কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রূপালী পর্দায় তারুণ্যের সম্ভাবনা

প্রকাশিত : ৩১ মার্চ ২০১৫
  • অঞ্জন সরকার জিমি

রূপালী পর্দার প্রতি সাধারণ তরুণ-প্রজন্মের সহজাত আগ্রহ আছে। এদের একটা বড় অংশই অভিনয় করতে চায় ছুটে আসে তারকাখ্যাতির লোভে । সামান্য একটা অংশ নির্মাণ বিষয়ক কর্মকাণ্ডে আগ্রহী হয় তারা। অভিনয়ে আগ্রহীদের অনুপাতে এদের সংখ্যা সামান্য মনে হলেও, আসলে তা সামান্য নয়। আবার এদের বেশিরভাগেরই মূল লক্ষ্য পরিচালক হওয়া। কারণ সবার ধারণা, পরিচালকই সমস্ত কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রক। পরিচালক হওয়ার মধ্যে যে আত্মতুষ্টি ও গৌরবের ব্যাপার আছে তা থেকে বঞ্চিত হতে চায় না কেউ। কিন্তু পরিচালক হওয়া ‘মামা বাড়ির মোয়া’ না। ‘এলাম, দেখলাম আর জয় করলাম’ বললেই জয় করা যায় না। অনেকে মনে করেন, পরিচালনা তুড়ি বাজানোর মতো সহজ ব্যাপার। একজন চিত্রনাট্য লিখে দিচ্ছে, একজন ক্যামেরায় তা ধারণ করছে, আরেকজন সম্পাদনা করে তাতে সঙ্গীত বসিয়ে দিচ্ছে। তার সঙ্গে যদি দু’য়েকজন বাজার কাটতি অভিনেতা দিয়ে কাতুকুতু দেয়া অভিনয় করানো যায়, তবে আর ঠেকায় কে! এভাবে যে হচ্ছে না, তা নয়। হচ্ছে, তবে কচু হচ্ছে, ঘেচু হচ্ছে, চালাকি হচ্ছে, প্রতারণা হচ্ছে। বুদ্ধিমান তরুণদের এই মোহ কাটতে সময় লাগে না। আর যারা তা নয়, তারা আসলে সংশ্লিষ্টদের করুণার পাত্র হয়; যদিও সেটা তারা সারাজীবনে অনুধাবন করতে পারে না।

অথচ পরিচালনা ছাড়াও কিন্তু ভিজ্যুয়াল মিডিয়ায় অসংখ্য ক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে সাফল্য লাভ করা যায়। গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনা, সম্পাদনা, চিত্রধারণ, প্রযোজনা, কপি রাইটিং, ফোকাস পুলিং, শব্দযোজনা, মিউজিক কম্পোজিশন, শিল্প নির্দেশনা, প্রোডাকশন ডিজাইন, পোশাক পরিকল্পনা, প্রোডাকশন কো-অর্ডিনেশন, মডেল কো-অর্ডিনেশন, লাইট ডিজাইন, রিসার্চ, স্টোরি, বোর্ড মেকিং, রূপসজ্জা, সেট নির্মাণ, ক্যামেরা, প্রোডাকশন ও লাইট ক্রু, কালার গ্রেডিং ও কারেকশন, স্পেশাল ইফেক্ট, অ্যানিমেশন প্রভৃতি সেক্টরে কাজ করা যায় এখানে। এই সেক্টরগুলোর প্রত্যেকটিরই আবার কয়েকটি শাখা রয়েছে। সব মিলিয়ে এটা একটা এলাহী কারবার। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে অংশ নিতে হলে শুধুমাত্র আন্তরিক আগ্রহ থাকলেই হবে না। যেহেতু এর বেশিরভাগ কাজই টেকনিক্যাল, সেহেতু নির্দিষ্ট দক্ষতা ছাড়া এখানে সুবিধা করা মুষ্কিল।

আমাদের দেশে ভিজ্যুয়াল মিডিয়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের পর্যাপ্ত কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। তাই, গাইতে গাইতেই এখানে গায়েন হতে হয় এখনও। তবে পরিচালনা, চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা, এ্যানিমেশন ইত্যাদি প্রধান বিষয়গুলো শেখাবার জন্য বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ‘ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অভ ম্যাস কমিউনিকেশন’ সংক্ষেপে ‘নিমকো’ বহু বছর ধরে ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার বিভিন্ন কোর্স পরিচালনা করে আসছে। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বেশ কয়েক বছর ধরে চলচ্চিত্র শিক্ষা সংক্রান্ত বিভাগ চালু করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও সম্প্রতি চলচ্চিত্র শিক্ষার জন্য আলাদা বিভাগ গঠন করেছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে স্বল্পমেয়াদি কিছু কোর্স চালু আছে, যেখানে আগ্রহীরা চলচ্চিত্র ও ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার প্রাথমিক পাঠটুকু গ্রহণ করতে পারেন। আর যারা আরও দূরদর্শী, তারা ভারতীয় হাই কমিশনে যোগাযোগ করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পুনেতে অবস্থিত ‘এফটিআই’ কিংবা কলকাতায় অবস্থিত ‘এসআরএফটিআই’তে পড়তে যেতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে ব্যাচেলর বা সমমানের ডিগ্রী থাকা আবশ্যক। এছাড়া সারা পৃথিবী তো আছেই।

তবে অন্যান্য সৃষ্টিশীল ক্ষেত্রগুলোর মতো এখানেও দিনশেষে সবাই নিজেই নিজের শিক্ষক। যাদের আর্থিক সঙ্গতি নেই; কিংবা চলচ্চিত্রবিষয়ক শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে পড়ার যোগ্যতায় ঘাটতি আছে; তারা খ্যাতনামা চিত্রনির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে সহকারী হিসেবে একাগ্রতার সঙ্গে কয়েক বছর কাজ করে নির্দিষ্ট বিষয়ে কারিগরি অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনার আগ্রহ কোনদিকে সে, ব্যাপারে নিজের কাছে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। টেকনিক্যাল বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে অনুপুঙ্খ জানতে হবে, ব্যবহারবিধি সঠিকভাবে শিখতে হবে। এখন ইন্টারনেটে প্রচুর সহায়ক গ্রন্থ এবং টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। এছাড়া বিদেশী চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র আপনার ভালো শিক্ষক হতে পারে।

আমাদের দেশে এখন অনেকগুলো টিভি চ্যানেল। এসব টিভি চ্যানেলে প্রতিদিন অসংখ্য বিজ্ঞাপন, নাটক, ডকুমেন্টরি, টেলিফিল্ম, মেগাসিরিয়াল, মিউজিক ভিডিও, রিয়ালিটি শো প্রচারিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত অডিও ভিজ্যুয়াল ও বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ করায়। সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থাও তথ্যচিত্র ও সচেতনতামূলক নাটিকা তৈরি করতে অর্থ লগ্নি করে। ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অনেক তথ্যচিত্র ও কাহিনীচিত্র নির্মিত হয়। আর সিনেমা তো আছেই। এসব কর্মযজ্ঞকে কেন্দ্র করে প্রচুর নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে ঢাকা শহরে। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করতে অসংখ্য মেধাবী ও উদ্যমী ছেলেমেয়ের প্রয়োজন হয়। এরা সবাই যে পরিচালক হয়, তা নয়। পরিচালনা ছাড়াও অনেক ধরনের সৃষ্টিশীল কাজের সুযোগ রয়েছে এখানে। সুযোগ রয়েছে নিজেকে প্রমাণের। নিজের মেধা ও দক্ষতা প্রকাশের। যারা সত্যিকারভাবে চিত্রনির্মাণকে ভালবাসে, যারা প্রত্যয়ী, আত্মবিশ্বাসী, নতুনতর চিন্তা-চেতনার বিকাশ ঘটাতে সক্ষম; শিল্পের এ মাধ্যম তাদের স্বাগত জানাবে সবসময়। বাকিদের জন্য পরামর্শ, সিনেমা বানানো ছাড়াও আরও অনেককিছু করার আছে জীবনে। নিজের সম্ভাবনা বুঝে সেসব কাজে লেগে থাকেন। সাফল্য আসবেই।

প্রকাশিত : ৩১ মার্চ ২০১৫

৩১/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: