কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ক্যাম্পাসে আড্ডা হাসি আর গানে সারাদিন

প্রকাশিত : ১৫ মার্চ ২০১৫

কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই... আজ আর নেই... কোথায় হারিয়ে গেলো সোনালী বিকেলগুলো সেই... আজ আর নেই। এই গানটির মর্মকথা বুঝেছেন যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশালাকার ক্যাম্পাসের সুন্দর দিনগুলো পার করে এখন অবস্থান করছেন কর্মক্ষেত্রে। কিন্তু যারা এখনও ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী, তারা যেন খুব ভালভাবেই তাদের মায়াময় দিনগুলো পারি দিচ্ছেন স্বপ্নের মতো করে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাজীবন মানেই ক্লাস, এ্যাসাইনমেন্ট, গ্রুপস্টাডির মতো আরও বহু কাজের সমাহার। কিন্তু এগুলো যদি সবই আনন্দ আর হাসি-গানে পার করা যায়, তাহলে তো কথায় নেই। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নামটি সামনে এলেই অনুভবের ছায়ায় ভেসে ওঠে, হিম বাতাসের সঙ্গে মনকার। বাহারী ফুলের মিষ্টি সুবাস, সবুজ বাগানের সুন্দর সারির বৃহদাকার বৃক্ষগুলোর নিচে বসে আড্ডার দিনগুলো, সুবিশাল প্যারিস রোডসহ আরও কত কি!

ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করলে প্রথমেই চোখে পড়বে স্বাধীনতা প্রতীক ‘শাবাশ বাংলাদেশ’। যাকে দেখে মনে পড়ে যায় মহান বিজয় দিবসের সুখের দিনগুলোর কথা। এই ভাস্কর্যের নিচে বসে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অনেক দূরের অতীত ভাবতে ভাবতেই কেটে যায় দিনের অনেকটা সময়।

আরও একটু সামনে এলেই দাঁড়াতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় গোলচত্বরে। যেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন মহান বুদ্ধিজীবী পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারি অন্যতম সেনানায়ক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ও তৎকালীন প্রক্টর ড. মোহাম্মদ শামছুজ্জোহা। যার নামটি এলেই মনে পড়ে যায় তাঁর অমর বাণীটি, ‘কোন ছাত্রের গায়ে গুলি লাগার আগে আমার গায়ে যেন গুলি লাগে।’ তাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্মরণ করে শ্রদ্ধাভরে।

এই গোলচত্বর ও প্রশাসনিক ভবনের সামনেই অবস্থিত ক্যাম্পাসের জুবেরি টাওয়ার। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এখানে এলেই তাদের আনন্দের বাঁধ যে আর ধরে রাখা যায় না। কারণ জুবেরি টাওয়ারটি এখানে স্থাপন করা হয় ঠিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তিতে। এখানকার কারুকাজ আর আবহমান বাংলার নানা সব দৃশ্য দেখে শিক্ষার্থীদের সকাল দুপুর যে কিভাবে পার হয়ে যায়, তা বলায় যেন কঠিন হয়ে পড়ে। যা তাদের পড়াশোনার অংশও বটে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের সময়কে সব সময় পার করতে চায় শিক্ষা আর আনন্দের মাঝে। তাই তারা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার মাঝে গান আর গ্রুপস্টাডির মতো কঠিন কাজগুলো করে ফেলে খুব সহজে। গ্রুপস্টাডিতে উপস্থিত সকলকে একে একে বলার সুযোগ দেয়া হয়। তাদের মতামত জেনে অনেক দুঃসাধ্য বিষয় সহজেই সবার আয়ত্তে এসে যায়। পড়াশোনা করতে যখন আর ভাল লাগে না, তখন বসে যায় গানের আসর। গিটারের তারের বীণ আর গলার মিষ্টি সুরের আবেশ যেন বন্ধুদেরসহ পাশের সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয় ভালবাসার বিজয় পরশ। বন্ধুদের গান শুনতে শুনতে দুপুর কখন যে বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা আনে, তা কারোরই জানা থাকে না। অনেক সময় আবার সন্ধ্যা থেকে রাতেরও আগমন ঘটে যায় এই আসরবাসীদের মাঝে।

বিশ্ববিদ্যালয় মমতাজউদ্দিন কলা ভবনের সামনে ও পিছনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসে থাকে পড়াশোনার সঙ্গে গানের বৃহৎ আসর। এই ভবনের শিক্ষার্থীরা ক্লাসের ফাঁকে কিংবা বিকেল বেলা জমিয়ে তোলে তাদের মনের আসর। আসলেই যেন তারা তাদের মনের টানেই বা মনের দ্বারা তাড়িত হয়ে এই আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টি করতে থাকে। কেননা মনের দ্বারা পরিচালিত না হলে মানুষ তার জীবনে অনেক সময় সামনে এগিয়ে যেতে পারে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ক্যাম্পাসের আইন ও বিচার বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোত্তালিব হোসেন বাঁধন বলেন, ‘আমরা সব সময় চাই পড়াশোনাকে উপভোগ করতে। আর এ জন্য আমরা সর্বদা আনন্দের মাঝে থাকার চেষ্টা করি। এ জন্য একটু গান বাজনা নিয়ে থাকি।’

এছাড়াও গানের সবচেয়ে বড় আসর বসে বিশ্ববিদ্যালয় রাকসু ভবন চত্বর, ইসমাঈল হোসেন সিরাজী ভবন চত্বর, কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনসহ আরও অনেক স্থানে।

জাকির হোসেন তমাল

প্রকাশিত : ১৫ মার্চ ২০১৫

১৫/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: