আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সিরাজুল ইসলাম

প্রকাশিত : ২ এপ্রিল ২০১৫
  • এক অভিনেতার প্রস্থান

বাংলা সিনেমা বা নাটকে আর দেখা মিলবে না সেই বৃদ্ধ ব্যক্তিটির যিনি ছায়া হয়ে থাকতেন পরিবারের সবার মাথার উপরে। বিপদে আপদে যার কাছে আশ্রয় খুঁজত পরিবারের সবাই কখনও বাবা হিসেবে কখনও দাদু হিসেবে। তিনি সব হিসেব নিকেশ স¤পূর্ণ করে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। সেই সঙ্গে তৈরি করে দিয়ে গেছেন অপরিসীম শূন্যতা। বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গন আবারও অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়ল। কিংবদন্তি অভিনেতা সিরাজুল ইসলাম আর কখনও সিনেমা আর নাটকের পর্দায় হাজির হবেন না।

জন্মেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলায়। ৪৭-এর দেশভাগের উত্তাপে বাংলাদেশে আগমন বাবার হাত ধরে। জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ছিলেন এই বাংলাদেশেই। জড়িয়ে ছিলেন সংস্কৃতি অঙ্গনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে কি রেডিও কি টিভি কি সিনেমায়।

সৃজনশীল মাধ্যমে পদচারণা সেই শৈশব থেকেই ছিল। কবিতা লিখতে ভালবাসতেন। কৈশোরে মঞ্চেও অভিনয় করেছেন। পরিণত বয়সে কাজ শুরু করেন রেডিওর প্রযোজক হিসেবে। সহজ সরল সাবলীল অভিনয়ে তিনি মুগ্ধ করে রেখেছিলেন বাংলাদেশের দর্শকদের কয়েক দশক ধরে। মঞ্চ রেডিও ঘুরে একসময় যাত্রা শুরু সিনেমায়। মহিউদ্দীন পরিচালিত ‘রাজা এলো শহরে’ সিনেমা দিয়ে সেই যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তারপর থেকে অভিনয় করেছেন প্রায় তিন শতাধিক ছবিতে। তার অভিনীত নাচঘর, অনেক দিনের চেনা, বন্ধন, ভাইয়া, রূপবান, উজালা, ১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন, নয়নতারা, আলীবাবা, চাওয়া পাওয়া, গাজী কালু চম্পাবতী, নিশি হলো ভোর, সপ্তডিঙ্গা, মোমের আলো, ময়নামতি, যে আগুনে পুড়ি, দর্পচূর্ণ ইত্যাদি। নিজের মেধাকে ছড়িয়ে দিতে এক পর্যায়ে চলচ্চিত্র পরিচালনাতেও নামেন এই গুণী অভিনেতা। সোনার হরিণ, পুতুলের বিয়ে তাঁর পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। নির্মাণ করেছেন একাধিক প্রামাণ্যচিত্র। ১৯৮৫ সালে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জুটেছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও, চন্দ্রনাথ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য।

শেষ সময়ে নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন শুধু টিভি নাটকেই। স্যাটেলাইট যুগের আগে বিটিভি জেনারেশনে খুবই পরিচিত মুখ ছিলেন এই গুণী অভিনেতা। কাজের ভিতর থাকাটা ছিল তার কাছে নেশার মতো। আর সেকারণেই অনেক বয়স হয়ে গেলেও ছাড়তে পারেননি অভিনয়ের নেশা, ঋণী করে গেছেন আমাদের প্রতিনিয়ত। সর্বশেষ কাজ করেছেন আড়ং ছবিতে।

সরকারী চাকরি আর স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন বজায় রেখে শুধু ভালবাসার টানে একের পর এক কাজ করে গেছেন তিনি। স্বাধীন বাংলাদেশে কাজ করেছেন ডিপার্টমেন্ট অব ফিল্ম এ্যান্ড পাবলিকেশনস বিভাগে। তাঁর এ বিদায়ে নিশ্চিতভাবেই বিদায় নিল এক উজ্জ¦ল নক্ষত্রে, বিদায় নিল একজন নিবেদিতপ্রাণ সংস্কৃতি কর্মীর যার অভাব পূরণ হতে সময় লাগবে অনেক দিন। সিরাজুল ইসলামের জন্য আমাদের শ্রদ্ধা, ভালবাসা। তিনি অমর হয়ে থাকবেন তাঁর কাজের মাঝে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আনন্দকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত : ২ এপ্রিল ২০১৫

০২/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: