মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বাংলাদেশের বেদনার কাব্যগাথা

প্রকাশিত : ২৫ মার্চ ২০১৫
  • খেললো জুয়াড়ি-আম্পায়ার, বদনাম ধোনিদের
  • সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ

১৯ মার্চ ক্রিকেটের একটি কলঙ্কিত দিন হয়ে থাকবে। এদিন একাদশ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনালে মেলবোর্নে জয়ের প্রত্যয় নিয়েই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ছিল প্রতিবেশী ভারত। কিন্তু সে ম্যাচে জিততে পারেনি বাংলাদেশ। একে তো খেলাটা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল এবং প্রতিপক্ষ ভারত। দুষ্টুজনেরা বলে, খেলায় যখন ভারত প্রতিপক্ষ হয় তখন বিপক্ষ দলকেই মাঠের ১১ জন ছাড়াও আরও অনেক প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়তে হয়। তাই বাংলাদেশকেও লড়তে হয়েছে প্রতিপক্ষের ১১ জন ছাড়াও আরও ৩ আম্পায়ারের সঙ্গে। লড়তে হয়েছে ক্রিকেটজুয়াড়িদের বিরুদ্ধে। কেননা ভারত হারলে জুয়াড়িদের হাজার কোটি ডলার গচ্ছা যায়। সে কারণে ম্যাচ গড়াপেটার কাজটি ভারতের নিজেরও করতে হয় না। অনেক সময় তাদের হয়ে অন্যরাও তাদের নিজেদের স্বার্থে কাজটি করে দেয়। আইসিসিও চায় না ভারত টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিক। ভারত হচ্ছে ক্রিকেট-বাণিজ্যের লক্ষ্মী। সে লক্ষ্মীকে কে হারাতে চায়। এটা জেনেই মাশরাফিরা মাঠে নেমেছিল। যদিও টস হেরে শুরুতেই একটু পিছিয়ে পড়েছিল মাশরাফির দল। টস জিতলে ম্যাচের চালচিত্র হয়ত অন্যরকম হতো। তারপরও ভারতের বিরুদ্ধে সমান তালে লড়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ।

একপর্যায়ে ভারত ২৮ রান শেষে যখন ৩ উইকেটে ১১৫ রান নিয়ে ধুঁকছিল তখন মনে হচ্ছিল ভারত ২৫০ করতে পারে কিনা সন্দেহ। সেই ভারত আম্পায়ারদের বদৌলতে ৫০ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ৩০২ রান করে। আম্পায়ারদের কেরামতি শুরু হয় বাংলাদেশের ৩৪তম ওভারে। ১৮ বলে ১০ রানে থাকা সুরেশ রায়নার বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদনে ইংলিশ আম্পায়ার সাড়া না দেয়ায় রিভিউ নেন মাশরাফি। কিন্তু ‘সব শেয়ালের এক রা’-এর মতো থার্ড আম্পায়ার অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ ডেভিসও সে আবেদন নাকচ করে দেন। কেন দিলেন সেটা তিনিই জানেন। তবে যারা টিভি রিপ্লে দেখেছেন তারা সবাই স্পষ্টই দেখেছেন বলটি পরিষ্কার এলবিডব্লিউ ছিল। তখন পর্যন্ত সুরেশ রায়না প্রথম ১৮ বলে ১০ রান করলেও আম্পায়ারদের কারিশমায় লাইফ পেয়ে পরের ৩৯ বলে ৫৫ রান করে ম্যাচের চাকা ঘুরিয়ে দেন। এখানেই শেষ নয়। বাংলাদেশের ‘বাড়া ভাতে ছাই’ ঢেলে দিলেন সেই ইংরেজ আম্পায়ার ইয়ান গোল্ড। বাংলাদেশের কাছে ইংরেজদের হতাশাব্যঞ্জক পরাজয়ে হৃদয়ে একটা গভীর ক্ষত নিয়ে মাঠে নিরপেক্ষ আম্পায়ারিংয়ের গুরু দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নেমেও ইংল্যান্ডের হারের শোক ভুলতে না পেরেই বুঝি তিনি বাংলাদেশকে হারানোর ব্রত নেন। আর তাই ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মার রান যখন ৯১ তখন তিনি রুবেল হোসেনের ক্লিন বল তুলে মেরে সহজ ক্যাচ দেন।

কিন্তু সেই বলকে ‘নো বল’ ডাকেন শোকাহত ইংরেজ আম্পায়ার ইয়ান গোল্ড। যদিও তাতে সাই ছিল পাকিস্তানী আম্পায়ার আলীম দারেরও। আলীমদার যিনি এর আগের দুটো বিশ্বকাপের ফাইনালে আম্পায়ারিং করেছেন তার মতো একজন আম্পায়ারের কাছে কারও এমনটা প্রত্যাশিত ছিল না। কিন্তু তিনিও! সে বলটি যে কোনভাবেই ‘নো বল’ ছিল না সেটা সবাই দেখেছেন এবং আম্পায়ারাও জানতেন। এ নিয়ে সন্দেহ-সংশয়েরও কোন সুযোগ নেই। চাক্ষুষ দেখা নিয়ে নতুন করে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের কোন প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। আম্পায়াররা যে এটা ভুল করেছেন সেটাও আমার মনে হয় না। যা করেছেন জেনে-বুঝে সজ্ঞানে করেছেন। হয়ত কোন অদৃশ্য ইশারায় সেটা করেছেন। আমি মানছি আম্পায়ারাও মানুষ, ভুল তাদেরও হতে পারে। তাই বলে একই ম্যাচে বারবার ভুল হয় না। আম্পায়াররা যদি এটা না করতেন তাতে কী হতো? ফলাফল যে বাংলাদেশের পক্ষেই যেত এমন কথা কেউ জোর দিয়ে বলতে পারেন না।

ভারতের রান ২৫০ হলেও হয়ত ভারতই জিতত। কেননা বিগ ম্যাচ জেতার টেম্পারমেন্ট ভারতের আছে, বাংলাদেশের নয়। না হয় বাংলাদেশই জিতত! তাতে কী হতো? ক্রিকেটের গায়ে এমন একটা কালো কালির আঁচড় পড়ত না। যেখানে খোদ ভারতেরই লক্ষ্মণ, আগারকার, সিধু, ওয়েস্ট ইন্ডিজের লারা, অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং, নিউজিল্যান্ডের রিচার্ড হ্যাডলি, মার্টিন ক্রোসহ বিশ্বের তাবৎ ক্রিকেট লিজেন্ডরা রোহিতের আউট হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তারা তো আর আমজনতা নন যে ক্রিকেট বোঝেন না।

বাংলাদেশের ইনিংসে দিকে তাকালেও সেই একই চিত্র। আগের দুই ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের তুলে মারা বলে ক্যাচ ধরতে গিয়ে শিখর ধাওয়ানের পা যে বাউন্ডারি লাইনে রাখা বিজ্ঞাপন বোর্ড স্পর্শ করেছিল সেটা পরিষ্কার দেখা গেছে। থার্ড আম্পায়ার স্টিভ ডেভিসও যে সেটা বোঝেননি তা নয়। সেটা বোঝার কারণেই তিনি তড়িঘড়ি করে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে আউট দিয়ে বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাংলাদেশের আপামর জনগণ। এই অবিচারকে সহজভাবে মেনে নেননি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ, আইসিসির সভাপতি আহম মোস্তফা কামাল, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ দেশের ১৬ কোটি মানুষ। আইসিসির সভাপতি আহম মোস্তফা কামাল এ ঘটনার প্রতিবাদ করে প্রতিকার চাওয়ার কথা বলায় উল্টোপাল্টা কথা বলছেন আাইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসনসহ অনেকে। আমি ঠিক জানি না আইসিসির মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত ছাড়া কোন চিফ এক্সিকিউটিভের তার প্রেসিডেন্টকে নিয়ে কথা বলার এখতিয়ার আছে কিনা। ডেভিড রিচার্ডসনের সীমা কতটুকু সেটা আমার বোধগম্য নয়।

আমি যতটুকু দেখেছি আইসিসির বোর্ড অব ডিরেক্টরের কমিটির তালিকায় সভাপতির উপরে একজনই আছেন। তিনি হচ্ছেন আইসিসির চেয়ারম্যান ভারতেরই শ্রীনিবাসন। প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসনের পদ সভাপতির নিচে। নিচের পদের কোন ব্যক্তি উপরের পদের ব্যক্তিকে নিয়ে কথা বলতে পারেন বলে আমার জানা ছিল না। তাঁকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেয়া নিয়েও কথা হচ্ছে। এ নিয়ে অনেক ধরনের লেখালেখিও হচ্ছে। যদিও কাজটি অতটা সহজ নয়। তারপরও তর্কের খাতিরে ধরে নিচ্ছি, যদি একটি ন্যায়ের পক্ষে লড়তে গিয়ে মোস্তফা কামালকে আইসিসির পদ ছাড়তে হয় সেটা হবে তাঁর জন্য অপরিসীম সম্মানের। তাঁর জন্য বীরোচিত সম্মান পাবেন তিনি। আর আইসিসির সভাপতির পদ থেকে তো তাঁকে একদিন সরে দাঁড়াতেই হবে। এ পদ তো আর কারও জন্য চিরদিনের নয়। তাঁর নামের সঙ্গে সাবেক তকমাটা তো একদিন লাগাতেই হবে। বাংলাদেশের প্রতি এই অন্যায়ের প্রতিকার চাইতে গিয়ে যদি তাঁর পদ চলে যায় তাতে করে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ তাঁকে আজীবন মাথায় করে রাখবে। বাংলাদেশ যেমন হেরেও মাথা উঁচু করে বিজয়ীর বেশে দেশে ফিরেছে তিনিও তেমনি সারাজীবন মাথা উঁচু করে চলতে পারবেন। অনেকে হয়ত বলবেন, এখন আর প্রতিকার করে কী লাভ হবে? প্রতিকার করলে বাংলাদেশ তো আর জিতবে না। হ্যাঁ, খুব খাঁটি কথা। বাংলাদেশ জিতবে না সেটা আমি একা নই একটা বোকা ছেলেও জানে। প্রতিবাদের পরিভাষা হচ্ছে, অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি না হওয়া। ভবিষ্যতে আর কোন দলকে যেন বাংলাদেশের মতো অবিচারের শিকার হতে না হয়। আর যেন কোন দল না ভাবে জয় ছিনিয়ে নেয়া যায়। আম্পায়াররাও যেন না মনে করে, মাঠের একচ্ছত্র মালিক তাঁরাই। তাঁরা যা খুশি তাই করতে পারেন। তার জন্যে একটা নতুন আইন হওয়া দরকার। শুধু বিশ্বকাপেই নয়, ক্রিকেটের প্রতিটি ম্যাচের জন্য এ রকম একটা আইন হওয়া দরকার। আইসিসির পরের সভায় সম্ভাবত সেটা করার জোর তাগিদের কথা বলেছেন আইসিসির সভাপতি। যদি তিনি সেটা করতে পারেন তবে তিনি পৃথিবীর কোটি কোটি ক্রিকেটানুরাগীর কাছে চিরকালের জন্য ধন্যবাদার্হ হয়ে থাকবেন।

কোয়ার্টারে হেরে বাংলাদেশ দল দেশে ফিরেছে। বলা যায় বিজয়ীর বেশেই দেশে ফিরেছে। কাপ জিতে দল যেভাবে ফেরে বলা যায় সেভাবেই। দেশের ১৬ কোটি মানুষ তাদের সম্মান দিয়েছে। বীরোচিত সম্মান। হারার পর এমন সম্মান পাওয়ার সুযোগ সবার জীবনে আসে না। মাশরাফিরা পেয়েছেন। সব মানুষ হয়ত এয়ারপোর্টে যেতে পারেননি তবে সবার উষ্ণ শুভেচ্ছা ও শুভকামনা ঘিরে ছিল বাংলাদেশ দলকে। টিভি ও পত্রিকার সংবাদ, ফেসবুক-টুইটারে তার দেখাও মিলেছে। বিশ্বকাপ না জিতেও কাপ জয়ের মতোই সম্মান নিয়ে দেশে ফেরা বাংলাদেশ দলের জন্য নিঃসন্দেহে একটি পাওয়া। স্যালুট মাশরাফি, স্যালুট টিম বাংলাদেশ। এতদিন টাইগার তকমাটা লাগানো থাকলেও এবারে সত্যিকারের বাঘের পরিচয় দিয়েছে আমাদের ছেলেরা। শুধু বাংলাদেশেই নয়, তামাম ক্রিকেটবিশ্ব আমাদের দামাল ছেলেদের প্রশংসায় মুগ্ধ। এটাও তো কম পাওয়া নয়। বাংলাদেশ হেরে পেয়েছে জয়ের সম্মান আর ভারত জিতেও পেল না জয়ের স্বাদ। এই প্রশ্নবিদ্ধ জয় ভারতের মতো একটা দলকে কতটা আনন্দ দিয়েছে আমি জানি না। তবে ‘পরাজয়ের স্বাদ’ও যে এতটা মধুর হয় বাংলাদেশের ছেলেরা সেটা বুঝেছে। ভারত জিতেছে ঠিকই তবে তাতে করে বাংলাদেশের নয়, পরাজিত হয়েছে ক্রিকেট। কেননা এ ম্যাচে ক্রিকেট তার ‘ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেট’ তকমাটা ধরে রাখতে পারেনি। বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা গোটা ক্রিকেটবিশ্বকে জানিয়ে দিয়ে এসেছে- ‘এবার কাপ জিততে পারেনি তাতে কী হয়েছে। তবে তারা তো বিশ্ববাসীকে অন্তত এটুকু জানিয়ে দিয়ে আসতে পেরেছে আমরা আসছি। এবার পারিনি পরের বার পারব, তা না হলে তার পরের বার, নয় তো তার পরের বার। আর কেউ আমাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না।’ বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ তথা গোটা ক্রিকেটবিশ্বও এখন সেটা বিশ্বাস করে।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কেন সেমি-ফইনালে উঠতে পারেনি সেটাও কারও অজানা নয়। যে দল গ্রুপ পর্বে আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের মতো দলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারে সে দল কোয়ার্টারে জেতার ক্ষমতা যে রাখে সেটা কারও অজানা নয়। প্রতিপক্ষ ভারতেরও নয়। ২০০৭ বিশ্বকাপের কথা ভেবে ভারতও কোন রিস্কে যেতে চায়নি।

হয়ত তারাও চেয়েছে সরাসরি জয়। ২০০৭ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে এই বাংলাদেশের কাছে হেরে ভারতের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়। তাদের আর শেষ আটে ওঠা সম্ভব হয়নি। সে কথা মাথায় রেখেই তাই এবার বাংলাদেশের কাছে হেরে সেমিতে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া করার কথা মাথায়ই আনেনি ভারত। ম্যাচের অনেক আগে থেকেই চাউর ছিল, ভারত-বাংলাদেশের ম্যাচটা মানি ‘প্লানিং গেম’ হবে। ম্যাচের আগে কেউ সেটা বিশ্বাস করেছেন কেউ করেননি। ম্যাচের ১৯ মার্চ ম্যাচ শেষে এ নিয়ে আর কেউ বিতর্কে যেতে চাননি। ১৯ মার্চ মাঠে কী ঘটেছিল সেটা সবার জানা। বাংলাদেশের একটি ন্যায্য জয়কে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন আম্পায়াররা। তারা কেন সেটা করেছিলেন, কোন এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন সেটা তারাই বলতে পারবেন। তবে তারা যে জেনে-বুঝেই এই অন্যায় কাজগুলো করেছিলেন সেটা বুঝতে একটা দুধের বাচ্চারও এতটুকু অসুবিধে হয়নি। তারপরও কোয়ার্টার ফাইনালে হারার কষ্ট বুকে না পুষে কোয়ার্টার পর্যন্ত যাওয়ার আনন্দকে ভেবেই না হয় আমরা একটুখানি সুখ খুঁজি।

লেখক : কথাসাহিত্যিক ও সাহিত্য সংগঠক

e-mail : syedmayharulparvey@gmail.com

প্রকাশিত : ২৫ মার্চ ২০১৫

২৫/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: