কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রসায়ন

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ ২০১৫

উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে অধ্যয়নরত বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের বিষয়সমূহের মধ্যে যে বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীরা রীতিমতো ভয়ে থাকে সে বিষয়টি হল রসায়ন। আমার শিক্ষকতা জীবনে আমি যখনই শিক্ষার্থীদের বোঝাতে চেয়েছি রসায়ন রসে ভরা, বেশির ভাগ ছাত্র-ছাত্রীই তখন অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে। এর মূল কারণ সময়ের তুলনায় উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর সিলেবাসের ব্যাপকতা। তার পরও শিক্ষার্থীরা যদি কলেজ শুরুর প্রথম থেকে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করে তাহলে সিলেবাসটি তাদের আয়ত্তে আসতে সময় লাগে না। বিশেষ করে রসায়নে ভাল নম্বর পেতে হলে শিক্ষার্থীদের নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের প্রতি সচেতন থাকতে হবে।

১) না বুঝে কোন কিছুই মুখস্থ করা উচিত নয়। যেমন পর্যায় সারণীতে মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস করার আগে আউফবাউ নীতি সম্পর্কে ধারণা থাকলে কোন অরবিটালের পর কোন অরবিটাল হবে তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তাতে ভুলের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

২) যে কোন সূত্র বা সংজ্ঞা পড়ার সময় সে সূত্র বা সংজ্ঞা প্রথমে বুঝতে হবে এবং তারপর মুখস্থ করতে হবে। যেমন দহন তাপের সংজ্ঞায় যদি কোন শিক্ষার্থী স্থির চাপের ক্ষেত্রে স্থির তাপমাত্রা লেখে তবে শূন্য পাবে। কারণ দহন তাপের সংজ্ঞা হল স্থির চাপে। বেশি পরিমাণ কোন পদার্থকে সম্পূর্ণ রূপে পোড়ালে যে পরিমাণ তাপের পরিবর্তন হয় তাকে ঐ পদার্থের দহন তাপ বলে। তা হলে তাপই যদি স্থির লিখ, তবে ‘যে পরিমাণ তাপের পরিবর্তন’ কেমন করে সম্ভব?

৩) বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়াটি কোন ধরনের তা আগে বুঝতে হবে। কারণ প্রতিস্থাপন বিক্রিয়ার ধরন যুত বিক্রিয়া থেকে ভিন্ন এবং যুত বিক্রিয়ার ধরন অপসারণ বিক্রিয়া থেকে ভিন্ন। যেমন একক বন্ধনযুক্ত যৌগ প্রতিস্থাপন বিক্রিয়াদের। দ্বিবন্ধন ও ত্রিবন্ধন যুক্ত যৌগ যুত বিক্রিয়া দেয়। আবার অ্যালকাইন-১ এর অম্লধর্মিতা থাকায় অ্যালকাইন-১ অ্যালকিন থেকে কিছু ব্যতিক্রম বিক্রিয়া দেয়।

৪) সনাক্তকারী পরীক্ষা বা পার্থক্যসূচক বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে সকল বিক্রিয়ার বর্ণ বা গন্ধের পরিবর্তন বা অধঃক্ষেপ পড়ে সে সকল বিকারক যোগ করতে হবে। বিক্রিয়া লেখার ক্ষেত্রে বিক্রিয়ক ও উৎপাদের মধ্যে সমতা বিধান করা উচিত।

৫) প্রস্তুত প্রণালীর ক্ষেত্রে প্রথমে মূলনীতি, পদ্ধতির বর্ণনা (শুরুতে বা মাঝে চিত্র হবে) ভেজাল বিশোধন এভাবে পয়েন্ট আকারে উপস্থাপন করলে ভাল হয়। ভেজালসমূহ কোন ধর্মী তার উপর নির্ভর করে বিশোধনের জন্য কি পদার্থ ব্যবহার করা হয়।

৬) অ্যারোম্যাটিক যৌগের ক্ষেত্রে রেজোন্যান্স চিত্র মূলত দু’ ধরনের। একটি অর্থো প্যারা নির্দেশক, অন্যটি মেটা নির্দেশক। যেমন বেনজিন-এর সাথে সক্রিয়কারী মূলক (ঈঐ৩-ঙঐ-ঘঐ২ ইত্যাদি) যুক্ত হলে রেজোন্যান্স চিত্র একরকম হয়। আবার নিষ্কিয়কারী মূলক Ñঈঐঙ, Ñঘঙ২-ঈঙঙ ঐ যুক্ত হলে রেজোন্যান্স চিত্র ভিন্ন রকম হয়।

৭) টীকার ক্ষেত্রে বইয়ের সবগুলো টীকা একসাথে নোট করলে সুবিধা হল একটার সাথে আরেকটার পার্থক্য সুবিধা হল একটার সাথে আরেকটার পার্থক্য স্পষ্ট হয়। তাতে ভুলের সম্ভাবনা কম থাকে।

৮) ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নের ক্ষেত্রে ১ম পত্রে সাধারণত সংজ্ঞা বা নীতি লিখে মূল ব্যাখ্যায় যেতে হয়। ২য় পত্রে অ্যালকাইল ও অ্যারাইল মূলকের প্রভাব, ইলেক্ট্রনাকর্ষী ও কেন্দ্রাকর্ষী বিকারকের আক্রমণ, যুত বিক্রিয়া ও প্রতিস্থাপন বিক্রিয়ার ধরনের পার্থক্য, সংকরায়ন, ইলেকট্রন ঘনত্ব, স্থানিক ভীড় এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা থাকলে সহজেই ব্যাখ্যা সমূহের নির্ভুল উত্তর করা যায়।

৯) পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপে থাকে। বিশেষ করে পরীক্ষা শুরুর সময় হাতের লেখার গতি কম থাকে। তখন ক বিভাগ এর বড় প্রশ্নের উত্তর লিখতে বেশি সময় নষ্ট হয়। এজন্য খ বিভাগে যেহেতু সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর থাকে সেহেতু অল্প সময়ে বেশি নম্বরের উত্তর করা যায়। এতে শিক্ষার্থীর মানসিক চাপ কিছুটা লাঘব হয়। তবে অবশ্যই শিক্ষার্থীকে খ বিভাগ ভালভাবে জানতে হবে। তা না হলে যে প্রশ্নের উত্তর সবচেয়ে ভাল পারে তা আগে উত্তর করা ভাল।

১০) সর্বোপরি রসায়নের মূলমন্ত্র হল ‘যতই পড়িবে ততই ভুলিবে, ভুলিতে ভুলিতে মনে থাকিবে।’ অন্য বিষয় যেখানে পাঁচ বার পড়লে হয় রসায়নে তা পঁচিশ বার পড়তে হয়। শিক্ষার্থীরা একটি অধ্যায় প্রথম পড়ার পর পরবর্তী কয়েকদিন রিভিশন দিলে ঐ অধ্যায়টি আর ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এছাড়া ভালো ফলাফল করতে হলে নিজেকে সচেতন ও সতর্ক হতে হবে। বাসায় যত বেশি লিখার অভ্যাস করবে পরীক্ষার হলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা তত কমবে এবং লেখা দ্রুত হবে। নিজের প্রতি আস্থা রাখবে তবেই আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হবে।

খালেদা সরকার

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ ২০১৫

২৩/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: