কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

৪৫ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল

প্রকাশিত : ৫ এপ্রিল ২০১৫
  • ঢাকা উত্তরের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ড

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঘরবসতিপূর্ণ, ছোট রাস্তা, বর্ষাকালে বৃষ্টিতে ড্রেন উপচেপড়া পানিতে রাস্তা ডুবে যাওয়া, ফুটপাথ, জলাধার অবৈধ দখল, খেলার পর্যাপ্ত মাঠ না থাকা, কবরস্থান না থাকা, সৃষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকা, গরমে খাবার পানির সমস্যা, কমিউনিটি সেন্টারের স্বল্পতা, অপর্যাপ্ত স্যুয়ারেজ লাইনসহ নানা সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে চলছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।

এলাকা পরিচিতি : উত্তরা মডেল টাউনের ১ থেকে ১৭ নং সেক্টর নিয়ে ১ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। ২ নং ওয়ার্ডে মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের বি ব্লক, ই ব্লক, সি ব্লক, ডি ব্লক, ধ ব্লক, ত ব্লক, কালাপানি, বেগুনটিলা, উত্তর কালসী, ক্যান্টনমেন্টর একাংশ, ১২ নম্বর সিরামিকস, কুর্মিটোলা ক্যাম্প, বর্ধিত রুপনগর আবাসিক এলাকা, মিরপুর বিহারী ক্যাম্পসহ ছোট ছোট আরও কয়েকটি এলাকা নিয়ে গঠিত ২ নং ওয়ার্ড।

৩ নং ওয়ার্ড : মিরপুর ১১ নং সেকশনের সি, এ্যাভিনিউ ৫ সবুজ বাংলা, মাদানীনগর, মেহেদিবাগ টেক, সেকশান ১০-এর, এ, সি, ডি ব্লক, প্যারিস রোড, মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুল এলাকা অর্থাৎ মিরপুর ১১-এর কিছু অংশ ও ১০ নম্বর সেকশনের সম্পূর্ণ অংশ নিয়ে ৩ নং ওয়ার্ড গঠিত।

প্রার্থী পরিচিতি : রাজধানীর উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার তিনটি ওয়ার্ডে এবারের নির্বাচনে মোট ৪৫ প্রার্থী কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাকের পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। তবে সরকারদলীয় প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশী। এছাড়া বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী থাকলেও তারা সমঝোতায় একক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু প্রার্থী নিয়ে বেশ জটিলতায় রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এ হিসেবে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়পত্র দাখিলকারী মোট ৪৫ জন প্রার্থীর মধ্যে অর্ধেকের বেশি আওয়ামী লীগের।

ডিএনসিসির ১ নং ওয়ার্ডে মোট ১৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ৩ জন বিএনপির ও একজন জাতীয় পার্টির প্রার্থী রয়েছেন। বাকি সবাই আওয়ামী লীগের। আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এ এলাকায় একক প্রার্থী দিতে পারলে জয় নিশ্চিত করা সম্ভব বলে এলাকাবাসীর ধারণা। প্রার্থীরা হচ্ছেন আফছার উদ্দীন খান, এ্যাডভোকেট এ কে আজাদ, ফয়সাল আমীন মিলন, এসএম মাহবুবুল আলম, মামুন সিরাজুর রহমান, আনোয়ারুল ইসলাম, কফিল উদ্দীন, জালাল উদ্দীন, মামুন সরকার, মোস্তাফিজুর রহমান, শরীফুল আলম সোহেল, হারুনুর রশিদ, হেলাল তালুকদার, মোস্তাফিজুর রহমান, মোঃ আবু হানিফ, মোঃ হাবিব হাসান।

২ নং ওয়ার্ডে মোট ১১ জন প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ৭ জনই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী। এছাড়া সাবেক কমিশনারসহ মোট ২ জন বিএনপির প্রার্থী, একজন জাতীয় পার্টি ও বাকি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বলে জানা গেছে। ভোটার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার। আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা হচ্ছেন কদম আলী মাতাব্বর, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন মোল্লা, মহানগর উত্তর যুবলীগ নেতা আশিকুল ইসলাম, তমিজ উদ্দীন চৌধুরী মন্টু, মনির হোসেন, সাজ্জাদ হোসেন, মোঃ মমিন। এছাড়া সাবেক কমিশনার ইসমাঈল হোসেন বেনু। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি এস এম গোলাম মোস্তফা মাস্টার। স্বতন্ত্র ১ জন আব্দুস সালাম।

সরেজমিনে জানা গেছে, ২ নং ওয়ার্ডের হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে সৎ দলীয় নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি হিসেবে ২০ বছরের অধিক সময় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন মোল্লার সামাজিক ভাল অবস্থান রয়েছে। তিনি যে কোন ব্যক্তির সহযোগিতায় এগিয়ে যান বলে জানা গেছে। অপরদিকে গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থনে কমিশনার নির্বাচিত হন ইসমাঈল হোসেন বেনু। সম্পদশালী ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিত। তবে গত নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের দলীয় কোন কর্মকা-ে তার উপস্থিতি তেমন পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী জানান, তার অর্থের কাছে অন্যান্য প্রার্থীর পেরে ওঠা কঠিন হয়ে পড়বে বিধায় অনেক সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। আওয়ামী লীগার হয়েও বিএনপির চলমান আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মকা-ে তার সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। ফলে বিএনপি দলীয় অনেক ভোটারের সমর্থন থাকবে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে দলের পল্লবী থানার সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদ সেলিমের যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এই ৩ জনের মধ্যেই মূল প্রতিদ¦ন্দ্বিতা হবে বলে নাগরিকদের ধারণা। এর বাইরে সৎ লোক হিসেবে জনপ্রিয়তা রয়েছে ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা মাস্টার। যিনি একটি বেসরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছেন।

২ নং ওয়ার্ডের নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশাল জনসংখ্যার এ ওয়ার্ডে একটি মাত্র কমিউনিটি সেন্টার। এছাড়া নতুন আরও দু’টি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা প্রয়োজন। অভিযোগ স্থানীয় বিহারীরা মুখোশ পরে দলবেঁধে ডাকাতি ও ছিনতাই করে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ পরে থাকলেও পরিষ্কার করা হয় না দিনের পর দিন। কোন কবরস্থান নেই, ফুটপাথ দখল রাখে, বৃষ্টির পানিতে এলাকার রাস্তাঘাট ডুবে যায়। তাই এবারের নির্বাচনে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন তথা আইন শৃঙ্খলার সার্বিক উন্নয়ন করা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকারীকেই তারা ভোট দেবেন। কোন সন্ত্রাসীকে তারা ভোট দেবেন না।

৩ নং ওয়ার্ডে মোট ১৮ জন প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ১০ জন। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ৩ জন। আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা হচ্ছেন-মহানগর যুবলীগ উত্তরের সহসভাপতি কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক, আওয়ামী লীগ নেতা ফকির মহিউদ্দীন আহমেদ, যুবলীগ নেতা মামুন মজুমদার, ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আয়নাল হক, জিনাত আলী মাতবর, বাহাউদ্দীন বাহার, ইউনিট নেতা রমজান আলী বেপারী, মহানগর উত্তর যুবলীগের সহসম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন খান স্বপন, পল্লবী থানা তাঁতী লীগ সভাপতি রফিকুল হাসান জামীম। বিএনপির প্রার্থীরা হচ্ছেন মহানগর বিএনপি নেতা সাবেক কমিশনার কাজী আলী ইমাম আসাদ, ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ ইব্রাহীম, বিহারী নেতা সাদাকাত খান ফাক্কু। এছাড়া জাকের পার্টির মুজিবুর রহমান, ও স্বতন্ত্র হিসেবে আশরাফুল ইসলাম, মোঃ জাকির হোসেন, মোঃ নজরুল ইসলাম রয়েছেন।

৩ নং ওয়ার্ডের হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে নাগরিকদের অতি পরিচিত মুখ ও মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সৎ লোক হিসেবে ফকির মহিউদ্দীনের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। এছাড়া যুবকদের ক্রেজ ও আধুনিক শিক্ষিত স্বজ্জন হিসেবে মহানগর যুবলীগ (উত্তর)সহ সভাপতি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম মানিকের খ্যাতি রয়েছে। এছাড়া রয়েছেন মহানগর যুবলীগ নেতা আয়নাল হক। এছাড়া বিএনপির প্রভাবশালী ও ক্লিন ইমেজের নেতা সাবেক কমিশনার আলী ইমাম আসাদের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। নির্বাচনে এ ওয়ার্ডে তার সঙ্গেই মূল প্রতিদ্বন্দি¦তা হবে বলে এলাকাবাসী জানান।

১ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী হিসেবে বৃহত্তম উত্তরা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফসার উদ্দীন খান বলেন, জনগণ আমাকে ভোটে নির্বাচিত করলে উত্তরাকে বিশ্বের অন্যতম মডেল টাউন হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলব। এছাড়া স্যুয়ারেজ লাইন উন্নতকরণ, উত্তরা লেক আধুনিকীকরণ, যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখা, যে কোন প্রকার চাঁদাবাজি বন্ধ ও সিটি কর্পোরেশনের ঘোষিত সকল সুবিধা নাগরিকদের প্রদানের ব্যবস্থা করব।

২ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী জাতীয় পার্টির ওয়ার্ড সভাপতি সুলতান আহমেদ সেলিম বলেন, বর্তমানে এ ওয়ার্ডটিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্যুয়ারেজ লাইন, মাদক, ছিনতাই, লাইটিং ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ফলে যুব সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তাঘাটের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ অবস্থা বিরাজ করছে। আমি নির্বাচিত হলে নাগরিকদের উন্নত বিশ্বের ন্যায় সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধা প্রদানের চেষ্টা করব।

৩ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী হিসেবে মহানগর যুবলীগ নেতা ও বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ জহিরুল ইসলাম মানিক বলেন, আমি ভোটে নির্বাচিত হলে এ ওয়ার্ডকে আধুনিক নিরাপত্তাবলয়ের আওতায় আনব। এর বাইরে স্যুয়ারেজ লাইনের উন্নয়ন, লাইটিং ব্যবস্থার উন্নয়ন ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করব। মডেল ওয়ার্ডে রূপান্তর করব।

একই ওয়ার্ডের ফকির মহিউদ্দীন বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে সিটির নাগরিকদের সরকার ঘোষিত সকল সুবিধা প্রদান করতে চেষ্টা করব।

একই ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমিশনার প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, দীর্ঘদিন এ এলাকার কোন জনপ্রতিনিধি না থাকায় রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নষ্ট, মশার উৎপাত বৃদ্ধি, রাস্তার বাতি জ্বলে না। ফলে মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীরা অনেকটা বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। এছাড়া এ ওয়ার্ডে খেলার মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার নেই। জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে এসব সমস্যা সমাধানের পাশপাশি পরিপূর্ণ আধুনিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করব।

প্রকাশিত : ৫ এপ্রিল ২০১৫

০৫/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: