মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে কক্সবাজারে তৈরি হচ্ছে পেট্রোলবোমা

প্রকাশিত : ৩ মার্চ ২০১৫

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার থেকে ॥ সারাদেশে চলমান আন্দোলনে ব্যাপক নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে কক্সবাজারে বিভিন্ন জায়গায় পেট্রোলবোমা ও ককটেল তৈরি করা হচ্ছে। এ কাজে দুইটি ছাত্র সংগঠনের চিহ্নিত কয়েকজন নেতা ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রোহিঙ্গাকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। আরএসও জঙ্গীরা তাদের ট্রেনিংপ্রাপ্ত ক্যাডারদের মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে আঁতাত করে বোমা তৈরি কাজে নিয়োজিত করেছে। তারা কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে বিভিন্ন স্থানে মেস ও ভাড়া বাসায় বোমা তৈরি করে চলছে। প্রশাসনের হাতে ধরা পড়লেও তাদের যে কোন উপায়ে জামিনে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে জঙ্গীরা। চট্টগ্রামে র‌্যাবের হাতে বিপুল বিস্ফোরকসহ আটক জেলার পেকুয়ার মগনামা মুহুরিপাড়ার ফজলুল হক ও জাহেদ কক্সবাজারে ছদ্মবেশে অবস্থানকারী কয়েকজন আরএসও জঙ্গীর হয়ে বোমা তৈরি কাজে বাসা ভাড়া নিয়েছিল বলে তথ্য মিলেছে। এছাড়াও আরএসওর অর্থায়নে জেলার বিভিন্ন স্থানে মাদ্রাসার নামে গড়ে তোলা রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নানা বেআইনী কাজের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কক্সবাজারে ঘাঁপটি মেরে থাকা আরএসও জঙ্গীদের অনেকে গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে গেছে। অনেকে আবার প্রশাসনের কাছে আটকে থাকা পাসপোর্ট হাতিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার জন্য তদ্বিরে রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে নাশকতায় জড়িত এবং পেট্রোলবোমা ও ককটেল তৈরির কয়েকজন করিগরকে শনাক্ত করেছে প্রশাসন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা বলছেন, ওইসব চিহ্নিত নাশকতাকারীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, চট্টগ্রাম শহর, কক্সবাজার ও আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িতে পেট্রোলবোমা ও ককটেল তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ সব বানানোর প্রশিক্ষণও দেয়া হচ্ছে। সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা মসজিদের পাশে একটি বাসা, শহরের সাহিত্যিকাপল্লী, সাবমেরিন কেবল এলাকার দুইটি বাসা, শহরের নূর পাড়র ২টি বাড়ি, পাহাড়লী জিয়ানগর (বর্মাইয়াপাড়া) একটি দালানে এবং সদর উপজেলার পিএম খালির ছনখোলা এলাকায় একটি বাসায় চলছে বোমা-ককটেল তৈরি ও প্রশিক্ষণ। এ সব পেট্রোলবোমা কক্সবাজারে বিচ্ছিন্নভাবে নিক্ষেপ ছাড়াও দেশের বিভিন্নস্থানে প্রেরণ করা হয়ে থাকে বলে সূত্রটি আভাস দিয়েছে।

কক্সবাজারে চলমান অবরোধে একাধিকবার পুলিশ ও সাধারণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে পেট্রোলবোমা ও ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ সব ঘটনায় ১০টির বেশি গাড়ি পেট্রোলবোমা আগুনে পুড়ে গেছে। গত ২১ জানুয়ারি শহরের ৪টি পেট্রোলবোমাসহ দুই জন শিবির নেতাকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ। ১৮ জানুয়ারি কক্সবাজার সদর উপজেলা গেট এলাকায় বাসে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষাসহ ২০ জন যাত্রী। ৩ ফেব্রুয়ারি রামুর মিঠাছড়িতে একটি যাত্রীবাহী বাসকে লক্ষ্য করে পেট্রোলবোমা ছোড়া হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলোর লিংকরোডে সোহাগ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস লক্ষ্য করে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়াও অবরোধ-হরতালের নামে কক্সবাজার শহরে ও জেলার বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে গাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ ও আগুন দেয়ার চেষ্টা চালানো হলেও প্রশাসনের টহলদলের তৎপরতায় দুর্বৃত্তদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

সূত্র আরও জানায়, প্রথমে পেট্রোলবোমা তৈরি করে কক্সবাজার থেকে সরবরাহ করা হতো বিভিন্ন স্থানে। কক্সবাজারে পেট্রোলবোমা তৈরি হচ্ছে মর্মে প্রশাসনের কাছে তথ্য পৌঁছে যাওয়ায় বিএনপি-জামায়াত ও জঙ্গীরা স্থান বদল করে চট্টগ্রামে ঘনবসতিপূর্ণ জায়গায় বাসা ভাড়া করে পেট্রোলবোমা ও ককটেল তৈরি করছে। সূত্রে আরও জানা গেছে, চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে নাশকতা করতে কক্সবাজারে পেট্রোলবোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ২টি ছাত্র সংগঠন ও আরএসও রোহিঙ্গা জঙ্গীরা। সহিংসতা করার জন্য পেট্রোলবোমা কিভাবে তৈরি ও কিভাবে নিক্ষেপ করতে হয়, তা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রোহিঙ্গা জঙ্গী এবং ওই ছাত্র সংগঠন দুইটির কয়েকজন নেতা ভালভাবে জানে। সূত্রে প্রকাশ, আফগানিস্তান ফেরত চিহ্নিত কয়েকজন রোহিঙ্গা জঙ্গীর মাধ্যমে পেট্রোলবোমা তৈরি, অস্ত্র চালনা, কম্পু-ক্যারাতে প্রশিক্ষণের মতো বেআইনী কর্মকা- বৃদ্ধি পাচ্ছে কক্সবাজারে। সুবিধাভোগী কতিপয় রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় রোহিঙ্গা জঙ্গীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে বর্তমানে। কক্সবাজারে আরএসওর অর্থায়নে গড়ে তোলা মাদ্রাসার আদলে আইনশৃঙ্খলা বিরোধী কাজ করছে প্রতিনিয়ত। এলাকার সমাজপতিদের অনেকে ওসব জঙ্গীদের জাতীয় সনদ বাতিল করে এবং মাদ্রাসার কার্যক্রম সরকারীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে কক্সবাজার জেলায় হরতাল ও অবরোধে নানা কৌশলে নাশকতায় জড়িত এবং পরিকল্পনকারী হিসেবে ৩৫০ জনকে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। আর ওই তালিকা মতে জেলাব্যাপী অভিযান চালানো শুরু করছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। অভিযানে তালিকার শীর্ষে থাকা বেশ কয়েকজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতারও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, জেলার ৮টি উপজেলায় নাশকতায় জড়িত এবং পরিকল্পনাকারী হিসেবে মোট ৩৫০ জনকে চিহ্নিত করে একটি তালিকা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে নাশকতাকারীদের চিহ্নিত করে ওই তালিকা অনুযায়ী অভিযান চালানো হচ্ছে। কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি দেওয়ান আবুল হোসেন জানিয়েছেন, কক্সবাজার জেলায় পেট্রোলবোমা ও ককটেল বানানোর কয়েকটি স্থান চিহ্নিত করে বোমা তৈরির কারিগরদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে তালিকাভুক্ত একাধিক নাশকতাকারীকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। কক্সবাজার সদর থানার ওসি মতিউল ইসলাম জানান, বোমা বিশেষজ্ঞ যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ জানিয়েছেন, নাশকতাকারী ও বোমা তৈরি কাজে জড়িতদের তালিকা তৈরি হয়েছে। কয়েকজন আটকও হয়েছে। অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

প্রকাশিত : ৩ মার্চ ২০১৫

০৩/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: