কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বরিশালে পুলিশকে দেয়া তথ্য ফাঁসের অভিযোগ

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রকৃত নাশকতাকারীরা

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ নাশকতাকারী বিএনপি, জামায়াত নেতাদের সঙ্গে চরমপন্থীদের গোপন বৈঠকসহ নাশকতার যেকোন তথ্য পুলিশকে জানানোর পর মুহূর্তের মধ্যেই পুলিশ তা অভিযুক্তদের কাছে ফাঁস করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণেই বরিশালের শান্তিপ্রিয় জনগণ এখন পুলিশকে তথ্য দেয়া অনেকটাই বন্ধ করে দিয়েছেন। জেলার আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী থানার কতিপয় অফিসার থেকে শুরু করে থানার কয়েক কর্তা ব্যক্তির বিরুদ্ধে জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের কাছে অভিযোগকারীদের নাম ফাঁস করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার আগৈলঝাড়ায় আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও নাশকতারোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পুলিশ অফিসারদের উপস্থিতিতেই এমন অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। গৌরনদীর একাধিক জনপ্রতিনিধি নাশকতা ও পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে পাঁচজনকে পুড়িয়ে মারার ঘটনার সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী পুলিশকে দায়ী করে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাহিলাড়া ইউনিয়নের একাধিক জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে তিনজনকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন এমন কয়েকজন ব্যক্তির নাম পুলিশকে জানানোর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনে বিষয়টি তাদের অবহিত করে জানতে চান, কেন তাদের নাম পুলিশের কাছে বলা হয়েছে। অপরদিকে গত ২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে একই উপজেলার টরকী নবীনগর এলাকায় ট্রাকে পেট্রোলবোমা হামলায় দুইজন নিহতের ঘটনায় পুলিশ সাদামাটাভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার দু’জনের নিহতের বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে পেট্রোলবোমার ব্যাপক আলামত উদ্ধার করা সত্ত্বেও পুলিশ নাশকতাকারীদের আড়াল করতেই থানায় জিডি করেছেন। একইদিন ওই উপজেলার বাদুরতলা গ্রামের হাবিব ফকিরের পরিত্যক্ত ঘর থেকে পুলিশ চারটি পেট্রোলবোমা উদ্ধার করলেও এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। অভিযোগে আরও জানা গেছে, গৌরনদীতে মাত্র ৫ দিনের ব্যবধানে দুটি নাশকতায় পাঁচ জনের প্রাণহানির ঘটনার পর প্রকৃত নাশকতাকারীদের আড়াল করে প্রায় প্রতিদিনই এলাকার নিরীহ ব্যক্তিদের পুলিশ আটক করে হয়রানি শুরু করেছেন। এছাড়াও থানার কতিপয় অফিসারের মাধ্যমে এলাকার নিরীহ ব্যক্তিদের মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে অর্থ বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন। এ ব্যাপারে পুলিশের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে জানান, সোর্সের মাধ্যমেই মূল নাশকতাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব। আবার অনেক সময় সোর্সের কারণে অভিযান উলোট পালোট হয়ে যায়। তিনি জানান, যদি কোন পুলিশ সদস্য কিংবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য ফাঁস অথবা হয়রানির নামে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৭/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: