আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিজয়ী বীরের বিদায়

প্রকাশিত : ১ এপ্রিল ২০১৫
বিজয়ী বীরের বিদায়
  • বিউটি পারভীন

বিজয়ী বীরের তৃপ্ত হাসি! এমনটাই ফুটে থাকবে মুখে বাকিটা জীবন। নাতি-পুতিদের কাছে বড়াই করে গল্প করবেন কে মর্যাদা নিয়ে বিদায় নিয়েছেন। বিশ্বকাপে দলকে একবারই নেতৃত্ব দিয়েছেন আর সেবারই জিতিয়েছেন বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসরটির শিরোপা। এমন একটা লগ্নের অপেক্ষাতেই হয়ত ছিলেন। সদ্যসমাপ্ত একাদশ বিশ্বকাপে ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পরই ঘোষণা দেন ওয়ানডে থেকে অবসরের। ফাইনালে হার কিংবা জিত যাই হোক ২০১১ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার থেকে বিদায় নেয়া অস্ট্রেলিয়া দলকে এবার নেতৃত্ব দিয়ে ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছেন এটাই অনেক বড় প্রাপ্তি। সেই প্রাপ্তিটা বড় হলো ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে অসিরা হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কারণে। আর ফাইনালে অধিনায়কোচিত ৭৪ রানের ইনিংস খেলেছেন ক্লার্ক। দলকে পঞ্চমবারের মতো শিরোপা এনে দেয়ার জন্য দারুণ কার্যকর ছিল সেই ইনিংসটা। মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন ২ এপ্রিল চৌত্রিশতম জন্মদিন পালন করতে চলা ক্লার্ক।

দলকে ৭৪ ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ড হেরে যাওয়ায় অধিনায়ক হিসেবে জয়ের ফিফটিও পূরণ করেছেন। আর দলনেতা হিসেবে ৭৪তম ওয়ানডে ম্যাচে রানও করলেন ৭৪! দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ, সেই আসরের ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপা-অর্জন আর প্রাপ্তিতে সোনায় সোহাগা হয়ে গেলেন ক্লার্ক। রবিবার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ফাইনালের আগের দিন হুট করেই অবসরের ঘোষণা দিয়ে সবাইকে বিমূঢ় করে দেন ক্লার্ক। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আগামীকালই আমার শেষ ওয়ানডে হবে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে। আমি দারুণ কৃতজ্ঞ এবং ধন্য। আমি দেখলাম যে এদিনই আমার ২৪৫তম ওয়ানডে ম্যাচ। এটা অনেক বড় সম্মানের এবং বিশেষ অধিকার যে এতগুলো ম্যাচে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছি। আমি যেসব খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলেছি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ এবং নিজেকে খুবই সৌভাগ্যবান মনে করছি। আমার মনে হয় এটাই নিজের এবং অস্ট্রেলিয়া দলের জন্য উপযুক্ত সময় আমাকে বিদায় দেয়ার। আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে চার বছর আগে দলকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। দলকে বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছে দেয়ার জন্য সেটা আমার জন্য খুব ভাল প্রস্তুতি ছিল। আমার বিশ্বাস পরবর্তী অধিনায়কেরও এমন সুযোগ পাওয়া উচিত। এটা চিন্তা করা কখনোই বাস্তব বিষয় নয় যে আমি পরবর্তী বিশ্বকাপ খেলার জন্য যথেষ্ট ফিট ও স্বাস্থ্যবান থাকতে পারব। এ কারণেই আমার বিশ্বাস ওয়ানডে ছেড়ে দেয়ার এটিই যথার্থ সময়। আমি মনে করি ওয়ানডে ক্রিকেট ছেড়ে দেয়ার জন্য আমি সবচেয়ে ভাল জায়গাটাকে বেছে নিতে পেরেছি। আমি যতদিন খেললাম এর মধ্যে দুটি ফাইনাল ও একটি কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে অস্ট্রেলিয়া।’

ওয়ানডে ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর পেছনে ইনজুরির বিষয়টাও জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে পিঠের ব্যথা ও হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ভুগছেন ক্লার্ক। গত সেপ্টেম্বরে অস্ত্রোপচারও করেছিলেন। সেখান থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে গিয়ে এবার বিশ্বকাপের দুটো ম্যাচেও একাদশে ছিলেন না। নিজেও আগেভাগে অবসরের চিন্তাটা করেননি। তবে দল ফাইনালে ওঠার পরই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন অনেক চিন্তাভাবনা করে। এ বিষয়ে কারও সঙ্গে আগেভাগে আলোচনাটাও করেননি। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি অবসরের বিষয়টি নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা করিনি। মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে সিদ্ধান্তটা নিয়েছি। চিন্তা করে দেখলাম চার বছর আগে আমি দলের অধিনায়ক হয়েছি। আমার পরে যে আসবে তাঁরও এমন সুযোগ পাওয়া উচিত পরবর্তী বিশ্বকাপে দলকে ভালভাবে নেতৃত্ব দিয়ে ফাইনাল পর্যন্ত তোলার জন্য। আমি নিজেকে প্রশ্ন করেছিলাম- তুমি কী পরবর্তী বিশ্বকাপ খেলতে পারবে? উত্তর পেলাম না এটা হয়ত সম্ভব হবে না ফিটনেসের কারণে। সে কারণে এখনই উপযুক্ত সময় অবসর নেয়ার।’

দারুণ একটা উপলক্ষ এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে সবার মধ্যেই কিছুটা আক্ষেপ এবং অপূর্ণতা থেকেই গেল। শিরোপাজয়ী দলের অধিনায়ককে আর ওয়ানডে ক্রিকেটে দেখতে পাবে না বিশ্ব। ওয়ানডে ক্রিকেট অভাব বোধ করবে ক্লার্কের। বিশ্বকাপ জিতিয়েই আর ওয়ানডে ক্রিকেট খেলবেন না। শেষ হলো অসি অধিনায়কের একদিনের ক্রিকেটে ১২ বছরের দীর্ঘ অভিযান। তবে ওয়ানডে ক্রিকেট ছেড়ে দিলেও দীর্ঘ পরিসরের টেস্ট অঙ্গন থেকে এখনই সরছেন না তিনি। নিজেই জানিয়েছেন টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি অধিক মনোযোগী হবেন এখন থেকে। টেস্ট ক্রিকেটে দলকে এক নম্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। ২০০৭ বিশ্বকাপে শিরোপাজয়ী দলের গর্বিত সদস্য ছিলেন। ২০১১ বিশ্বকাপেও খেলেছেন দলের হয়ে। তবে এবার একটু ভিন্নতর অভিজ্ঞতা হলো ক্লার্কের। কারণ দলের অধিনায়ক হিসেবে দলকে তিনি জিতিয়েছেন মর্যাদার বিশ্বকাপ। বর্তমান বিশ্বে চিরাচরিতভাবে অধিকাংশ ক্রিকেটারই এরচেয়েও অনেক পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে দেন। উদাহরণ সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং, মাইক হাসি, শেন ওয়ার্ন, শচীন টেন্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড়, জ্যাক ক্যালিস, সনাথ জয়সুরিয়া, কুমার সাঙ্গাকারা, মুত্তিয়া মুরালিধরন, মিসবাহ-উল-হক, মাহেলা জয়াবর্ধনের মতো ক্রিকেটাররা। আর এখনও তাঁর চেয়ে বেশি বয়সী ক্রিকেটাররা ওয়ানডে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে অন্যতম পাকিস্তানের ইউনুস খান ও সাঈদ আজমল এবং শ্রীলঙ্কার তিলকারতেœ দিলশান।

অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এখনই পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন না ক্লার্ক। টেস্ট ক্রিকেটকেই সবচেয়ে মর্যাদার ফরমেট হিসেবে ধরা হয়। আর সেটা চালিয়ে যাওয়া আরও বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এ প্রসঙ্গে ক্লার্কের মন্তব্য, ‘আমি বিশ্বাস করি না ক্রিকেটে টেস্ট ফরমেটটাই কঠিনতম। যদি হয়েও থাকে আমি এমন চ্যালেঞ্জ নিতে ভালবাসি। আমি আশাবাদী যে টেস্ট ক্যারিয়ারকে আরও প্রলম্বিত করতে সক্ষম হব। সেটা অবশ্যই আমার কাছে অনেক বেশি গুরুত্ব পাবে। টেস্ট ফরমেটে ভাল করে দলকে সাফল্যম-িত রাখতে চাই। আমার ধারণা ওয়ানডে থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে টেস্টে পূর্ণ মনোযোগী হয়ে আরও ভাল কিছু দলকে উপহার দেয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। দলকে ভাল খেলে বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দলে পরিণত করাই হবে আমার পরবর্তী লক্ষ্য।’ দলকে ৭৪ ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়ে ৫০ বার জিতিয়েছেন আর পরাজয় দেখেছেন মাত্র ২১টি। ৪০ টেস্টে অধিনায়কত্ব করে ২০ জয়ের বিপরীতে দেখেছেন ১৩ পরাজয়। বাঁহাতি স্পিনার হিসেবেও অনেকবার কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন দলের হয়ে। ওয়ানডেতে ৫৭ আর টেস্টে ৩১ উইকেট রয়েছে তাঁর দখলে।

প্রকাশিত : ১ এপ্রিল ২০১৫

০১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: