মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সাফল্যের চাবিকাঠি

প্রকাশিত : ১৩ মার্চ ২০১৫

জীবনের একদম প্রথমদিকে সংবেদনশীল আদর যতœ স্নেহ মমতায় যারা বেড়ে ওঠে, বড় হয়ে তাদের সেই অভিজ্ঞতা কি অম্লান থাকে, নাকি তা ফিকে হয়ে যায়? এক নতুন সমীক্ষায় দেখা গেছে- শৈশবের প্রথম তিন বছর এমন স্নেহ মমতা পেলে ব্যক্তির সামাজিক যোগ্যতা যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি একাডেমিক ক্ষেত্রেও সে সাফল্য অর্জন করে। সেটা শুধু শৈশবে ও কৈশোরেই নয়, প্রাপ্তবয়ষ্ক জীবনেও ঘটে।

দারিদ্র্যের মধ্যে জন্ম নেয়া ও বিভিন্ন ধরনের জাতিগত ও বর্ণগত পটভূমি থেকে আগত এবং জন্ম থেকে শুরু করে ৩২ বছর পর্যন্ত পরিবীক্ষণ করা হয়েছে- এমন ২৪৩ ব্যক্তির তথ্যাবলীর ওপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় এ উপসংহার টানা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত এই সমীক্ষার ফলাফল ছাপা হয়েছে ‘চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট’ সাময়িকীতে।

গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী লি র‌্যাবি জানান, এ সমীক্ষায় দেখা গেছে জীবনের প্রথমদিকে সন্তানদের যতখানি সংবেদনশীল পরিচর্যা ও আদর-সোহাগ দেয়া হচ্ছে, তা পরিণত বয়সে তার সফল সামাজিক ও শিক্ষাগত বিকাশে স্থায়ী ও চলমান ভূমিকা রাখে। সংবেদনশীল ও সযতœ পরিচর্যা বলতে বোঝায় শিশুর সঙ্কেতে বাবা-মা কতটা যথাযথভাবে ও দ্রুততার সঙ্গে সাড়া দেয়, শিশুর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ায় কতটা ইতিবাচকভাবে সংশ্লিষ্ট হয় এবং শিশুর চারপাশের জগতকে জানার ও সন্ধান করার কতটা নিরাপদ ভিত্তি যোগায়।

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, গবেষকরা ২৪৩ ব্যক্তি সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ গবেষণা চালান। এদের জন্ম থেকে ৩২ বছর বয়স পর্যন্ত নানাবিধ তথ্য ও উপাত্ত সংরক্ষণ করা হয়। এদের জীবনের প্রথম তিন বছরে মা ও শিশুর মধ্যকার মিথষ্ক্রিয়া সম্পর্কিত পর্যবেক্ষই চারবার সংগ্রহ করা হয়। শৈশব-কৈশোরের বিভিন্ন বয়সে তারা পিয়ার গ্রুপগুলোতে এবং আদর্শমানের পরীক্ষায় কেমন করছে তার ওপর শিক্ষকরা প্রতিবেদন দিয়েছেন। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা তাদের ২০ এর কোটায় বয়সে ও ত্রিশের কোটার প্রথমদিকে সাক্ষাতকার সম্পন্ন করেন- সেখানে তারা তাদের প্রেমিক-প্রেমিকার সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করেছে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের বিভিন্ন অর্জনের কথা জানিয়েছে।

সমীক্ষায় লক্ষ্য করা গেছে যে, জীবনের প্রথমদিকে অধিকতর সংবেদনশীলতার সঙ্গে স্নেহ মমতা পরিচর্যা লাভকারীরা প্রথম তিন দশকে সামাজিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে অধিকতর ভাল করেছে। র‌্যাবির মতে, সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে জীবনের প্রথম কয়েক বছরে বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানদের অভিজ্ঞতা তার সামাজিক ও একাডেমিক ক্রিয়াকলাপের বিকাশে অনন্য ভূমিকা পালন করে। সেটা শুধু জীবনের প্রথম দুই দশকেই নয়, প্রাপ্তবয়স্ক জীবনেও। এ থেকে বোঝা যায় যে, বাবা-মা সন্তানের সম্পর্কের প্রথমদিকে ভাল বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়া যেতে পারে। কারণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ও শিক্ষাজীবনে ব্যক্তির সাফল্য সুস্থ সমাজের ভিত্তি রচনা করে এবং তা থেকে ব্যক্তি পরিবার ও সামগ্রিকভাবে সমাজ লাভবান হয়। শিশুর জীবনের প্রথম কয়েকটি বছর সংবেদনশীল সেবা যতœ পরিচর্যা দেয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ সময়টা হলো সেই পর্যায়, যখন মস্তিষ্কের ভবিষ্যত বিকাশের ভিত্তি রচিত হয়। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ড. র‌্যাবি বলেন, মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলো তখন তৈরি হয় এবং কোষগুলোর মধ্যে নতুন নতুন সংযোগ গড়ে ওঠে। আর এর সবকিছুই বাইরের পরিবেশের দ্বারা প্রভাবিত হয়। এটা কোন স্থির জৈবিক প্রক্রিয়া নয়। সুতরাং শিশুরা জীবনের প্রথমদিকে কী ধরনের পরিচর্যা লাভ করে, তা তার মস্তিষ্ক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই দেখা যায়, বাবা-মার সংবেদনশীল সেবা যত্ন ভবিষ্যতে সন্তানের শিক্ষাগত ও পেশাগত জীবনে সাফল্যের সোপান রচনা করে থাকে।

সূত্র : লাইফ সায়েন্স

প্রকৃতি ও বিজ্ঞান

প্রকাশিত : ১৩ মার্চ ২০১৫

১৩/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: