আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

একক কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্তে আওয়ামী লীগে হিমশিম

প্রকাশিত : ৪ এপ্রিল ২০১৫
  • ভোটের আগে মাঠের হাওয়া

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা সিটি করর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় কোন্দলের মুখে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে বিবাদ যেন মিটছেই না। মূলত এ কারণেই একক কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নগর আওয়ামী লীগ নেতাদের। প্রতি ওয়ার্ডে অন্তত ৬/৮জন কাউন্সিলর প্রার্থী ক্ষমতাসীন দলের। মনমতো মেয়র প্রার্থী না হওয়ায় তাদের পক্ষে মাঠে নামছেন না বেশিরভাগ নেতাকর্মী। এছাড়া মেয়র পদেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে।

বাস্তবতা হলো, বিবাদের কারণে আওয়ামী লীগ ছাড়া ১৪ দলের অন্য শরিক দলগুলোও নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করেনি। এই অবস্থা চলতে থাকলে গাজীপুরের মতো ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ভরাডুবি হতে পারে আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দলের। এদিকে নিজেদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখা ও একক মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করাসহ প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপকভাবে প্রচার চালাতে পারলে এই নির্বাচনেও বিজয়ী হতে পারে বিএনপি। এজন্য ওয়ার্ডগুলোতে জামায়াতের প্রার্থী প্রত্যাহারের বিকল্প নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, ১৪ দলের পক্ষ থেকে একক প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা হলেও এর বাস্তবায়ন নেই। পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে নগর নেতাদের। প্রার্থীরা বড় বড় নেতার তদ্বির নিয়ে হাজির হওয়ায় জনসমর্থনের বিষয়টি বিবেচনায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে কাউন্সিলর প্রার্থীদের জনসর্থন না থাকলেও দলের পক্ষ থেকে সমর্থন দেয়া হচ্ছে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে নগর আওয়ামী লীগ নেতা থেকে শুরু করে অনেকেই প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। দাখিল করেছিলেন মনোনয়নপত্র। তাদের কেউ জমা দিয়েছেন, কেউ দেননি। অনেকেই প্রার্থী নিয়ে সন্তুষ্ট নন। তাই দলের মেয়র প্রার্থীদের পক্ষে তেমন কোন তৎপরতা দেখা যায়নি মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের।

দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের ওপর মহানগরের নেতাকর্মীদের একটি অংশ নাখোশ। ফলে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সর্বস্তরের নেতাকর্মীর সরব তৎপরতা নেই বলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন। তবে এই মুহূর্তে মেয়র প্রার্থীর চেয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়েই বেশি ব্যস্ত মহানগরের নেতাকর্মীরা। আগামী ২৮ এপ্রিল তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত রবিবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। আগামী ৯ এপ্রিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এই সময়ের মধ্যে দল সমর্থিত একজনকে রেখে বাকিদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করানোর চেষ্টা চলছে। এই চেষ্টা কতটুকু সফল হবে তাই এখন দেখার বিষয়।

একক প্রার্থী নির্ধারণের জন্য ঢাকা সিটির দুই অংশে ১৫টি কমিটি (সংসদীয় এলাকা ধরে) গঠন করা হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতা, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরের নেতারা এ কমিটিতে রয়েছেন। মহানগরের অধিকাংশ নেতা ও স্থানীয় এমপিরা কাউন্সিলর প্রার্থী ঠিক করার কাজে। ফলে মেয়র প্রার্থীর পক্ষে তৎপরতা কম। আবার অনেকেই কৌশলে দূরত্ব বজায় রেখে চলেছেন বলেও জানা যায়।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হক। সরাসরি দলের রাজনীতির সঙ্গে তিনি যুক্ত নন। দলের বাইরে থেকে তাকে প্রার্থী করায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কিছুটা গাছাড়া ভাব রয়েছে। উত্তর সিটি করপোরেশনে মহানগর আওয়ামী লীগের যারা প্রভাবশালী নেতা তাদের কেউ কেউ এখনও দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে সরব হয়ে মাঠে নামেননি। দলের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকায় আনিসুল হকের নিজস্ব কর্মীও নেই। তাঁকে পুরোপুরি আওয়ামী লীগের উপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দ্বিধা বা গাছাড়া ভাব থাকলেও দ্রুতই তা কেটে যাবে বলে জানান ওই নেতারা। উত্তরে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী আব্দুল আওয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় আনিসুল হকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আর কেউ রইল না। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মিন্টু তাঁর প্রার্থিতা বৈধ করতে ইতোমধ্যে আপীল করেছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি প্রার্থী হতে না পারলে ছেলেকে সমর্থন দিতে পারে বিএনপি। তবে তাঁর জনসমর্থন ও পরিচিতি কোনটিই নেই। বিকল্প হিসেবে বিকল্পধারা বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহি বি চৌধুরীকে শেষ পর্যন্ত সমর্থন দিতে পারে বিএনপি। যদিও বিকল্পধারা ২০ দলে নেই, তবে বিএনপির অন্যতম মিত্র এই দলটি।

এদিকে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ছেলে ঢাকা মহানগরের নেতা সাঈদ খোকন। এখানে ঢাকা মহানগরের আরেক নেতা স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। দলের সমর্থন না পাওয়ায় তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন। মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি প্রভাবশালী অংশ হাজী সেলিমের পক্ষে ছিলেন। তাঁরা এখন এক ধরনের দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন বলে ওই নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময়ও দলীয় কোন্দল মেটাতে পারেনি আওয়ামী লীগ। ১৪ দল ও মহাজোট ঐক্যবদ্ধ হয়ে পথ চলতে পারেনি। তাই ফলাফল যায় বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে। আওয়ামী লীগের এ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খানের সামনে অনেক ইস্যু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল তখন। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে আচরণ, মহাজোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় পার্টির কৌশল, সমন্বয়হীন প্রচার, স্থানীয় সংসদ সদস্যদের জনবিচ্ছিন্নতা, এলাকার উন্নয়ন কর্মকা-ে জনপ্রতিনিধিদের নজর না দেয়ায় ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ ছিল। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, পুরনো স্থানীয় কোন্দল, জনপ্রতিনিধিদের জনবিচ্ছিন্নতা বিরূপ প্রভাব ফেলেছিল। জাহাঙ্গীর ইস্যুটি এ নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর ছিল।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও উপজেলা পরিষদের পদত্যাগী ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম মেয়র পদে প্রার্থী হলেও পরে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার চাপে সরে যাওয়ার বিষয়টি এলাকার ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল। সর্বশেষ আজমতের পক্ষে জাহাঙ্গীর মাঠে নামলেও তাঁর বিশাল কর্মী-সমর্থক অনেকটা নিষ্ক্রিয় ছিলেন।

অন্যদিকে নির্বাচনের মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে আজমতের পক্ষে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের সমর্থন হিতে বিপরীত হয়েছে। তাঁর সমর্থন ব্যক্ত করার আগেই স্থানীয় জাপার বড় অংশ মান্নানকে সমর্থন দেয়। শেষবেলায় এরশাদের সমর্থন কৌশল হিসেবেই ফুটে উঠেছিল। পাশাপাশি গাজীপুর আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের কোন্দলও ফল বিপর্যয়ের পেছনে অনেকাংশে দায়ী।

প্রকাশিত : ৪ এপ্রিল ২০১৫

০৪/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: