মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রজাপতির রং কেন এত উজ্জ্বল

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫
  • এনামুল হক

প্রজাপতির রং উজ্জ্বল কেন? ওদের পাখার নকশাও কেন এত চিত্রবিচিত্র? এর সহজ জবাব হলো, রং ও চিত্রবিচিত্র নকশা প্রজাপতিকে ছদ্মবেশ যোগায়। ক্ষুধার্ত শিকারির হাত থেকে তাদের রক্ষা করে। যেমন, সোনালি শুঁয়াপোকার গা থেকে যে দীপ্তি বেরোয়, সেটা সেই শুঁয়াপোকার থলের ভেতরে বেড়ে ওঠা পেপারকাইট প্রজাপতির আত্মরক্ষার বর্ম হিসেবে কাজ করে। এখানে আরেকটা কথাও জেনে রাখা ভাল। তা হলো, প্রজাপতিরা বিস্ময়কর দ্রুত গতিতে নতুন নতুন রং ধারণ করতে পারে।

এশিয়ার একটা প্রচলিত প্রজাপতি হলো পেপারকাইট বাটারফ্লাই। হাল্কা হলদেটে অথবা অফ-হোয়াইট রঙের। কালো রেখার সঙ্গে ফোটাফোটা যুক্ত প্রসারিত চিত্রবিচিত্র নকশা। তবে শুঁয়াপোকা থাকা অবস্থায় এর খোলসটা থাকে উজ্জ্বল সোনালি রঙের। এই উজ্জ্বল রঙের খোলসটাই প্রজাপতিতে রূপান্তরের চূড়ান্ত পর্বে শুঁয়াপোকাকে রক্ষা করে। শুঁয়াপোকার গাটা কেন সোনালি রঙের, তা আজ পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে এই উজ্জ্বলতাই একটা বিকাশমান প্রজাপতিকে ছদ্মবেশ ধারণ করতে সাহায্য করে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন জীববিজ্ঞানী ক্যাটি প্রডিক। তিনি বলেন, এই উজ্জ্বলতা সম্ভাব্য শিকারির চোখকে ধোঁকা দেয়। তাকে বোকা বানায়। উজ্জ্বলতার কারণে পরিবেশটা এমন জটিল হয়ে ওঠে যে, এতে শুঁয়াপোকার হদিস পাওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। ওই উজ্জ্বলতা বা দীপ্তি দেখে ক্ষুধার্ত পাখি ভাবতে পারে, ওটা এক ফোঁটা পানি মাত্র।

ছদ্মবেশ শুঁয়াপোকাদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মধ্যে যে প্রজাপতি বিকশিত হতে থাকে, সেটা নড়াচড়া করতে পারে না এবং শিকারির পেটে যাওয়ার কিংবা পরজীবীর দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। কাজেই প্রডিকের ভাষায়, এগুলো অত্যন্ত সহজ শিকার। শুঁয়াপোকার ছদ্মবেশ ধারণের আরেক দৃষ্টান্ত হলো জায়েন্ট সোয়ালোটেইল। এই প্রজাতির প্রজাপতির শুঁয়াপোকাকে যে গাছে ঝুলে থাকে, তারই অংশ বলে মনে হয়। আবার অনেক সময় সাপের মতোও মনে হতে পারে। সেটা নির্ভর করছে কোন অবস্থান থেকে দেখা হচ্ছে, তার ওপর। এই প্রজাতির শুঁয়াপোকাগুলো কিছু চাতুর্যের আশ্রয় নেয়। এগুলো অনেক সময় পাখির বিষ্ঠার রূপ ধারণ করতে পারে। আবার বিকাশের পরবর্তী পর্যায়ে ক্ষুদে সাপের চেহারা ধারণ করতে পারে। মনার্ক বাটারফ্লাইয়ের শুঁয়াপোকার গায়ে থাকে সোনালি ফোটা ফোটা দাগ ও সুতোর মতো বস্তু, যার সাহায্যে বিকাশমান কীটটি মিশে যেতে পারে পাতার সঙ্গে।

পূর্ণবয়স্ক প্রজাপতিও বর্ণকে নিজেদের সুবিধার্থে ব্যবহার করে থাকে। সেটা যে শুধু নিজেকে আড়াল করার জন্য তা নয়, উপরন্তু শিকারিকে সাবধান করার জন্যও। যেমন পূর্ণবয়স্ক মনার্ক প্রজাপতি উজ্জ্বল কমলা রং এবং এক বিচিত্র নকশা ধারণ করে, যা সম্ভাব্য শিকারির জন্য বিপদ সঙ্কেতের কাজ করে। এর মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয় যে, ওটা খেতে বিস্বাদ ও বিষাক্ত। ভাইসরয় নামে আরেক জাতের প্রজাপতি আছে, যা মনার্ক প্রজাপতির চেহারা অনুকরণ করে বিবর্তিত হয়। মনার্কের মতো ওই উজ্জ্বল কমলা রং দেখে শিকারিরা দূরে সরে যায়।

মরফো নামে এক জাতের প্রজাপতির রং উজ্জ্বল নীল। এই বিশেষ বর্ণ স্বজাতির অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার কাজে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে প্রণয়ের সময় । এদের ডানার নিচটা ফিকে বাদামি রঙের। তাতে চোখের মতো দারুণ সব নকশা থাকে, যা শিকারিদের সাবধান করে দেয় এবং বিভ্রান্তি করে।

কিন্তু আমরা মানুষেরা কিভাবে প্রজাপতির এসব উজ্জ্বল রং অনুধাবন করি, তা বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। আমরা কিছু কিছু রং দেখতে পাই, যেগুলো প্রজাপতির সত্যিকারের রং। কিছু কিছু রং আছে, সেগুলো কাঠামোগত কিংবা আলো গা থেকে প্রতিফলিত হয়ে আসে। প্রডিক বলেছেন, প্রজাপতির গায়ে নীল, বেগুনি বা সাদা রং দেখলে বুঝতে হবে, সেই রং কাঠামোগত। আর কমলা, হলদে ও কালো, এগুলো হচ্ছে প্রজাপতির নিজস্ব গায়ের রং। ওদের ডানার মধ্যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কাঠামো আছে, যেগুলো কোন আলো প্রতিফলিত হচ্ছে এবং কিভাবে হচ্ছে, তার ওপর প্রভাব ফেলে। এ কারণেই প্রজাপতির ডানাগুলোকে চিত্রবিচিত্র দেখায়। এই বৈশিষ্ট্য থাকার কারণেই প্রজাপতিকে যে আমরা রং বদলাতে দেখি, সেটা আসলে আর কিছুই না, আমরা কোন কৌণিক অবস্থান থেকে দেখছি, তার ওপরই ওটা নির্ধারিত হয়।

সূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফি

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫

০৩/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: