মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

‘অতশত স্বপ্ন নেই, শুধু স্যান্ডেল কারখানা করার ইচ্ছা’

প্রকাশিত : ৭ মার্চ ২০১৫

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে জীবন সংগ্রামে এগিয়ে যেতে মরিয়া জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার অপু দাস। স্বপ্নের কথা বলতেই মুচকি হাসে অপু। তিনি বলেন, ‘আমার অতশত স্বপ্ন নেই। শুধু একটা স্যান্ডেল তৈরির কারখানা করার ইচ্ছা আছে’। সমাজের কাছে অপুর এই ইচ্ছাটা অতি তুচ্ছ হলেও তাঁর জীবনের বড় স্বপ্ন। তবে অপুর মনে যে স্বপ্ন তা আদৌ পূরণ হবে কি? সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। ২০ বছর বয়সী অপু দাস পেশায় মুচি। তিনি জুতা, স্যান্ডেল সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কাক ডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে দোকানে আসেন। রাত্রি ৭টা ৮টা পর্যন্ত কাজ করে প্রতিদিন বাড়ি ফিরে। প্রতিদিন ২ থেকে ৩’শ টাকা রোজগার করেন জুতা সেলাইয়ের কাজ করে। উপার্জনের টাকা তুলে দেন তাঁর বাবা-মার হাতে। দেখে অনেকেই মনে করতে পারেন এটি একটি কোন সুস্থদেহধারী মানুষের উপার্জনের চিত্র। আসলে বাস্তবে কী তাই! অপু দাস জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। তিনি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না। শারীরিকভাবে আকারেও ছোট। দুই ক্র্যাচের ওপর ভর করে চলাফেরা করে জীবনের কাছে হার না মানা এই যুবক। অপু দাস গুরুদাসপুর উপজেলার হালদারপাড়া এলাকার ধীরেন দাসের ছেলে। তাঁর বাবা পেশায় নাপিত। গুরুদাসপুর থানা মোড়ে সেলুনের দোকানে কাজ করেন তিনি। প্রতিবন্ধী অপুর ব্যাপারে জানতে চাইলে তাঁর পরিবার জানায়, তারা সাধ্যমতো ডাক্তারকে দেখিয়েছে। ছোটবেলায় যে অবস্থা ছিল অপুর তাতে অনেকটাই আশঙ্কায় ছিলেন তাঁর মা-বাবা। বলা যায় অনেকটা অভাব অনটনের কারণে অপুর উন্নত চিকিৎসা, লেখাপড়া সেভাবে হয়ে ওঠেনি। তবে বহু তদবির করে গুরুদাসপুর উপজেলা সমাজসেবা থেকে দুই মাস অন্তর অন্তর ৩’শ করে টাকা পান তিনি। এখন অবশ্য ২’শ টাকা বাড়িয়ে ত্রৈমাসিক ৫’শ টাকা ভাতা পাচ্ছেন প্রতিবন্ধী অপু দাস।

এ ব্যাপারে প্রতিবন্ধী অপু দাস বলেন, বাবার বন্ধুর কাছে মুচির কাজ শিখে তিন মাস ধরে নিজেই দোকান দিয়েছি। গুরুদাসপুর বাজারে এমপি মোজাম্মেল হকের বাস ভবনের সামনে এক কোণায় বসেন প্রতিদিন।

Ñকালিদাস রায়, নাটোর থেকে

প্রকাশিত : ৭ মার্চ ২০১৫

০৭/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: