আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাউফলে আলো ছড়াচ্ছে শোভা রানীর পাঠশালা

প্রকাশিত : ২১ মার্চ ২০১৫
  • সেদিনের শখ আজ নেশায় পরিণত হয়েছে

ঘর নেই, চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ কিছুই নেই। নেই কোন ব্লাকবোর্ড । বাড়ির আঙ্গিনায় মাদুর বিছিয়ে সেখানে শিশুদের শেখানো হচ্ছে অক্ষরজ্ঞান। আর এই জ্ঞানের আলো ছড়ানোর মহৎ কাজটি করছেন ষাটোর্ধ শোভা রানী চক্রবর্তী। তাঁর এ অক্ষরজ্ঞানের পাঠশালায় প্রতিদিন আসে এলাকার ছিন্নমূল অনেক শিশু । তিনি শুধু শিশু শিক্ষায়ই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। অক্ষরজ্ঞানহীন বয়স্কদেরও সাক্ষরতা শেখাচ্ছেন। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নিজ উদ্যোগে অক্ষর দিয়ে স্বাক্ষর শিখিয়ে আলোকিত করছেন বাউফল শহরের দাশপাড়া ও কাঁঠালবাড়িয়া এলাকার শিশু ও বয়স্কদের। এসব এলাকার লেখাপড়া না জানা অভাবী বাবা-মায়ের সন্তানদের বইয়ের আলো ছড়াতে মৃত্যুঅবধি তিনি এ কাজটি করবেন বলে জানান। শোভা রানীর কোন প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট নেই, শিক্ষাগত যোগ্যতা মাত্র সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত । তবুও তিনি এলাকায় একজন গুণী শিক্ষক।

বাউফল পৌরসভাস্থ ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শোভা রানী। চার ছেলে আর এক মেয়ে সন্তানের জননী তিনি। স্বামী নিরঞ্জন চক্রবর্তী মারা গেছেন ২ বছর আগে। বিয়ের পর শখের বশে শোভা রানী এলাকার ছোট্ট শিশুদের লেখাপড়া শিখিয়ে আনন্দ পেতেন। তাঁর সেই দিনের শখ আজ নেশায় পরিণত হয়েছে। শহরের দাশপাড়া ও কাঁঠালবাড়িয়া এলাকার হতদরিদ্র পরিরারের সন্তানরা তাঁর পাঠশালার ছাত্র। যাদের অভিভাবক পেশায় রিকশাচালক, ঋষি, ঠেলাগড়ি কিংবা ভ্যানচালক। এসব প্রান্তিক আয়ের অভিভাবকের সিংহভাগ সন্তান থাকে স্কুলবিমুখ। সারাদিন ওইসব পরিবারের সন্তান লেখাপড়ার পরিবর্তে দৌড়ঝাঁপ আর খেলাধুলা করে সময় পার । কিন্তু শোভা রানী হতদরিদ্র পরিবারের শিশুদের সেই জীবন চিত্র পাল্টে দিয়েছেন। নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন বাড়ির উঠানে উঠানে বসান পাঠশালা। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে অভিভাবককে বুঝিয়ে ছোট্ট শিশুদের নিয়ে আসেন তাঁর পাঠশালায়।

সূর্য ওঠা সকাল কিংবা পড়ন্ত বিকেলে শোভা রানীর স্কুলে ঘন্টা বাজাতে হয় না। তবুও শিশুরা দল বেঁধে চলে আসে শোভা দিদির স্কুলে। শোভার তাগিদে ওই এলাকার শিশুরা অক্ষর চিনতে শুরু করে, যাচ্ছে স্কুলেও। এ সফলতা শুধুই শোভা রানীর। একক প্রচেষ্টায় নিজ উদ্যোগে এ সমাজের জন্য যে অবদান রেখে যাচ্ছেন শোভা, সে খবর হয়ত কেউ রাখে না। শোভার স্বপ্ন একদিন ওই গ্রামের শিশুরা আর নিরক্ষর থাকবে না। সবাই স্কুলে যাবে, শিখবে লেখাপড়া।

শোভা রানীর পাঠশালার নির্ধারিত কোন স্থান নেই। তাই পাঠশালা ঘুরে বেড়ায় এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ির উঠানে। কখনও কারও পরিত্যক্ত ঘরে চলে এর কার্যক্রম।

-কামরুজ্জামান বাচ্চু

বাউফল থেকে

প্রকাশিত : ২১ মার্চ ২০১৫

২১/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: