমার ঠিকানা গ্রাম-নন্দিপুর, বর্তমানে মোক্তারপাড়া নেত্রকোনা শহর, থানা নেত্রকোনা, জেলা নেত্রকোনা। আসামি ওবায়দুল হক তাহের নেত্রকোনার রাজাকার কমান্ডার হন। আর আতাউর রহমান ননীসহ অনেকেই রাজাকার বাহিনীতে যোগদান করেন। জবানবন্দী শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সুবহান তরফদার সাক্ষীকে জেরা করেন। পরবর্তী সাক্ষীর জন্য ১৯ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। সাক্ষীকে জবানবন্দীতে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল ও সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি।

সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, ১৯৭১ সালের ৪ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক বারোটা সাড়ে বারোটার দিকে দবির হোসেন নামে এক ছাত্রলীগ নেতা মোহনগঞ্জ হতে নেত্রকোনায় আসছিলেন। দবির হোসেন বারহাট্টা রোডে আখড়ার মোড়ে পৌঁছালে আসামি ওবায়দুল হক, তাহের ও আতাউর রহমান ননির নেতৃত্বে একদল রাজাকার তাকে আটক করে। আটকের পর তাকে মোক্তারপাড় জেলা পরিষদ ডাকবাংলো ক্যাম্পে নিয়ে আসে। ওই ক্যাম্পে দবিরকে নির্যাতন করে রাতেই গুলি করে হত্যা করে।

সাক্ষী আরও বলেন, একাত্তরের ১৫ নবেম্বর সকাল দশটা সাড়ে দশটার দিকে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো ক্যাম্প থেকে রাজাকার কমান্ডার তাহের ও ননিসহ রাজাকার ও পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সদস্যের একটি দল লক্ষীগঞ্জ খেয়াঘাটে যায়। বাজারে গিয়ে তারা সিদ্দিকুর রহমানের দোকান হতে বদিউজ্জামান মুক্তা, আব্দুল মালেক শান্ত, লেবু, সিদ্দিকুর রহমান, ইসমাইল, ইসমাইল হোসেন, ব্যাংক কর্মচারী মিজানুর রহমানকে ধরে নিয়ে আসে। লেবুকে হিন্দু জেনে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর মিজানুর রহমানকে ছেড়ে বদিউজ্জামানসহ অন্যদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ননি-তাহেরের নেতৃত্বে রাজাকার ও পাকিস্তানী সেনারা নেত্রকোনা জেলগেট থেকে ২৭ হিন্দুকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর গুলি করে ২৬ জনকে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে একজন প্রাণে বেঁচে যান।

মাহিদুর-টুটু ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের দুই রাজাকার মাহিদুর রহমান, আফসার হোসেন চুটুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে ১৫ এপ্রিল থেকে প্রসিকিউশন পক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হবে। রবিবার আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের দিন থাকলেও কোন সাফাই সাক্ষী তারা দিবে জানালে, ট্রাইব্যুনাল যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণ করেন। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ প্রদান করেছেন।

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল ২০১৫

১৩/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: