রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

যেতে হবে অনেক দূর

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ
  • সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ১১তম আসর বলতে গেলে ঘরের দুয়ারে। ১৪ ভ্যালেন্টাইনের দিনে ফেব্রুয়ারি একাদশ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পর্দা উঠবে। এবারের বিশ্বকাপ আয়োজন করবে ৫ম বিশ্বকাপের সফল আয়োজক অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশসহ ১৪টি দল দুই গ্রুপে ১১তম বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে রাউন্ড রবিন লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। গ্রুপ এ-তে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, বাংলাদেশ, স্কটল্যান্ড ও আফগানিস্তান এবং গ্রুপ বি-তে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, পাকিস্তান, দ. আফ্রিকা, জিম্বাবুইয়ে, আয়ারল্যান্ড ও আরব আমিরাত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। গ্রুপ পর্বের শীর্ষ ৮ দল খেলবে কোয়ার্টার ফাইনাল। কোয়ার্টার ফাইনাল বিজয়ী ৪ দল সেমিফাইনাল এবং সেমিফাইনালে জয়ী দুই দল ২৯ মার্চ মেলবোর্নে ফাইনাল খেলার মধ্যে দিয়ে প্রতিযোগিতার পর্দা নামবে। গ্রুপ পর্বের শীর্ষ ৮ দল খেলবে কোয়ার্টার ফাইনাল। কোয়ার্টার ফাইনাল বিজয়ী ৪ দল সেমিফাইনাল এবং সেমিফাইনালে জয়ী দুই দল ২৯ মার্চ মেলবোর্নে ফাইনাল খেলার মধ্যে দিয়ে প্রতিযোগিতার পর্দা নামবে। উদ্বোধনী দিনে অনুষ্ঠিত হবে দু’টি ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে এশিয়ার শ্রীলঙ্কার প্রতিপক্ষ স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড আর অপর ম্যাচে ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে অপর আয়োজক অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশের এবার ৫ম বার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ। এ বিশ্বকাপের ৭ম ম্যাচে ক্যানবেরার ম্যানুকা ওভালে বাংলাদেশ অভিষেক ম্যাচ খেলবে ১৮ ফেব্রুয়ারি। প্রতিপক্ষ আইসিসি’র টপ সহযোগী সদস্য আফগানিস্তান। এই ম্যাচকে অনেকে হালকা করে দেখতে পারেন। কিন্তু যারা ক্রিকেট বোঝেন তারা বাংলাদেশের এই ম্যাচকে কোনভাবেই হালকাভাবে নেবেন না। কেননা আফগানিস্তান আইসিসি’র পূর্ণ সদস্য না হলেও যে কোন পূর্ণ সদস্যকে হারানোর ক্ষমতা যে রাখে সেটার প্রমাণ ইতোমধ্যে তারা দিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশকে তো বটেই। এই তো সেদিন এশিয়া কাপে সেটা বুঝিয়েও দিয়েছে তারা। ক্রিকেটবিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছে, ‘আমরাও পারি।’ একটি ম্যাচের শুরুটাই হচ্ছে আসল। শুরু ভাল হলে শেষ ভাল করারও সুযোগ থাকে। শুরুটাই যদি ভাল না হয় তাহলে শেষটা আর শত চেষ্টা করেও ভাল করা যায় না। আফগানিস্তান! বলে নাক না সিটকিয়ে অতীতের কথা মনে রেখেই বাংলাদেশকে খেলতে হবে। মনে রাখতে হবে, এই আফগানরাই আমাদের ক’দিন আগে হারিয়েছে। আবার হারাতে পারবে না সেটা ভাবলে চলবে না। প্রতিপক্ষকে প্রতিপক্ষই ভাবতে হবে। সে শক্তিশালী হোক আর দুর্বলই হোক। ম্যাচের আগেই তাকে দুর্বল ভাবলে চলবে না। কেননা কে কী প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছে সেটা অন্যেরা জানে না। আর এই না জানার ফল এবং প্রতিপক্ষকে হালকা করে দেখার দৃষ্টান্ত অনেক আছে। হালকা করে দেখার কারণে অনেকগুলো ম্যাচ বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়েছে। বিশ্বকাপেই কানাডা, কেনিয়া, আয়ারল্যান্ডের মতো ছোট দলগুলোর আমাদেরকে হারতে হয়েছে। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফিতে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ ৭ম বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়। আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশ যে যোগ্যতর দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেটার প্রমাণও দেয় ৭ম বিশ্বকাপে। অভিজ্ঞতার অভাবে প্রথম ও দ্বিতীয় ম্যাচে কিউই ও ক্যারিবিয়দের কাছে হারলেও নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে স্বাগতিক স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২২ রানের এক অবিস্মরণীয় জয় পায়। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে সারা ক্রিকেটবিশ্বকে চমকে দেয়। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের অভিষেক বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড ও ’৯২’র চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতে চমক দেখালেও পরের বিশ্বকাপের অবস্থা ছিল ততটাই নাজুুক। এ বিশ্বকাপের বাংলাদেশ শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা, দ. আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের কাছে তো বটেই এমন কী আইসিসির সহযোগী সদস্য কানাডা ও কেনিয়ার কাছে পরাজিত হয়। তার মধ্যে শ্রীলঙ্কা ও দ. আফ্রিকার কাছে ১০ উইকেটের লজ্জাজনক হার কাঁধে চেপে বসে। যা ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যে এক চরম লজ্জার বিষয়। সান্ত¡না বলতে বৃষ্টির বদৌলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় ১ পয়েন্ট নিয়ে দেশে ফেরা। এই ১ পয়েন্ট বাংলাদেশের মান বাঁচালেও বড় ক্ষতিটা করে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের। এ ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় ক্যারিবিয়ানদের সুপার সিক্সে ওঠার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। ২০০৭ সালে ৯ম বিশ্বকাপে বাংলাদেশ আগের বিশ্বকাপের বিপর্যয় অনেকটাই কাটিয়ে ওঠে। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে ’৮৩’র চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দিলে তামাম ক্রিকেটবিশ্বে দারুণ হৈচৈ পড়ে যায়। এ হারের কারণে এ বিশ্বকাপে ভারত সুপার এইটে উঠতেই পারেনি। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে হারলেও ভারত ছাড়াও আইসিসি’র সহযোগী সদস্য বারমুডার বিপক্ষে ৭ উইকেটে জিতে সুপার এইট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। সুপার এইটে বাংলাদেশ খুব একটা সুবিধে করতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এমন কী আয়ারল্যান্ডের কাছে পর্যন্ত হারে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে গ্রুপ পর্বে হারার কারণে সুপার এইটে আর ওদের মোকাবেলা করতে হয়নি বাংলাদেশকে। না খেলেই আরেক দফা পয়েন্ট পেয়ে যায় লঙ্কানরা আর বাংলাদেশও বেঁচে যায় আরও একটি পরাজয়ের হাত থেকে। সুপার এইটে একমাত্র দ. আফ্রিকার বিপক্ষে ৬৭ রানের একটি বড় জয় পাওয়া ছাড়া আর কোন প্রাপ্তিই ছিল না বাংলাদেশের। বাংলাদেশের কাছে এই অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের কারণে দ. আফ্রিকারও আর সেমি-ফাইনালে ওঠা হয়নি। ২০১১ সালে ১০ম বিশ্বকাপে নিজের দেশের মাটিতেও বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে পারেনি। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জিতলেও হারতে হয়েছে ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দ. আফ্রিকার কাছে। ফলে গ্রুপ পর্বেই শেষ হয় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন।

১১তম বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে এ গ্রুপে আফগানিস্তান ছাড়াও মোকাবেলা করতে হবে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এদের কাউকেই ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। বাংলাদেশকে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে হলে কম করে হলেও চারটি খেলায় জিততে হবে। আর সে জয়ের শুরুটা হওয়া দরকার ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই। প্রত্যেকটা ম্যাচেই জয়ের প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নামতে হবে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। কাউকে বেশি গুরুত্ব দেয়াও নয়, আবার কাউকে খাটো করে দেখার নয়। ওয়ান-ডে সিরিজে বাংলাদেশ যে নিউজিল্যান্ড বা কেনিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে বিশ্বকাপে তাদের বিরুদ্ধে কোন ম্যাচ জিততে পারেনি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ বেশি ম্যাচ খেলেছে এবং ক’দিন আগেও যাদেরকে হোয়াইট ওয়াশ করেছে সেই জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে কোন ম্যাচ খেলেনি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সামনে এখন একটাই ভাবনা। আর সেটা হচ্ছে ১১তম বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রথম রাউন্ডটা কীভাবে প্রতিপক্ষের মোকাবেলা করবে। আগের বিশ্বকাপে নিজের দেশের মাটিতে চেনা মাঠে পরিচিত দর্শকের সামনে যেটা করতে পারেনি এবারে বিদেশের মাটিতে সেটা করে দেখাতে পারবে বলে ক্রিকেটামোদীমহলের আশা। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মাঠ, আবহাওয়া, দর্শক বাংলাদেশের ছেলেদের কাছে অপরিচিত নয়। দেশের মাটিতে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে ব্যর্থ হলেও বিদেশের মাটিতে যে সেটা করতে পারে সে প্রমাণ বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা এর আগে ২০০৭ সালে দিয়েছে। কেনিয়া ২০০৩ বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে খেলেছে। জিম্বাবুইয়ে একাধিকবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে। কেনিয়া-জিম্বাবুয়ে যেটা করতে পারে আমাদের ছেলেরাও সেটা করেছে এবং আবারও যে করতে পারবে সে বিশ্বাস এ দেশের ১৬ কোটি মানুষের আছে। তবে আর তার জন্যে চাই সদিচ্ছা আর জয়ের দৃঢ় মনোভাব। সদিচ্ছার সঙ্গে মনের জোরের আর জেতার তীব্র ইচ্ছে থাকলে সব অসম্ভবকে সম্ভব করা যায় । বলা যায়, মনের জোরের কারণেই ১৯৯৯ সালে জিম্বাবুইয়ের ছেলেরা ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কার তো বাঘা বাঘা দলকে পেছনে ফেলে সুপার সিক্সে খেলার অনন্য গৌরব অর্জন করে। ২০০৩ বিশ্বকাপে চমক দেখায় নন-টেস্ট প্লেয়িং দেশ কেনিয়া। জিম্বাবুইয়ে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, দ. আফ্রিকার মতো ফেবারিটদেরকে হারিয়ে সুপার সিক্সে জায়গা করে নেয়। তবে কেনিয়া ছিল আরও এক কাঠি এগিয়ে। তারাও ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, দ. আফ্রিকা, বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে সুপার সিক্সে উঠে যায়। তবে তাদের বিজয়কেতন সুপার সিক্সেই থেমে থাকেনি। নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুইয়েকে পেছনে ফেলে শেষ চারেও পৌঁছে যায় কেনিয়ানরা। শেষ পর্যন্ত সেমি-ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে কেনিয়ার জয়রথ থামে। এ কথাটা বললাম এ কারণে, সেবার কেনিয়াদলে কোন সুপারস্টার ছিল না। ছিল মনের জোর আর জেতার দৃঢ় প্রত্যয়। একটা চমৎকার টিম স্পিরিটই দলের জয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। স্টিভ টিকোলোর নেতৃত্বে দলে যে টিম কম্বিনেশন গড়ে ওঠে সেটাই ম্যাচ জয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। দলের প্রয়োজনে এক এক ম্যাচে এক একজন হয়ে ওঠেন সুপারস্টার। যে কারণে দলের প্রতিটি জয়ে সবার কম-বেশি অবদান ছিল। এ কথাটা বলার অর্থ হচ্ছে, আমাদের দলে সুপারস্টার আছে, আছে বিশ্বসেরা ক্রিকেটার। তবে বিশ্বকাপে সে তুলনায় সাফল্য নেই। শুধু নিজে বিশ্বসেরা হয়ে কোন লাভ নেই। যদি দল সাফল্য না পায়। দলকে বিশ্বসেরা করতে পারলে নিজের সেরাটা পূর্ণতা পায়। ফুটবলে একা একটা ম্যাচ জেতানো না গেলেও ক্রিকেট খেলায় একজন ক্রিকেটার একাই একটি ম্যাচ জয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। এ রকম হাজারো নজির আছে। নেল জনসন, স্টিভ টিকোলো, জন ডেভিসনরা যেটা করতে পারে আমাদের ছেলেরা সেটা কেন করতে পারবে না। তারা তো কেউ সুপারস্টার নয়। আমাদের দলে সুপারস্টার আছে, আছে বিশ্বসেরা। আমরা তো কোয়ার্টার খেলার আশা করতেই পারি।

প্রতিটা দলেই কিছু মাইনাস পয়েন্ট থাকে। আমাদের দলেও যে নেই তা নয়। আমাদের ছেলেরাও হরহামেশাই ভুল করে বসে। সেই সব ভুলগুলো এখনই শুধরে নেয়া দরকার। গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে মাত্র ৫৮ রানে অল-আউট হয়েছিল। যেটা কারও কাছেই কাম্য ছিল না। এই ৫৮ রানে অল আউট হওয়ার নেপথ্যে অন্যতম কারণ ছিল ব্যাটসম্যানদের তাড়াহুড়ো করা। একজন ব্যাটসম্যানও ক্রিজে থিতু হতে পারেন নি। সবাই হিরো বনতে গিয়ে জিরো হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। ২০০৯ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল আর ২০১১ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল গুলিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ। তার ফলও পেয়েছিল। এ হারের নেপথ্যকারণ হচ্ছে, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস। এই অতিরিক্ত ‘আত্মবিশ্বাস’টা বুকে লালন না করে কাজে দেখাতে হবে। আরও একটা বিষয় আছে। বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে আমরা হয়তো প্রতিপক্ষ দলের সম্পর্কে কোন খবরই রাখি না। নিয়মটা হচ্ছে, বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করার পর প্রতিপক্ষের প্রতিটা খেলোয়াড়ের যাবতীয় তথ্য জেনে নেয়া। কার কোথায় দুর্বলতা সেটার খবর রাখা। আবহাওয়া, মাঠ, আম্পায়ার সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান থাকা। এসব না জানা থাকলে কে কতটা শক্তি নিয়ে মোকাবেলা করছে, বৃষ্টি হলে কী করতে হবে; কোন ব্যাটসম্যানকে পেস কোন ব্যাটসম্যানকে স্পিন দিয়ে ঘায়েল করতে হবে সে সবের কিছুই বোঝা যায় না।

বাংলাদেশ এবারে যাদের বিপক্ষে খেলবে সেই অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, বাংলাদেশ, স্কটল্যান্ড ও আফগানিস্তানের মধ্যে গত বিশ্বকাপে একমাত্র ইংল্যান্ড ছাড়া বাকি কোন দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপে কোন ম্যাচ জিততে পারেনি। উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ খেলবে আফগানিস্তানের সঙ্গে। এই আফগানিস্তানের কাছে এই তো সেদিন এশিয়া কাপে দেশের মাটিতে হেরেছে। সুতরাং তাদেরকে হালকাভাবে নিলে চলবে না। আফগানরা তো তাদের শক্তিমত্তার পরিচয় এরই মধ্যে দিয়ে ফেলেছে। তারা যে আবারও বাংলাদেশকে হারানোর ক্ষমতা রাখে সেটা অনেকেই মানবেন। আর তাই তাদেরকে ননটেস্ট প্লেয়িং দেশ বলে হালকাভাবে দেখলে বাংলাদেশ মারাত্মক ভুল করবে। প্রতিপক্ষকে প্রতিপক্ষই ভাবতে হবে। সে শক্তিশালী হোক আর দুর্বলই হোক। ম্যাচের আগেই তাকে দুর্বল ভাবলে চলবে না। ম্যাচের আগেই জিতে থাকলে হবে না। খেলে জিততে হবে।

সে যাই হোক, বাংলাদেশের প্রথম টার্গেট হবে গ্রুপ পর্বের ধাক্কা সামলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা। আর সেটা করাটাও খুব একটা সহজ হবে না। তার জন্যেও বাংলাদেশকে অনেক কসরত করতে হবে। আর সেটা করতে হলে বাংলাদেশকে নিদেন পক্ষে তিনটে ম্যাচ তো জিততে হবেই। তারপরও অনেকগুলো ‘যদি’ ‘কিন্তু’ ‘হলে’ থেকেই যাবে। তারপরও সবাই এটা মানবেন যে, বাংলাদেশের কোয়ার্টারে যাওয়ার ক্ষমতা আছে। কিন্তু তার জন্যে চাই সঠিক পরিকল্পনা। আর এখানেই বাংলাদেশ মার খেয়ে যায়। খেলতে যায় কিন্তু প্রতিপক্ষের দুর্বল দিকগুলোর খবর রাখে না। কাকে কীভাবে মোকাবেলা করতে হবে সেটা বুঝতে পারে না। আর সে কারণে অনেক ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও হেরে বসে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ দলকে আরও সজাগ থাকতে হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচের কী প্লানিং সেটা অনেকেই জানেন না। অনেকে বলবেন, এটা সিক্রেট। সিক্রেটই থাক। তবে তাকে বাংলাদেশ দলের ভুলগুলো সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা থাকতে হবে। আর পেছনের ভুলগুলোকে শুধরে নিয়ে পরিকল্পনা মাফিক খেলতে পারলে বাংলাদেশের কোয়ার্টার এমন কী সেমি-ফাইনালে খেলাও অসম্ভব বলে মনে হয় না। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ তাকিয়ে আছে ১৫ জনের মুখের দিকে। তারা আমাদেরকে কি উপহার দেয় সেটা দেখার অপেক্ষায় গোটা বাংলাদেশ।

লেখক : কথাসাহিত্যিক ও সাহিত্য সংগঠক

e-mail : syedmayharulparvey@gmail.com

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: