মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিশ্বকাপে অধরা সেঞ্চুরির দেখা পাবে বাংলাদেশ?

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • জাহিদুল আলম জয়

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে ১৯৯৯ সালে অভিষেক বিশ্বকাপ খেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। শুরুতেই পাকিস্তানের মতো পরাশক্তিকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের আগমনী বার্তা পৌঁছে দেয় টাইগাররা। এ ধারাবাহিকতায় পরবর্তী বিশ্বকাপগুলোতেও পরাশক্তিদের মাটিতে নামিয়েছে লাল-সবুজের এই দেশ। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ ক্রিকেটে কোন বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান শতরানের দেখা পাননি। এবার অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে চলমান আসরে কি এই অধরা সেঞ্চুরির দেখা পাবেন এনামুল হক বিজয়, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীমরা? প্রথম শতরানের খোঁজে ও কোয়ার্টার ফাইনালের লক্ষ্য নিয়ে আজই বিশ্বকাপে মিশন শুরু করছে মাশরাফি বাহিনী। প্রতিপক্ষ ক্রিকেটের উঠতি শক্তি আফগানিস্তান।

নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ থেকেই বড় বড় দলগুলোকে হারিয়ে চমক দেখায় বাংলাদেশ। কিন্তু এর আগে চারবার অংশ নিয়েও কোন বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান শতরানের দেখা পাননি। এবার পঞ্চমবারের মতো মেগা এ ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে খেলাপাগল এ জাতি। আগের সাফল্য পেরিয়ে আরও ভাল করার স্বপ্ন নিয়ে এবার দেশ ছেড়েছেন ক্রিকেটাররা।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশী কোন ব্যাটসম্যানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ৮৭ রান। ২০০৭ বিশ্বকাপে ৭ এপ্রিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রোভিডেন্সে দুর্দান্ত ইনিংসটি খেলেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। বিশ্বকাপে বাংলাদেশী কোন ব্যাটসম্যানের ৭৫-এর বেশি রানের একমাত্র দৃষ্টান্ত এটা। সুপার এইটের ওই ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকে সহজেই ৬৭ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। টাইগাররা ২৫১ রানের পুঁজি পেয়েছিল লিটল মাস্টার খ্যাত আশরাফুলের ৮৭ রানের কাব্যিক ইনিংসের কল্যাণে। সাবেক টাইগার অধিনায়ক ইনিংসটি সাজান ১২টি চারের সাহায্যে। এরপর বাংলাদেশের বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ১৮৪ রানে গুটিয়ে যায় প্রোটিয়াদের ইনিংস। কুষ্টিয়ার ছেলে হাবিবুল বাশার সুমনের নেতৃত্বে এই জয়টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি।

আগের চারটি বিশ্বকাপে মোট ১৩টি অর্ধশতকের দেখা পেয়েছেন বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা। এরমধ্যে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান একাই খেলেছেন ৩টি পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস। ২টি করে অর্ধশতক করেছেন ৪ জন। মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, মোহাম্মদ আশরাফুল, তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। বাকি দুটি অর্ধশতকের ইনিংস মেহরাব হোসেন অপি (৬৪ রান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে) এবং মুশফিকুর রহীমের (অপরাজিত ৫৬ রান, ভারতের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে)। বিশ্বকাপে টাইগারদের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস ইমরুল কায়েসের। মেহেরপুরের এই ওপেনার ২০১১ বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে হল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলেন ৭৩ রানের হার না মানা ইনিংস। তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি তামিম ইকবালের। তারকা এই ওপেনার ৭০ রানের ইনিংসটি খেলেন গত বিশ্বকাপে ঢাকায় ভারতের বিরুদ্ধে।

সর্বোচ্চ হাফসেঞ্চুরির মতো বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত মোট রানের দিক থেকেও এগিয়ে সাকিব। তারকা এই অলরাউন্ডার এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে করেছেন ৩৪৪ রান। দ্বিতীয় স্থানে সাকিবের বন্ধু তামিম। চট্টগ্রামের এই যুবকের ভা-ারে জমা ৩২৯ রান। মজার ব্যাপার হচ্ছে, বিশ্বকাপে দেশের হয়ে এ দুজনই শুধু ৩০০’র বেশি রান করেছেন। আজকের ম্যাচের আগ পর্যন্ত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ম্যাচ খেলেছে ২৫টি। এর মধ্যে জয় ৮ ম্যাচে, পরাজয় ১৬ ম্যাচে। আর একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। ২০০৩ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়। ক্রিকেটের বৃহৎ আসরে ইতোপূর্বে টাইগাররা পাকিস্তান (১৯৯৯), ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা (২০০৭) এবং ইংল্যান্ডকে (২০১১) হারিয়েছে। এবারও সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বড় সাফল্যের আশায় মিশন শুরু করছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি সবার দৃষ্টি থাকছে প্রথম সেঞ্চুরির দিকে। অবশ্য বিশ্বকাপযজ্ঞের আগে বাংলাদেশ দলের পারফর্মেন্সে আশাবাদী হতে পারছেন না ভক্ত-সমর্থকরা। দুটি প্রস্তুতি ম্যাচেই অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে। বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার আগে দলের পারফর্মেন্সও ছিল তলানির দিকে। ২০১৪ সালটা নিদারুণ মন্দ কাটে টাইগারদের। বছরের শেষ দিকে জিম্বাবুইয়েকে ‘বাংলাওয়াশ’ করে ছন্দে ফেরার আলামত দেয় টিম বাংলাদেশ। কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচের পারফর্মেন্স দিচ্ছে অশনিসঙ্কেত। ২০১৩ সাল থেকে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের জয়ের চেয়ে পরাজয়ের সংখ্যাই বেশি। ১০ জয়ের বিপরীতে হারতে হয়েছে ১৫টি ম্যাচে। এই সময়ের মধ্যে যে সকল দেশ কমপক্ষে ২০ ওয়ানডে ম্যাচে অংশ নিয়েছে তাদের মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে আরও খারাপ রেকর্ড আছে কেবল জিম্বাবুইয়ের। দলটি ৬ জয়ের বিপরীতে হেরেছে ২৪টি ম্যাছ। শীর্ষ আট দলের বিরুদ্ধে এ সময়ে বাংলাদেশ দলের জয়-পরাজয়ের রেকর্ড ৪-১২। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে একটি জয় টাইগারদের।

গত বছর সাফল্যখরার মধ্যে থাকলেও একটা সময় দারুণ ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ। একটা সময় টানা চার বছর ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছে টাইগাররা। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডকে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করে সাফল্যের মিশন শুরু। এরপর একে একে টাইগাররা মাটিতে নামিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ডের মতো পরাশক্তিদের। মাঝখানে ‘এশিয়ার বিশ্বকাপ’ এশিয়া কাপে বাংলার দামাল ছেলেরা প্রদর্শন করেন চোখ জুড়ানো পারফরমেন্স। অথচ একসময় বাংলাদেশ ছিল বিশ্ব ক্রিকেটের পুঁচকে এক দল। প্রতিপক্ষের কাছে নাকানি-চুবানি খাওয়াই যেন ছিল নিয়তি! দেশের ক্রিকেটের এই চালচিত্রের পরিবর্তন হতে শুরু করে ২০০৬ সাল থেকে। ওই বছরের মার্চে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো কোন দেশকে হোয়াইটওয়াশ করতে পেরেছিল। সেবার এক সময়ের প্রবল প্রতিপক্ষ কেনিয়াকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল হাবিবুল বাশারের দল। ওই বছরেরই আগস্টে আরেকবার কেনিয়াকে ধবলধোলাই করে বাংলাদেশ। সেবার প্রতিপক্ষের মাঠেই তাদের মাটিতে নামিয়েছিল বাংলার টাইগাররা। তিন ম্যাচের সবকটিতেই সহজে কেনিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ জানান দিয়েছিল, এক সময়ের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে অনেক এগিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট।

২০১৩ সালের ৩ নবেম্বর নিউজিল্যান্ডকে ‘বাংলাওয়াশ’ করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষকে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করে আটবার। এরপর গত বছর জিম্বাবুইয়েকে একই পরিণতি বরণ করিয়ে সংখ্যাটা বাড়িয়ে নেয় বাংলাদেশ। স্বর্ণালি বছর ২০০৬ সালেই বাংলাদেশ প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করে চারবার। ওই বছর কেনিয়াকে দুইবার ছাড়াও জিম্বাবুইয়ে ও স্কটল্যান্ডকে একই শিক্ষা দেয় বাংলাদেশ। ধারাবাহিকভাবে পারফর্মেন্সের উন্নতি ঘটিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্ব ক্রিকেটের সমীহ জাগানিয়া দল। একসময় যে দল প্রতিপক্ষের কাছে খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে সেই তারাই ধীরে ধীরে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের সাফল্য যে আচমকা কিছু নয় সেটা প্রমাণ হয়েছে অনেকবার।

এবারের বিশ্বকাপটা তাই চ্যালেঞ্জের মাশরাফি, তামিম, সাকিবদের। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের ভিন্ন কন্ডিশনে টাইগাররা কেমন করে সেটাই এখন দেখার।

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: