কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রকে মিত্র রাষ্ট্রের বৃদ্ধাঙ্গুলি

প্রকাশিত : ২২ মার্চ ২০১৫

যুক্তরাষ্ট্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলিই যেন দেখাল ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইতালির মতো ইউরোপের শীর্ষ দেশগুলো। কি অবাক হয়ে ভাবছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপের শীর্ষ দেশগুলোর মাঝে তো গভীর বন্ধুত্ব, তাহলে এদের বন্ধুত্ব কি ভেঙ্গে গেল? না, বন্ধুত্ব ভাঙ্গেনি। তবে বন্ধুর অনুরোধ তো আর সবসময় রাখা যায় না। ব্যাপারটি সেখানেই। চীনাদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) এ এই দেশগুলোকে যোগদান না করার অনুরোধ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তারা যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ উপেক্ষা করেই যোগ দিয়েছে এই আঞ্চলিক ব্যাংকটিতে। এদের আগেই যোগ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মিত্র ইংল্যান্ড। এর মানে দাঁড়াল তারা বন্ধুর উপরোধে ঢেকি গেলেননি। জি-সেভেনভুক্ত দেশগুলোর মাঝে ইংল্যান্ডেই সবার আগে এই ব্যাংকটিতে যোগ দেয়ার জন্য আবেদন করে। ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে নিজেদের নাম লেখানোর জন্যই ইংল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ উপেক্ষা করেছে। দেশটির সমালোচনায় মেতে উঠেছে আমেরিকার রাজনীতিবিদরা। এমনকি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। এই ক্ষোভকে পাত্তাই দিচ্ছে না দীর্ঘদিনের মিত্র ইংল্যান্ড। অবশ্য ইংল্যান্ড যে চীনের সঙ্গে গাটছড়া বাঁধছে, তার প্রমাণ গত বছরই পাওয়া গিয়েছিল। হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থীদের আন্দোলনকে চীনারা কঠোর হাতে দমন করলেও, ইংল্যান্ড এই বিষয়ে কোন সমালোচনামূলক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সবার আগে দেশটির চীনা নিয়ন্ত্রিত এই ব্যাংকটিতে যোগদান সেই বন্ধুত্বের বন্ধনকেই নির্দেশ করছে।

পঞ্চাশ বিলিয়ন ডলারের এই নতুন উন্নয়ন ব্যাংকটিকে বিশ্বব্যাংকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আর বিশ্বব্যাংক হলো যুক্তরাষ্ট্রের পা চাটা একটি প্রতিষ্ঠান। বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে দেশটি সারাবিশ্বেই মাতব্বরি করে বেড়াচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এরা চাইবে যাতে বিশ্বব্যাংকের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কেউ মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। আর সে চাওয়া থেকেই বন্ধুদেশগুলোকে এআইআইবিতে যোগ না দিতে নানারকম অনুরোধ-উপরোধ-চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু স্বার্থের কাছে বন্ধুত্ব যেন বালাই ছাড়।

ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি যোগ দেয়ায় এখন অস্ট্রেলিয়াও এই ব্যাংকটিতে যোগ দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছে। এতদিন পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া এশিয়া অঞ্চলের এই ব্যাংকটিতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানালেও, ইউরোপের দেশগুলোর যোগ দেয়ার মিছিল দেখে তারাও উৎসাহিত হয়ে উঠেছে ব্যাংকটিতে যোগ দিতে। তারা এখন তাদের যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সান্ত¡না হতে পারে জাপান। দেশটি ব্যাংকটিতে যোগ দেয়নি। এবং দেয়ার সম্ভাবনাও নেই বললেই চলে। কারণ অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ নয়। চীনাদের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব আর চীনাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বৃদ্ধিতে বিচলিত হওয়াই এর কারণ।

বন্ধুদেশগুলোর এআইআইবিতে যোগ দেয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের আঘাত। যুক্তরাষ্ট্রের পরপরই চীন অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ। বিভিন্ন সংস্থা ইতোমধ্যেই পূর্বানুমান করছে যে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই চীন অর্থনীতির দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিয়ে দেবে। আর তা হবে যুক্তরাষ্ট্রের খবরদারির জন্য বড় ধরনের আঘাত। চীন নিজেদের এক নম্বর স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোমর বেঁধেই নেমেছে। বিশাল কর্মযজ্ঞ করে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বিশ্বে নিজেদের অবস্থানও তৈরি করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চীনের উদ্যোগে সৃষ্টি হয়েছে এআইআইবি। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের অবকাঠামোখাতে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যেকে সামনে রেখে গত বছর চীন এই ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরু করে। প্রথম থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ব্যাংকটির বিরোধিতা শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পেরেছিল এই ব্যাংকটি যদি শক্তিশালী হয়ে যায়, তবে বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে তারা এশিয়া অঞ্চলে আর খবরদারি করতে পারবে না। তাই ব্যাংকটি নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে সৃষ্টিলগ্ন থেকেই। এখন মিত্রদেশগুলোর সেই ব্যাংকে যোগ দেয়ার মিছিল দেখে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদরা যারপরনাই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে।

আরিফুর সবুজ

প্রকাশিত : ২২ মার্চ ২০১৫

২২/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: