মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পৃথিবী পাপের পালকি

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

কবিতা। মাঝে মাঝে মনে হয় এটা তো কিছু নয়- শূন্য। আবার পরক্ষণেই মানসপটে ভেসে ওঠে সে এক দীর্ঘ ভ্রমণ...। যার ভেতরে দৃশ্য-অদৃশ্য পদচারণ। আসলে কবিতার কথা কেবল কবিতায়ই প্রকাশ করা যায়। মানুষের যেমন যার যার একটা ব্যক্তিত্ব থাকে ঠিক একজন প্রকৃত কবির কবিতায় স্বকীয়তা কিংবা ব্যক্তিত্ব প্রস্ফূটিত হয় এবং সেই ব্যক্তিত্বের মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে দেয় বহুকৌণিকতা। একটি কবিতা কখন কবিতা হয়ে ওঠে, ঠিক জানা নেই তবে একটি কবিতা কখন সবকিছু পাল্টে দিতে পারে তা কেবল সময়ই বলে দেয়। কালোত্তীর্ণ কবিতা পেতে জাতিকে দীর্ঘকাল অপেক্ষা করতে হয়।

কবিতার ধরন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে দাঁড়িয়েছে, দাঁড়াবে। তবে শেষ পর্যন্ত একটা মৌলিক জায়গায় সব কবিকেই দাঁড়াতে হয়। আর সেটি হলো- সুস্থ বোধ। মূলত পৃথিবী পাপের পালকি কাব্যগ্রন্থ পড়ে যে অনুভূতি হয়েছে তা পাঠকের সঙ্গে শেয়ার করার উদ্দেশ্যেই এই লেখা। ২০১৫ সালের একুশে বইমেলায় এ প্রজন্মের কবি পলিয়ার ওয়াহিদের এই বইটি প্রকাশিত হয়েছে। ‘পৃথিবী পাপের পালকি’ কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ, যাতে আছে ৪৩টি কবিতা। প্রতিটি কবিতাই সহজবোধ্য। এসব কবিতায় উঠে এসেছে অসুস্থ রাজনীতির দৃশ্য, প্রেম, ঈশ্বরের সঙ্গে কবির দ্বন্দ্বসহ নানা অনুসঙ্গ। বইটির প্রথম কবিতা পড়ে বেশ একটা না টানলেও দ্বিতীয় কবিতায় গিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ি। কবিতাটির শিরোনাম ‘নাগরিক’। নাগরিক কবি মানুষের আশ্রয় থেকে শুরু করে জীবনের মূলে লুকানো সত্য জানান দিতে গিয়ে প্রশ্ন দাঁড় করিয়ে লেখেন- ‘মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দরজা দু’টো/ পাশাপাশি বসে দু’জোড়া জুতো।/প্রতিদিন প্রতিরাতে/প্রতিক্ষণ প্রতিপ্রাতে/জুতোরা গল্প করে- ‘বেশ ভালো আছি’/জুতোর প্রভুরা কর্মশালায়-/পা’দের পরিচয় হয়নি/একই ময়দানে যুগলচোখ/ কখনও হয় না সামনা-সামনি।’ দিন শেষে দু’জোড়া জুতো সারারাত গল্প করে অথচ তারা কখনও সামনা-সামনি হয়নি। এর অন্তর্নিহিত গল্পের প্লট দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর।

‘মড়কপর্ব’ কবিতাটিতে কবি অসুস্থ রাজনীতির চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি লেখেন- ওই তো চলে গেল মিছিল/কুয়াশা, গণতন্ত্র/ফিরছে লাশ, রক্ত/সংসদ ভবন/ছুটছি তো ছুটছি/ হোঁচট লেগে/ উল্টে গেলে জাতির কপাল। এদেশে অসুস্থ রাজনীতির কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। যে দলই আসে সে দলই শুধু চারদিকে কুয়াশা ছড়ায়। সহিংস রাজনীতির নামে ঘুনপোকা কুড়ে খাচ্ছে এদেশের অর্থনীতি, মূল্যবোধ, শিক্ষাব্যবস্থা সর্বোপরি গণতন্ত্র। ক্ষমতার লোভে লাথি মেরে উল্টে দেয় জাতির কপাল। ঠিক তেমনি ‘কাঠবাদাম’ কবিতায় স্বদেশের প্রতি ভালোবাসার সে টান তাই প্রতিনিয়ত হয়। শেষ পর্যন্ত স্বদেশের বুকেই আশ্রয় পেতে চায়। অথচ সেই স্বদেশ কতটা তার অনুকূলে থাকে তাই মুখ্যবিষয়। কিন্তু শকুনদের উল্লাস আর দুর্বৃত্তদের হাতে তা বিদ্ধ হয়। এর জন্য প্রয়োজন সংঘবদ্ধ সুস্থ চিন্তা। আর কবি পারে সেই সমস্যাকে চিহ্নিত করে সমাজকে জানান দিতে। তিনি সেটাই করেছেন। লিখেন- ‘কাঠ-বাদামের পাতা/তোমার চ্যাপ্টা বুক/আমাকে প্রশ্রয় দেয়/অথচ নদী ভরাটের মতো তুমি চিরকাল বেদখল/দুর্বৃত্তের হাতে।

শঙ্খচূড় ইমাম

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৭/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: