মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

নারকীয় নৃশংসতা

প্রকাশিত : ৫ এপ্রিল ২০১৫

জঙ্গীবাদের পথে প্রধান বাধা শুধু আধুনিক শিক্ষাই নয়, শিক্ষার্থীরাও। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো, অগ্নিসংযোগে তাদের তৎপরতা সীমাবদ্ধ নয়, শিক্ষার্থী নিধনও তাদের লক্ষ্যবস্তু। শিক্ষা মানেই অগ্রগতি, শিক্ষা মানেই মুক্তচিন্তার প্রসার। যা জঙ্গীবাদের বিরোধী শুধু নয়, জঙ্গীদের চেতনারও বিরোধী। জঙ্গীবাদীদের ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা, হানাহানি, সহিংসতা, নৃশংসভাবে মানুষ হত্যার বিপরীতে অবস্থান করে আধুনিক শিক্ষা। তাই এরা এই শিক্ষার ঘোর বিরোধী। এদের উদ্দেশ্য অশিক্ষার আবরণে জগত, সমাজকে ঢেকে দিয়ে মানুষকে অবদমিত করে রাখা। নারীর প্রতি রোষ জঙ্গীদের তীব্র। তাদের অবরোধবাসিনী রাখা ও ভোগের পণ্য হিসেবে ব্যবহারে আগ্রহী জঙ্গীরা। মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে উপড়ে ফেলে জঙ্গীদের সৃষ্ট পন্থা পালনে বাধ্য করাই তাদের লক্ষ্য। নতুবা ‘কতল’। এই জঙ্গীবাদীরা পবিত্র ইসলাম ধর্মের নামে অনৈসলামিক কার্যকলাপ অব্যাহত রেখেছে। জঙ্গীরা ধর্মের দোহাই দিয়ে শিক্ষা-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বিশ্বজুড়ে। তালেবান ও আল কায়দার হাত ধরে গড়ে ওঠা দেশে দেশে জঙ্গী সংগঠনগুলো এখন আইএসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। নিরীহ মানুষকে জিম্মি বা অপহরণ করে পণ দাবি করার কাজটিও তারা করে আসছে। সাধারণ মানুষকে গুলি করে বা আগুনে পুড়িয়ে মারার মতো হিংস্র কাজও জঙ্গীরা করে আসছে নানা দেশে। আল কায়দা ও আইএস সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীর প্রসার ঘটাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এরা মূলত নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থ উদ্ধারের জন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক ধরনের যুদ্ধ ঘোষণা করে সশস্ত্র পন্থা অবলম্বন করে আসছে। যারা দেশের মানুষকে জিম্মি করে, শিক্ষা বিস্তারকে রুদ্ধ করে তারা মূলত দেশ জাতি ও বিশ্ববাসীর শত্রু। এদের একমাত্র পরিচয় এরা জঙ্গী। যাদের মধ্যে মায়া দয়া মমতাবোধ নেই।

কেনিয়াতে ১৪৭ শিক্ষার্থীকে হত্যা করেছে জঙ্গীরা। সোমালিয়াকেন্দ্রিক জঙ্গী সংগঠন হরকাত আল শাবাব আল মুজাহিদিন তথা যুব আন্দোলন নামক সংগঠনটি বৃহস্পতিবার পার্শ¦বর্তী দেশ কেনিয়ার সীমান্তবর্তী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আকস্মিক হামলা চালিয়ে ১৪৭ শিক্ষার্থীকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। চার আত্মঘাতী জঙ্গী হামলা চালায়। হত্যার পর নিজেরা বোমা ফাটিয়ে আত্মহত্যা করে। হত্যার পর শাবাব বলছে তারা আরও হামলা চালাবে। নারকীয় এই হত্যাকা-ের ঘটনা বিশ্ববাসীকে শিহরিত করে। উল্লেখ্য, বিশ্বখ্যাত নেতা জোমো কেনিয়াত্তার দেশ কেনিয়ায় ১৯৯৮ সালে মার্কিন দূতাবাসে আল কায়েদার চালানো হামলায় ২১৩ জন নিহত হয়। জঙ্গীবাদ দমনে বিশ্বের এখন এগিয়ে আসা জরুরী হয়ে পড়েছে। এদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে শান্তিপ্রিয় বিশ্ববাসীকে।

প্রকাশিত : ৫ এপ্রিল ২০১৫

০৫/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: