রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

তারামনের আরেক যুদ্ধ

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৫
তারামনের আরেক যুদ্ধ

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ রোগের সঙ্গে লড়ছেন বীরপ্রতীক তারামন বিবি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী শত্রুদের সঙ্গে যুদ্ধ করে জিতেছিলেন। পেয়েছিলেন একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ এবং বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ খেতাবও। কিন্তু বর্তমানে যে যুদ্ধ তিনি করছেন, তার ফল অনিশ্চিত। এ যুদ্ধের জয়-পরাজয় নিয়ে খুব একটা হতাশা নেই এই বীর নারীর কণ্ঠে। কেমন আছেন বীরকন্যা তারামন বিবি; তা জানতে সম্প্রতি কথা হয় তাঁর সঙ্গে।

এ সময় তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, সার্বিকভাবে সরকারী বিভিন্ন সহযোগিতা পাচ্ছি। কিন্তু শারীরিকভাবে আমি খুব অসুস্থ। হার্টের সমস্যা, কোমরের হাড় ক্ষয় হয়ে গেছে, সেই সঙ্গে ফুসফুস প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে বলে ডাক্তার জানিয়েছেন। চিকিৎসা চলছে। সিএমএইচ, রংপুর মেডিক্যাল, কুড়িগ্রাম বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, শেরপুর এবং কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার স্থানীয় চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারীভাবে আমার চিকিৎসা ব্যয় মেটানো হচ্ছে। তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধাও পাচ্ছি। সেদিক থেকে সমস্যা নেই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বাধীনতার মাসে চাওয়া-পাওয়ার আর কিছু নেই। একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি, যথাযথ সম্মান পেয়েছি, এখন শুধু সবার কাছে দোয়া চাই। যাতে আর কয়টা দিন পৃথিবীটা দেখে যেতে পারি। এই দেশের বাতাসে আর কয়টা দিন নিঃশ্বাস নিতে চাই। তিনি বলেন, দেশ ও দেশের মানুষ ভাল থাকুক, এটাই আমার একমাত্র কামনা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে নারীদের অবদান উল্লেখ করলে যে ক’জন নারীর নাম প্রথমসারিতে আসে তাঁদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন তারামন বিবি বীরপ্রতীক। বাংলামায়ের এই বীর কৃতীকন্যার জন্ম দেশের উত্তর জনপদের কুড়িগ্রাম জেলায়। কুড়িগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে ব্রক্ষ্মপুত্র নদের ওপারে রাজিবপুর উপজেলায় তার বাড়ি।

তারামন বিবি মুক্তিযুদ্ধের সময় পালকপিতা হাবিলদার মুহিবের অনুপ্রেরণায় যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১১ নং সেক্টরে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলার মোহনগঞ্জ, তারাবর, কোদালকাঠি ও গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়িতে সশস্ত্রযুদ্ধে তিনি বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। তারামন বিবি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেয়ার পাশাপাশি দক্ষতার সঙ্গে গোয়েন্দাবৃত্তির কাজ করতেন।

তাঁর সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মুক্তিযুদ্ধের সময় বেশ কয়েকটি স্থানে মুক্তিযোদ্ধারা সফল অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। এর মধ্যে খাড়িয়াডাঙ্গা ও ভেলামারি খাল এলাকায় পাকিস্তানী ঘাঁটির অবস্থান সম্পর্কে তাঁর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে সফল অপারেশন পরিচালিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বিরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে।

তারামন বিবি জানান, মুক্তিযুদ্ধ করে অর্জিত স্বাধীনতা তাঁর শ্রেষ্ঠ অর্জন।তিনি হয়ত একদিন পৃথিবীতে থাকবেন না। কিন্তু মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ যেন আগামী প্রজন্ম ধারণ করে এ দেশটাকে সুন্দর ও সোনার দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে, সে কামনাই শুধু তিনি করেন।

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৫

২৬/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: