কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

তেতাল্লিশ বছর পরও বরিশালে মুক্তিযোদ্ধা রব পরিবার নিয়ে অন্যের বারান্দায়

প্রকাশিত : ৭ মার্চ ২০১৫
  • দেশ স্বাধীন করলেও তাঁর ভাগ্যে জোটেনি আশ্রয়

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদারদের সঙ্গে একাধিক সম্মুখযুদ্ধে বীরত্বের ভূমিকা রেখে এমএ রব স্বাধীনতার ৪৩বছর পর আজও অপরের বাড়িতে আশ্রিত হিসেবে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন।

বঙ্গবন্ধু প্রেমিক বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রব (৬০) জানান, একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাঁকে পুনর্বাসনের জন্য এগিয়ে এলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া সহযোগিতা ছাড়া কোন কিছুই গ্রহণ করবেন না বলে ওইসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

একান্ত আলাপনে মুক্তিযোদ্ধা ও আনসার কমান্ডার এমএ রব বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের উত্তাল মুহূর্তে (২১ অক্টোবর সন্ধ্যায়) গৌরনদীর বাটাজোর নামক স্থানে এ্যাম্বুসে থাকা পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা নিজাম বাহিনীর সম্মুখযুদ্ধ শুরু“হয়। সারারাত ওই যুদ্ধের পর ভোরে যুদ্ধস্থানে যাওয়ার পরে দেখতে পাই সাতজন পাকসেনা রাতের যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। রাতের যুদ্ধে পরাস্ত হয়ে ভোরে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় গভীর জঙ্গল থেকে অস্ত্রবিহীন তিনজন পাকসেনা সুবেদার শরীফ খান বেলুচী, সিপাহী নাসির খান বিহারী ও সিপাহী ফিরোজ খানকে আমি হাতেনাতে আটক করেছিলাম। পরে তাদের স্বীকারোক্তি মতে বাটাজোর সিএ্যান্ডবি রোডের কাছ থেকে তিনটি ব্যাটাগান এবং কিছু গুলি উদ্ধার করেছিলাম।

তিনি আরও বলেন, আনসার বাহিনীর একজন দক্ষকর্মী হিসেবে যুদ্ধ শুরু“ হওয়ার পরবর্তী সময় থেকে শেষপর্যন্ত আমি ৯টিস্থানে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। আবেগআপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, জীবন বাজি রেখে সেদিন পাকসেনাদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধ করে বিজয় পতাকা ছিনিয়ে আনলেও স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও আজও আমি রয়েছি অন্যের ঘরে আশ্রিত। ধানডোবা গ্রামের তাঁর মামা মৃত হারেজ মোল্লার বসতঘরের একটি বারান্দায় ৫ সদস্যের পরিবার-পরিজন নিয়ে তিনি বসবাস করছেন।

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল থেকে

প্রকাশিত : ৭ মার্চ ২০১৫

০৭/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: