কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চাই গোছানো একটি ক্যারিয়ার

প্রকাশিত : ২ মার্চ ২০১৫
  • এইচএসএম তারিফ

জীবনকে সাজাতে প্রতিটি মানুষ কর্মমুখী হয়। জীবনের একটি সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পা রাখে অনেকেই। অভিজ্ঞতা এবং কর্মময় জীবনের সঙ্গে সখ্য সৃষ্টির লক্ষ্যে কলেজ ও ভার্সিটিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় অনেকেই কিছু কর্মের সঙ্গে সাময়িকভাবে জড়িয়ে নেন। এতে লক্ষ্য থাকে পড়াশোনারও যেন ব্যাঘাত না ঘটে। রয়েছে অভিজ্ঞতা ও কিছু অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যও। বিভিন্ন উপায়ে চালিয়ে নেন নিজ পকেটের পাশাপাশি লেখাপড়ার খরচও। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সঙ্গেই এ ধরনের খ- ও সাময়িক চাকরি পরবর্তীতে স্থায়ী চাকরিতে বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পার্টটাইম জব যে কাউকে ব্যাপক অভিজ্ঞতা প্রদানে সক্ষম হয়। আর্থিকভাবে লাভবানের বিষয়টি তো রয়েছেই। বর্তমানে প্রতিযোগিতাপূর্ণ চাকরির বাজারে প্রতিটি ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতাকে অত্যধিক প্রাধান্য দিয়ে থাকে। স্ব স্ব ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকলে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হবে না। বহির্বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে পার্টটাইম জব, স্বল্পকালীন ও নির্দিষ্টকালীন চাকরির সুযোগ রয়েছে। এ সকল ক্ষেত্রে চাকরির মাধ্যমে পর্যাপ্ত কর্মদক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অনায়াসে বৃদ্ধি করা সম্ভব। এ ধরনের কর্মক্ষেত্রের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কল সেন্টার, ইভেন্ট, প্রোজেক্ট, অনলাইন, সেলার স্টল, শোরুম, অফিস ইত্যাদি। চারদিকে একটু চোখ রাখলেই মিলবে এক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ। নিজের সুবিধার সময় বের করে সে অনুসারে মিল রেখে কর্মক্ষেত্র বাছাই করতে হবে। এতে পড়াশোনারও কোন সমস্যার সৃষ্টি হবে না। পছন্দমতো কোন এক ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্যে কর্মব্যস্ততায় ডুব দেয়া সম্ভব।

কল সেন্টার : দেশের বিভিন্ন টেলি কমিউনিকেশন কোম্পানির গ্রাহক সেবা ও তথ্য সেবা প্রদানের জন্য গড়ে উঠেছে কল সেন্টার। এছাড়াও কিছু অফিসে গ্রাহকদের তথ্য সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে এয়ারটেল, গ্রামীণফোন, রবি, টেলিটক, সিটিসেল, বাংলালিংকসহ অনেক কোম্পানিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য কল সেন্টার। এ সকল সেন্টারে তিনটি শিফটের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। ফলে শিক্ষার্থীরা সহজেই সুবিধামতো শিফটে চাকরি করতে পারে। এতে সকল শ্রেণীর গ্রাহকের সঙ্গে কমিউনিকেশনের অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়। এছাড়াও কর্পোরেট বিহ্যাভিয়ার অনেকটাই আয়ত্তে আসে। সঙ্গে রয়েছে আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জন।

ইভেন্ট : ব্যান্ড প্রমোট, প্রোডাক্ট প্রমোট, অসংখ্য জনসচেনতার প্রচারণা, অনুষ্ঠান আয়োজনসহ অনেক কার্যক্রম পরিচালনা করে দেশের ইভেন্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ। আর এ সকল ইভেন্টসমূহ আয়োজনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মার্ট ও পারদর্শী শিক্ষার্থী। একদিন, দু’দিন অথবা স্বল্পসংখ্যক দিনব্যাপী এ সকল ইভেন্ট হওয়ায় শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত সহজেই অংশগ্রহণ করতে পারে। মাত্র কয়েকদিন ব্যয় করতে হয় এবং পারিশ্রমিক তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তাদের আগ্রহ বেশি থাকে। এতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে ইভেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়ে থাকে। আমাদের দেশে এশিয়াটিক, গ্রে, মাইন্ড ট্রি, সিভন ইত্যাদি জনপ্রিয় ইভেন্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

প্রোজেক্ট : সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য প্রোজেক্ট পরিচালিত হয়ে থাকে। প্রোজেক্টগুলো সাধারণত কয়েক মাসব্যাপী বা খ-কালীন হয়ে থাকে। এ সকল প্রোজেক্টে শিক্ষার্থীগণ নিয়োজিত হন। ফলে সুষ্ঠুভাবে ওই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এতে শিক্ষার্থীরা অফিসিয়াল কার্যক্রমে বেশ মানিয়ে নেয়। দেশে ভিটামিন ক্যাম্পেন, জরিপ, আদমশুমারি, অর্থশুমারি, ব্যাপক হারে কুকুরকে টিকাদান কর্মসূচীসহ অনেক প্রোজেক্ট বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা পরিচালনা করে থাকে।

অনলাইন : তথ্য প্রযুক্তির বর্তমান বিশ্বে অনেক কিছুই বর্তমানে ঘরে বসেই করা সম্ভব হচ্ছে। অসংখ্য কোম্পানি তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম অনলাইনে সম্পাদন করে থাকে। আবার অনেকেই তথ্য ও ডাটা সংরক্ষণে অসংখ্য কর্মী নিয়োগ করে থাকে। এ নিয়োগসমূহ খ-কালীন ভিত্তিতেও হয় থাকে। কেউ কেউ অনলাইনেই বিভিন্ন কাজ করে অন্যান্য সাইট হতে সুবিধাজনক কাজ বাছাই করে নেন। ফলে ঘরে বসেই বেশসংখ্যক কাজে লিপ্ত হয়ে যায়।

মেলার স্টল : এদেশ মেলা ও উৎসবের বিভিন্ন মেলার সঙ্গে আয়োজিত হয় বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। এ মেলায় অসংখ্য জনপ্রিয় দেশী-বিদেশী কোম্পানির স্টল স্থান করে নেয়। এতে স্টলগুলোয় প্রয়োজন হয় সুদর্শন ও পারদর্শী কর্মী। এ সময় শিক্ষার্থীগণ তাদের প্রয়োজন পূরণ করে থাকে। নির্দিষ্ট সময়ব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় খুবই উদ্দীপনা নিয়ে শিক্ষার্থীগণ মেলার স্টলের দায়িত্বে নিয়োজিত হয়। এতে কাস্টমার থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের সঙ্গে কমিউনিকেশনের অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়; যা পরবর্তীতে কর্মজীবনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সহায়ক হয়। শিক্ষা জীবন হলো প্রতিটি শিক্ষার্থী সাফল্যের মইস্বরূপ। অধিকাংশ সাফল্যের মইটি অধিক মজবুত করার লক্ষ্যে অধ্যয়নরত অবস্থায় বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদী কর্মে নিয়োজিত হয়। এতে অভিজ্ঞতা অর্জনের সঙ্গে আর্থিক স্বচ্ছলতাও অর্জিত হয়। ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে স্বল্পকালীন চাকরির সুফল সম্পর্কে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সোহান ইমতিয়াজ বলেন, অনার্স অধ্যয়নরত অবস্থায় ইভেন্ট ফার্ম গ্রোর বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিয়েছিলাম। ফলে মার্কেটিং ও কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে। তাই এখন বেশ সহজেই মার্কেটিংয়ের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে পারছি। এবং অফিসে সাফল্যের সঙ্গে কাজকর্ম পরিচালনা করছি। আমাদের দেশে বর্তমানে অন্যান্য দেশের মতো শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি পার্টটাইম জব বা স্বল্পকালীন চাকরিতে নিয়োজিত হচ্ছে; যা পরবর্তীতে ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

মডেল : তানভি চৌধুরী

প্রকাশিত : ২ মার্চ ২০১৫

০২/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: