কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আজব হলেও গুজব নয়

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫
  • চুইংগাম নিষিদ্ধ সিঙ্গাপুরে

প্রাচ্যের ডান্ডি হিসেবে সিঙ্গাপুরের নাম বেশ পরিচিত। তবে ছোট্ট একটি নৌ-বন্দর থেকে বিশাল বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে সিঙ্গাপুরকে উঠে আসতে পারি দিতে হয়েছে অনেকটা পথ। আর বর্তমান সিঙ্গাপুর হয়ে ওঠার পেছনের কারিগর লী কুয়ান ইউ নামের এক সিঙ্গাপুরবাসী। দেশের উন্নতির প্রশ্নে অনেক পরিকল্পনা কিংবা সিদ্ধান্ত এই মানুষটির মাথা থেকেই এসেছে। এমনকি সিঙ্গাপুর থেকে চুইংগাম নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও তার মাথা থেকেই এসেছে। কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত লী কুয়ানের।

১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সিঙ্গাপুরে চুইংগাম নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। সে সময় বিদেশি সাংবাদিকরা এই বিষয়টি নিয়ে লী কুয়ানের সঙ্গে আলোচনার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কুয়ানের পক্ষ থেকে তেমন কোন সদুত্তর দেয়া না হলেও, পরবর্তী সময়ে মার্কিন লেখক টম প্লেটের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন।

অবশ্য সিঙ্গাপুরে চুইংগাম নিষিদ্ধ করার বিষয়টি নিয়ে কোন প্রতিবাদ বা সমাবেশ হয়নি। কারণ কুয়ান গোটা সিঙ্গাপুরকে এমন একটি উন্নত মডেল হিসেবে তৈরি করেছেন যে, কোন অনৈতিক সিদ্ধান্ত বা নৈতিক সিদ্ধান্ত দেশটির তৃণমূল পর্যায়ে আলোচিত হওয়ার পরেই তা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে। তাই চুইংগামের বিষয়টি নিয়ে কোন তর্ক-বিতর্ক হয়নি। দেশটিতে গ্রাফিটি, রাস্তায় থুথু-সর্দি ফেলা, প্রস্রাব করা, যত্রতত্র গাড়ি পার্কির করা ইত্যাদি বেশ কঠোরভাবেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

১৯৬৫ সালে যখন সিঙ্গাপুর স্বাধীনতা লাভ করেন তখন হাতে গোটা কিছু সম্পদ ছিল দেশটির হাতে। তৎকালীন সময়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন লী কুয়ান। ক্ষমতায় বসার পরপরই তিনি টিকে থাকার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেন। এই পরিকল্পনার ফলেই খুব অল্প সময়ের মধ্যে সিঙ্গাপুর কথিত তৃতীয় বিশ্বের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তবে বাণিজ্যিক উন্নয়নের আগে সিঙ্গাপুর নজর দেয় তার দেশের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে।

টম প্লেটের বই থেকে জানা যায়, ‘এটা সত্যিকার অর্থেই এ্যান্টি ইউটোপিয়ান। লী কুয়ান ও তার দল অগের সকল ধ্যান ধারণাকে শত্রু হিসেবে গণ্য করে প্রগতির দিকে এগিয়ে যান। তার এই উন্নয়ন পরিকল্পনা এতটাই শক্তিশালী যে, ইউটোপিয়াও বেশ সাধারণ একটা ব্যাপার হয়ে যায়। আর এই সাধারণ হিসেব অনুযায়ীই দেশ থেকে চুইংগাম নিষিদ্ধ করা হয়।’

এরকম অনেক আইনের ফলে এবং জনপ্রিয়তার কারণে পরবর্তী ৩১ বছর পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ছিলেন লী কুয়ান। প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে অবসরে চলে যাওয়ার পরেও ‘সিনিয়র মিনিস্টার’ হিসেবে দেশের ক্ষমতার ভরকেন্দ্র ধরে রেখেছেন। চুইংগাম নিষিদ্ধের ব্যাপারে একবার বেশ যুক্তিযুক্তভাবেই বক্তব্য তুলে ধরেন লী কুয়ান, ‘আমাদের সাবওয়ের ট্রেনের দরজায় চুইংগাম লাগার কারণে অনেক সময় দরজা খুলতে সমস্যা হয়। আমি এটাকে কোনভাবেই ভাল বলব না। এটাকে আমি খারাপ কাজ হিসেবেই চিহ্নিত করব। আপনি চুইংগাম খাওয়ার বদলে একটা কলা খেতে পারেন।’

বালি দ্বীপের চুমু উৎসব

বালি দ্বীপের দেনপাসার গ্রামের বাসিন্দারা ওমেড ওমেডান নামে একটি অদ্ভুত উৎসব পালন করেন। প্রায় গত একশ’ বছর ধরে ওই গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায় এ ধর্মীয় উৎসবের আয়োজন করে আসছে। নববর্ষের প্রথম দিনে দেনপাসার গ্রামের অবিবাহিত তরুণ-তরুণীরা একটি নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হয়ে নানা রকম আনন্দফূর্তির মধ্য দিয়ে উৎসব পালন করে। আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়েই শুরু হয় উৎসবের আসল আয়োজন। একটা সময় যুবক যুবতীরা পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে শুরু করেন। তাদের বিশ্বাস, এই উৎসব পালনের মাধ্যমে গোটা বছর ধরে সুখ সমৃদ্ধিতে থাকে গ্রামবাসীরা।

অবশ্য চুমু উৎসবে বেতাল হওয়ার কোনই সুযোগ নেই। উৎসব চলাকালে পানি ভর্তি বালতি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন পুরোহিতরা। কোন যুগলের মধ্যে বাড়াবাড়ি আচরণ দেখলেই তাদের ওপর পানি ঢেলে দেন তাঁরা। ফলে কোনরকম অঘটন ঘটার কোনই সুযোগ নেই। তবে ঠোঁটে ঠোঁট মেলানোর পর অনেক নারী-পুরুষ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে থাকেন বলে জানা গেছে। এ উৎসবের আর এক নাম ‘নিয়েপি ডে’, যার অর্থ নীরবতা দিবস। শত বছর আগে একটি মর্দা শূকর এবং মাদি শূকরের মধ্যে লড়াইকে কেন্দ্র করে এই ওমেড ওমেডান উৎসবের সূচনা। গত একশ বছর ধরে বিচিত্র এই ঐতিহ্যটি পালন করা হলেও ঠিক কবে নাগাদ এই গণচুমু ধর্মীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে, তার কোন সুনির্দিষ্ট তারিখ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সাধারণত ১৭ থেকে ৩০ বছরের অবিবাহিত নারী-পুরুষই এ উৎসবে অংশ নিয়ে থাকেন। রীতিমতো মন্ত্র পড়ে প্রার্থনা করে তবেই চুমু খেতে হামলে পড়েন যুবক-যুবতীরা।

সাত-সতেরো প্রতিবেদক

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫

০৩/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: