আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আড়াল সরিয়ে

প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৫
  • ক্যাথেরিন ম্যানস্ফিল্ড
  • অনুবাদ : সামিয়া রুবাইয়াত হোসেইন

ক্যাথেরিন ম্যানসফিল্ড নিউজিল্যান্ডের প্রখ্যাত লেখক। তাঁর জন্ম ১৮৮৮ তে এবং মৃত্যু ১৯২৩ সালে। ক্যাথেরিন ম্যানসফিল্ড তাঁর ছদ্মনাম। তিনি মূলত একজন আধুনিক ছোটগল্প লেখক। তিনি ১৯০৮ সালে দেশ ছেড়ে গ্রেট ব্রিটেনে যান যেখানে ডিএইচ লরেন্স, ভার্জিনিয়া উলফ্্ প্রমুখ প্রখ্যাত লেখকের সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঞযব এধৎফবহ চধৎঃু, ঞযব উধঁমযঃবৎং ড়ভ ঃযব খধঃব ঈড়ষড়হবষ, ঞযব ঋষু ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ম্যানসফিল্ড টিউবারকিউলিসিস রোগে আক্রান্ত হন যার ফলে নিউজিল্যান্ডে ফিরে আসা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তিনি মাত্র ৩৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন

সুন্দর এই সকালে কারোর মন খারাপ হবে একথা ভাবাই যায় না। কিন্তু এডনার ভীষণ মন খারাপ। বাড়ির জানালাগুলো সব খোলা। ভেসে আসছে পিয়ানোর সুর। কারোর আঙ্গুল পিয়ানোর রিডে খেলা করে যাচ্ছে। সূর্যের আলোয় বাগানের গাছগুলো সতেজ, স্বাস্থ্যবান। বসন্তের ফুলে সেজেছে ওরা। পাশের রাস্তায় কিছু উঠতি তরুণ শিস বাজাচ্ছে, কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছে। পথচারীরা এত দ্রুত হেঁটে যাচ্ছে যেন ওদের সবারই ভীষণ তাড়া, মনে হচ্ছে এক্ষুণি বুঝি দৌড়াবে সবাই। হঠাৎ রাস্তায় পিচ রঙের ছাতা মাথায় দিয়ে একজনকে আসতে দেখা গেল। এ বছরে আর কাউকে এখনও ছাতা মাথায় দিতে দেখা যায়নি।

এডনাকে দেখে অবশ্য মনে হচ্ছে না যে ওর এতটা মন খারাপ। আঠারো বছরের এক তরুণী চাইলেই চেহারায় কষ্ট আর ক্লান্তির ছাপ ফেলতে পারে না। এডনা সত্যিই ভারি সুন্দর। ওর গাল, ঠোঁট, ভাষাময় চোখ, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চেহারা অপরূপ সৌন্দর্যের বার্তা বয়ে আনে। ওর পরনে এখন নীল একটা ফ্রক, মাথায় শস্যফুলে সাজানো বসন্তের টুপি। হাতে কালো চামড়ায় বাঁধানো একটা বই। হয়ত বইটার কালো মলাট ওকে বিষণœ করে তুলছে। তবে এটা ঠিক বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ লাইব্রেরির অধিকাংশ বইই এমন কালো মলাটে বাঁধানো থাকে। এই যে এডনা বই হাতে লাইব্রেরি যাচ্ছে সত্যি বলতে কি এটা একটা বাহানা। ও আসলে বাড়ির বাইরে কিছুটা সময় একা থাকতে চাইছে। কারণ যা ঘটেছে তা নিয়ে ওকে গভীরভাবে ভাবতে হবে। একইসঙ্গে এ অবস্থায় কি করা উচিত তাও ঠিক করা জরুরী।

এডনার জীবনে খুব দুঃখজনক একটা ঘটনা ঘটেছে। গতরাতে থিয়েটারে ও আর জিমি পাশাপাশি ড্রেস সার্কেলে বসে নাটক দেখছিল। চকলেট খেয়ে বাক্সটা জিমির হাতে ফেরত দিতে গিয়ে কোন পূর্বাভাস ছাড়াই এডনা হঠাৎ করে উপলব্ধি করল সে নাটকের একজন অভিনেতার প্রেমে পড়েছে। ও ... এভাবে!

ওই অনুভূতিটা একেবারেই অন্যরকম ছিল। এর আগে কখনও ওর সঙ্গে এমন হয়নি। সেটা অবশ্য কোন সুখানুভূতি ছিল না, এমনকি তেমন একটা উত্তেজনাকরও নয়। বলা যায় এক ধরনের আশাহীন, কষ্টকাতর, শূন্য অনুভূতি কাজ করছিল মনের ভেতর। ও নিশ্চিত জানে ওই অভিনেতা যদি একবার ডাকে তবে ও সব ভুলে ওর সঙ্গে চলে যাবে। জিমি এখন ওদের গাড়ি পার্ক করতে গেছে। এডনা জিমিকে এত ভালবাসত অথচ ওকে, এমনকি বাবা-মা, পরিবার পরিজন, ওদের বাড়ি, অসংখ্য বন্ধু-বান্ধব সব ফেলে সে ওই অভিনেতার ডাকে তার সঙ্গে যে কোন জায়গায় চলে যেতে পারে। সত্যি কত বদলে গেছে ওর মন। এডনা নিজেকেই যেন চিনতে পারছে না।

কিভাবে এ সমস্যার সূত্রপাত হলো সে কথায় ফিরে যাওয়া যাক। গতরাতের মঞ্চনাটক সকলের হর্ষধ্বনির মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছিল। নাটকের এক পর্যায়ে নায়ক অন্ধ হয়ে গেল। কি ভয়ানক মুহূর্ত। এডনা ওই নায়কের দুঃখে এত কাঁদল যে ওকে নাক মোছার জন্য জিমির রুমাল ধার করতে হলো। ও যে কেঁদেছে এতে অবশ্য অবাক হওয়ার কিছু ছিল না কারণ পুরো সারিতেই তখন কান্নাকাটি চলছে। এমন কি পুরুষেরাও না কাঁদার ভান করতে করতে নাক চোখ মুছছে। জিমি, যার রুমালও ধার করেছে, সে হাত ধরে সান্ত¡নার সুরে বলল, কেঁদো না লক্ষ্মী মেয়ে। এডনা জিমির কথা রাখতে চকলেটের বাক্স থেকে চকলেট নিয়ে তা আবার তাকে ফেরত দিল।

ঠিক তখনই নায়ক একা স্টেজে এলো। গোধূলি বেলার দৃশ্যপটে সে শূন্য ঘরে বসে আছে। বাইরে রাস্তায় ব্যান্ড বাজছে, মানুষের কোলাহল তার কানে আসছে। খুব কষ্ট করে হাতড়ে হাতড়ে নায়ক জানালার কাছে গেল। খোলা জানালার পর্দা ধরে দাঁড়াল। শেষবেলার সূর্যের একটা রশ্মি ওর দৃষ্টিহীন চোখে এসে পড়ল। বাজনার শব্দ ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে ...

ঠিক তখনই... সত্যিই... সহজভাবে বলতে গেলে ...বাস্তবিক অর্থে সেই মুহূর্তেই এডনা বুঝল ওর জীবন আর আগের মতো নেই। জিমির কাঁধের ওপর থেকে সে তার হাত সরিয়ে নিল। চিরতরে জিমির দেয়া চকলেট বাক্সের মুখ বন্ধ করে দিল। নাটকের অভিনেতার জন্য তার ওই অনুভূতি শেষ পর্যন্ত ভালবাসাই ছিল!

এডনা আর জিমি এনগেজড। প্রায় দেড় বছরের সম্পর্ক আর জনসমক্ষে এসেছে এক বছর হলো। বোটানিক্যাল গার্ডেনের সবুজ ঘাসে বসে চা-বিস্কিট খেতে খেতে একদিন ওরা জীবনের সবচেয়ে জরুরী সিদ্ধান্ত নিল। ঠিক করল শীঘ্রই বিয়ে করবে। এই সিদ্ধান্তে দু’জনেরই সম্মতি ছিল। খানিক আগেও এডনা ওদের এই সম্পর্কের প্রতি বিশ্বস্ত ছিল।

কিন্তু এখন সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এডনার ভয় হলো যে জিমি হয়ত পুরো ব্যাপারটা বুঝতে পারবে না। ও হাসার চেষ্টা করল যদিও সেই হাসিকে কেমন কান্নার মতো দেখাল। আজ সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে হিল স্ট্রিটের দিকে এগুলো। ভাবল বিয়ের পর যদি এই উপলব্ধি হতো যে ও জিমিকে কখনও সেইভাবে ভালবাসেনি তবে ব্যাপারটা আরও বেশি কষ্টের হতো। এখন হয়ত জিমি সামলে নিতে পারবে। অবশ্য নিজেকে ধোঁকা দিয়ে লাভ নেই। ও জানে জিমি কখনও ওকে ভুলতে পারবে না। প্রথম ভালবাসা কি ভোলা যায়? ওর জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে, মন ভাঙার যে কষ্ট ও পাবে তা কখনও ভোলার নয়। তবে ও এখনও তরুণ। সময় হয়ত সব কিছু ঠিক করে দেবে। কিন্তু সময় কি সত্যিকার ভালোবাসাকে মুছতে পারে? হয়তো চল্লিশ বছরে গিয়ে জিমি ঠা-ামাথায় ওর বিষয়টি নিয়ে ভাবতে পারবে। কিন্তু এডনার নিজের জন্যই বা কি ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে ও ভেবে উঠতে পারল না।

এডনা হাঁটতে হাঁটতে পথের উঁচু অংশে এসে পৌঁছল। সেখানে একটা গাছে কচি সবুজ পাতা এসেছে। গাছটার ছোট ছোট ডালগুলো সাদা ফুলে ঝুঁকে আছে। গাছের ছায়ায় একটা বেঞ্চে বসে ও কনভেন্টের ফুলের বেডগুলো দেখছিল। সবচেয়ে কাছের বেডটা লক্ষ্য করল। সেখানে সতেজ ফুলের বাহার। ফুলগুলো পাপড়িতে নীল ডোরা তাছাড়া আছে ঝিনুকের মতো গুল্মবিশেষ, অপূর্ব নকশাদার। কনভেন্টের পায়রাগুলো আকাশে উড়ছে। সিস্টার এগনেস ক্লাসে পড়াচ্ছেন। তার কণ্ঠস্বর এখান থেকেই শোনা যাচ্ছে। সেই ভরাট কণ্ঠস্বর যেন চারদিকে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

এডনা যদি জিমিকে বিয়ে না করে তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে কাউকেই বিয়ে করবে না। প্রখ্যাত ওই অভিনেতাকে বিয়ে করা সম্ভব হবে না একথা ও ভালভাবেই জানে। একথা ভাবাও অবান্তর। ও নিজেও চায় না এমন হোক। ওর ভালবাসা এত গভীর যে, নীরবে থাকাই শ্রেয়। ও জানে এই ভালবাসা ওকে সবসময় কষ্ট দেবে। এ ধরনের ভালবাসা কখনও পূর্ণতা পায় না শুধু যন্ত্রণা দেয়। এডনার মনে হলো জিমি সব শুনে কেঁদে ফেলবে। বলবে, এডনা তোমার মন কি আবার বদলাতে পারে না? আমি কি আর আশা করতে পারি না?

কি ভীষণ কষ্টকর এর উত্তর দেয়া। এডনা বলার চেষ্টা করবে, না জিমি তা আর সম্ভব নয়।

এডনা মাথা নিচু করে বসেছিল। ছোট্ট একটা ফুল টুপ করে ওর কোলে এসে পড়ল। কনভেন্টের ক্লাসরুম থেকে আবার সিস্টার এগনেসের গলা শোনা গেল। অনেকটা আর্তনাদের মতো শোনাল, আহ! না!Ñ বার বার তার কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।

পুরো ভবিষ্যত যেন এডনার সামনে ভেসে উঠল। ও পরিষ্কার বুঝতে পারছে কি হতে যাচ্ছে। যা হওয়ার তা তো হবেই এটাই স্বাভাবিক। ও আর কাউকে বিয়ে করবে না। হয়ত কোন কনভেন্টে সিস্টারের জীবন বেছে নিবে। ওর বাবা-মা ওকে এই সিদ্ধান্ত থেকে ফেরানোর প্রাণপণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হবে।

জিমির মানসিক অবস্থা কি হবে তা ও ভাবতে চায় না। কেন পরিবারের কেউ এডনার মনের কথা বুঝতে পারছে না? অবুঝের মতো আচরণ করে ওরা সবাই তার কষ্ট আরও বাড়াচ্ছে। এ পৃথিবী সত্যি অনেক বেশি নির্মম। ভাবছে কনভেন্টের জীবন বেছে নিলে ওর সব গয়না আর জামাকাপড় ও কাছের বন্ধুদের দিয়ে দেবে। বন্ধুরা ভেঙে পড়লেও শান্তভাবে তাদের বোঝাবে। এডনা জিমিকে একটা বাক্স পাঠাবে। তার মধ্যে থাকবে অনেক সাদা ফুল। কোন নাম লিখবে না। না না... লিখবে। সাদা রুমালে প্যাঁচানো ফুলগুলোর নিচে থাকবে এডনার সঙ্গে তোলা জিমির শেষ ছবি। ছবির পেছনে লেখা থাকবে একটা লাইন,

ভুলে যাচ্ছি পৃথিবীকে, পৃথিবীও ভুলে যাচ্ছে আমাকে।

এডনা এখন শান্তভাবে গাছগুলোর নিচে বসে আছে। পরম সম্পদের মতো অথবা কোন অবলম্বন ভেবে আঁকড়ে ধরে আছে কালো মলাটের বইটা। সিস্টার এনজেলার কথা মনে পড়ছে। আচ্ছা কনভেন্টে সিস্টার হয়ে গেলে কি ওর লম্বা চুলগুলো কেটে ফেলতে হবে? একটা চুলের গোছা কি জিমির কাছে পাঠানো যাবে? মনে হলো নীল গাউন পরা মাথায় সাদা স্কার্ফ জড়ানো সিস্টার এনজেলাকে চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে। তার চোখে অপার্থিব দৃষ্টি এবং সেইসঙ্গে আশ্চর্য এক বিষণœতা। মুখে বাচ্চাদের শুভকামনা জানানোর জন্য একটুকরো হাসি। হে ঈশ্বর! সিস্টার এনজেলা ঠা-া, মোমের গন্ধভরা করিডর ধরে নীরবে হেঁটে যেত। একবার কাউকে বলতে শুনেছিল যে যৌবনে সিস্টার নাকি ভারি সুন্দর ছিল। তারপর ভালবাসার করুণ পরিণতিই তাকে এ জীবনে টেনে এনেছে। বলতে শুনেছে... একজন মানুষ ছিল যে এনজেলাকে ভালবাসত, তার জীবনও নষ্ট হয়ে গেছে...।

এডনা দেখল বড় একটা ভোমরা ছোট ডানা মেলে উড়ে এসে ফুলের ওপর বসল। কোমল পাপড়িগুলো হেলেদুলে ঘাড় নাড়িয়ে তাকে স্বাগত জানাল। ভোমরা যখন উড়ে গেল ফুলটাকে দেখে মনে হলো সে খুশিতে ডানা ঝাপটে হাসছে। কি সুখী, নিরুদ্বেগ মনে হচ্ছে ফুলটাকে।

মনে পড়ে একবার শীতের রাতে সিস্টার এনজেলা তার ঠা-া বিচানায় শুয়ে বাইরে থেকে কারও কান্নার শব্দ শুনতে পেল। শব্দটা বাইরে বাগান থেকে আসছিল। হয়ত কোন বেড়াল ছানা বা ভেড়ার বাচ্চা হবে বা অন্য কোনো ছোট্ট প্রাণী, মনে হয় পথ হারিয়ে ফেলেছে। সিস্টারের ঘুম ভেঙে গেল। কাঁপতে কাঁপতে বাইরে বেরিয়ে বাচ্চাটাকে ঘরে নিয়ে এলো। কিন্তু পরদিন সকালে ঘণ্টা বাজার পরেও তাকে উঠে আসতে দেখা গেল না। সিস্টার এনজেলা তখন জ্বরে বেঘোর... প্রলাপ বকছে... সে আর কখনও সেরে উঠল না। তিনদিনেই সব শেষ। নানদের জন্য সংরক্ষিত সিমেট্রির একটা অংশে তাকে সমাধিস্থ করা হলো। তার সমাধিতে কাঠের ছোট একটা ক্রুশ লাগান হলো। শান্তিতে ঘুমাল... ঘুমিয়ে থাকল সিস্টার এনজেলা।

এখন সন্ধ্যা। এডনা মনের চোখে দেখল দু’জন বৃদ্ধ মানুষ একে অপরের ওপর ভর করে ধীরে ধীরে সমাধিস্থলে আসল। হাঁটু ভেঙে বসে কেঁদে উঠল, ‘আমাদের মেয়ে! সোনামণি আমাদের।’ এরপর এলো আরেকজন মানুষ। কালো পোশাক পরা। ধীর পায়ে হেঁটে এলো। কিন্তু যখন মানুষটা তার মাথা থেকে টুপি সরাল এডনা আঁতকে উঠল মানুষটার চুল সম্পূর্ণ সাদা। জিমি! এত দেরি করে এলো কেন? এডনা দেখল জিমির চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছে। এত দেরি করে কেন এলো? চার্চের আঙ্গিনায় শীতের পাতাঝরা গাছগুলো কেমন দুলছে। জিমি কাঁদছে, ওর জন্য কাঁদছে। তার মানে কি ওটা ওর সমাধি!

এডনার হাত থেকে কালো মলাটের বইটা পড়ে গেল ও কল্পনায় যে ভবিষ্যত দেখছিল সেখান থেকে বাস্তবে ফিরে এলো। অজান্তেই উঠে দাঁড়াল, প্রচ- ভয়ে বুক কাঁপছে। নিজেই বলল, না এখনও দেরি হয়নি। সবটাই ছিল একটা ভুল, ভুল আবেগ আর ভয়ানক ভবিষ্যত কল্পনা। ওহ! ওই সাদা চুল! কেমন করে ও এতবড় ভুল করতে পারে? এমন জীবনের কথা ও ভাবতেই পারে না। এখনও সে তরুণ আর কেউ তার মনে কি ভাবনা চলছিল সেই কথা জানে না। ও আর জিমি এখনও পরস্পরের সঙ্গে সুখী জীবন কাটাতে পারে। ওরা যে ঘর বানানোর স্বপ্ন দেখছে তা এখনও তৈরি হতে পারে। যে ছোট ছেলে শিশুটি ওর আর জিমির গাছ লাগান দেখে হাসবে সে এখনও ওদের ঘরে জন্ম নিতে পারে। ছেলেটার ছোট একটা বোনও হয়ত জন্ম নেবে...। এডনা তার দু’হাত দু’দিকে প্রসারিত করল যেন তার ভালবাসার সন্তান বাতাসে উড়ে ওর কাছে আসবে, বাগানে খেলবে।

ওই সবুজ গাছ, নীল আকাশের বুকে সাদা পায়রার ঝাঁক, কনভেন্টের ছোট জানালা সব নতুন মনে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ও বুঝতে পারছে এই প্রথমবারের মতো তার জীবনে এমন কিছু ঘটছে যা আগে সেভাবে অনুভব করেনি। ও জানে এই অনুভূতির নাম ভালবাসা এবং শুধুুই ভালবাসা।

প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৫

২০/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: