রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সাবেকদের বিশ্বকাপ ভাবনা

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ॥ বিশ্বকাপে টাইগারদের কাছে আমার চাওয়া, ভাল ক্রিকেট উপহার দিয়ে অবশ্যই দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়া। আমি বিশ্বাস করি সে সামর্থ্য আমাদের আছে। তবে সেটা আমাদের মাঠে প্রমাণ করতে হবে। একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, আমরা যেমন বড় দলগুলোকে হারানোর চিন্তা করছি ঠিক তেমনি স্কটল্যান্ড, আফগানিস্তানও কিন্তু তাকিয়ে আছে কিভাবে আমাদের বধ করা যায় সেইদিকে। সামর্থ্য অনুযায়ী নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারলে ওদের হারানোটা কঠিন হবে না এবং অবশ্যই আমরা কোয়ার্টার ফাইনালে যাব। সেক্ষেত্রে অবশ্য আফগানিস্তান এবং স্কটল্যান্ডকে হারানোর পাশাপাশি যে কোন একটা বড় দলকেও হারাতে হবে। এখন যে পরিমাণ ওয়ানডে আমরা খেলছি তাতে যে কোন একটা বড় টিমকে আমাদের হারানো উচিত। ২০০৭ বিশ্বকাপে আমরা যা করেছি তার ধারাবাহিকা তো অন্তত থাকতে হবে। বেশকিছু ট্যালেন্ট প্লেয়ার আমাদের আছে। তার পাশাপাশি সাকিব, মুশফিক, তামিমরা অনেক পরিণিত হয়েছে। তাই সেটি সম্ভব বলেই আমি মনে করি। এক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা অবশ্যই থাকবে। অস্ট্রেলিয়ার মাঠগুলোতে আমাদের খেলোয়াড়রা এর আগে খুব বেশি খেলেনি। তার পরও আমাদের যেহেতু অস্ট্রেলিয়াতে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন কোচ আছেন, তাই তিনি আমাদের দুর্বলতা অনুযায়ী কি করণীয় তা ভাল অনুধাবন করতে পারবেন, এবং ইতোমধ্যে আমাদের শক্তিশালী এবং দুর্বলতা উভয় দিকই নিশ্চই তিনি ধরতে পেরেছেন। এখন এর যথাযথ প্রয়োগটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দলে যথেষ্ট কুশলি এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্লেয়ার আছে। আশা করি তারা নিজেদের প্রয়োগ করতে পারবে।

অস্ট্রেলিয়ার উইকেটে বাউন্স একটি ফ্যাক্টর হবে। বল ব্যাটে আসবে। সেইদিক বিবেচনা করে বলব, স্ট্রোক খেলার যে দুর্বলতা আমাদের আছে সেখানে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পাওয়ার প্লেতে আট থেকে নয়জন প্লেয়ার বৃত্তের ভেতরে থাকবে। তাই কোন সুযোগ তৈরি হলে প্রতিপক্ষের প্লেয়ারদের হাতে তালুবন্দী হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এজন্য আমাদের সতর্ক থাকতে হবে ইনিংস গড়ার দিকে। ধর্যের পরিচয় দিতে পারলে এই উইকেট থেকে রান আসবেই। প্রতিপক্ষও রান করবে এবং হাই স্কোরিং ম্যাচ হবে। বোলিংয়ের দিক থেকে বলব আমাদের পেসারদের মেধা অনেক ভাল। যদিও একটা দুর্বলতা আছে। আর সেটা হলো এই ধরনের কন্ডিশনে খেলার অনভিজ্ঞতা। এটা আমাদের দুশ্চিন্তার কারণ। তবে ভিজ্যুলাইজ করার মাধ্যমে তারা যদি ভাল বল করতে পারে এবং ফিল্ডিং থেকেও যদি সহায়তা পায় তবে তারা নিশ্চয়ই ভাল করবে। ফিল্ডিংটা যেন খারাপ না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। কারণ গত এক দেড় বছরে কিন্তু ফিল্ডিং এবং ক্যাচিংয়ে দৈন্যই আমাদের প্রকাশ পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় রানিং বিটুইন দ্য উইকেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই জায়গাগুলোতে নিশ্চয়ই কাজ হয়েছে। যেহেতু অনেকদিনের লম্বা একটা সফর হচ্ছে, এজন্য ইনজুরির কিছুটা শঙ্কা থেকে যায়। তাই টুর্নামেন্ট শুরুর সময় যেন আমরা ফিট থাকতে পারি এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া খুবই ভাল। তবে নিউজিল্যান্ডে আমাদের দুইটা ম্যাচ আছে। বিশেষ করে নেলসনে যেখানে খুব একটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয়নি। এটা নিয়ে আশঙ্কা আছে। হ্যামিল্টন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যে কোন দলের জন্যই আতঙ্কের স্টেডিয়াম। আমার বিশ্বাস এগুলোকে আমরা ওভারকাম করতে পারব। টিম নির্বাচনে পরিস্থিতির আলোকে সেরা দলটা নির্বচনের ক্ষেত্রে নজর দিতে বলব ম্যানেজমেন্টকে।

আর বড় দলগুলোকে হারানোর মিশনে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ম্যাচটা এগিয়ে রাখব আমি। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বলতাম কিন্তু হোম কন্ডিশনে কাজটা খুবই কঠিন হবে।

ফেবারিট হিসেবে আমার বিশ্বাস হোম কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়াই এগিয়ে থাকবে। উপমহাদেশের মধ্যে ভারত ট্রফি জেতার জন্য শক্তিশালী দাবিদার। অনেকদিন ধরেই ওরা ওখানে খেলছে এট একটা বাড়তি সুবিধা হবে ওদের জন্য। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকারও ভাল সম্ভাবনা আছে।

ফারুক আহমেদ ॥ বাংলাদেশের যদি অতিত রেকর্ড দেখেন তাহলে দেখবেন ২০০৩ বিশ্বকাপটা খারাপ ছিল, ২০০৭ ভাল হয়েছে। ২০০৩ বিশ্বকাপের আগে ৯৯ বিশ্বকাপটা ভাল গেছে। আবার ২০০৭ ভাল কিন্তু ২০১১ খারাপ। তাই সেদিক থেকে চিন্তা করলে আমি বলব আমাদের এবারের সম্ভাবনা খুবই ভাল।

এটা বলারকে সঙ্গে সঙ্গে এটাও মাথায় রাখতে হবে আমাদের প্রত্যাশার মাত্রাটাও যেন অতিমাত্রায় না হয়। কারণ যে কন্ডিশনে এবার বিশ্বকাপ হচ্ছে সেই কন্ডিশনে খেলা সাফ কন্টিনেন্ট টিমগুলোর জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং। সেদিক বিবেচনা করে আমার প্রথম প্রত্যাশা টাইগাররা ভাল খেলুক। তবে কাজটা সহজ হবে না। সেক্ষেত্রে যদি আপনি জয় পরাজয়ের চিন্তা করেন তাহলে আমি মনে করি ওয়ার্মাপ ম্যাচগুলো যদি আমরা ভাল খেলতে পারি তাহলে আত্মবিশ্বাসটা তৈরি হয়ে যাবে। প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের সঙ্গে যদি আমরা ভালভাবে জিততে পারি তাহলে পুরা ওয়ার্ল্ডকাপের একটা টোনও সেট হবে। আমার মনে হয় তখন পরবর্তিতে আরও ভাল করার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে আমাদের। তবে সবাই দ্বিতীয় রাউন্ডের কথা ভাবলেও আমি ওরকম কোন চিন্তা করছি না। যদিও আমাদের কোচ এবং অধিনায়ক দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার ব্যাপারে তাদের মনোভাবটা প্রকাশ করে গেছেন। আমি তাদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছি না। তবে বিষয়টা তখনই বোঝা যাবে যখন দল ভাল খেলতে থাকবে। দুইটা বা তিনটা ম্যাচ জিতলে আপনি কোয়ার্টার ফাইনালে চলে যাবেন এটাও বলা যাচ্ছে না। তবে হ্যাঁ যদি তিনটা ম্যাচ জিতা যায় তবে সম্ভাবনা ভাল থাকবে। সেক্ষেত্রে আফগানিস্তান-স্কটল্যান্ডের সঙ্গে জিতার পাশাপাশি অন্য একটি বড় দলকে হারাতে হবে। সেই দলটি যে কোন দলই হতে পারে। তবে আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছেÑ নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে নিউজিল্যান্ডকে হারানো কঠিন হবে। আর অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়াকে। বাকি যে দুটা টিম আছে তারাও খুবই শক্তিশালী। তাই আমি বলব প্রথম তিনটা ম্যাচ ভাল খেলাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে। সেক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ নিয়ে খুব বেশি চিন্তা না করে নিজেদের কাজগুলো ঠিকভাবে করতে হবে। সেগুলো ঠিকভাবে করলে আমার মনে হয় বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ভালই থাকবে।

বিশ্বকাপে ফেবারিট হিসেবে একটা দলের নাম বলা যাচ্ছে। সেটা ঠিকও হবে না। তবে স্বাভাবিকভাবেই স্বাগতিক হিসেবে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের খুব ভাল সম্ভাবনা থাকবে। নিউজিল্যান্ড গ্রুপপর্বের খেলাগুলোয় ভাল করলেও যখন তারা অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে যাবে তখন হয়ত সেটা তাদের জন্য কঠিন হবে। অপরদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা খুব ভাল ফর্মে আছে। ভারতও ওয়ানডেতে খুবই শক্তিশালী দল। তবে আগেই বলেছি সাফ কন্টিনেন্ট টিমের জন্য ওই কন্ডিশনে ভাল করা কঠিন। সেদিক থেকে মনে হয় দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া বেশি এগিয়ে থাকবে। তারকা হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমলা-ডি ভিলিয়ার্সের পাশাপাশি কিছু নতুন তারকা আলো ছড়াবে বলে আমার মনে হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার ওয়ার্নর, বিরাট কোহলি, ম্যাককালাম, ধোনি, রোহিত শর্মারা আলো ছড়াবে। তাছাড়া আমি মনে করি আমাদের সাকিব আল হাসানও ভাল কিছু করবে।

মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ॥ পুরো আসরে ভাল ক্রিকেট খেলতে পারাটাই আমার প্রধান চাওয়া এবং আমি আশা করি আমরা ভাল খেলবো। তবে এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যে পনেরো দিন সময় আমরা পেয়েছি, এই সময়ে কন্ডিশনের সঙ্গে আমরা নিজেদের কতটুকু মানিয়ে নিতে পেরেছি সেটার উপর। সেইসঙ্গে নিজেদের মানসিক প্রস্তুতির ওপর। দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার সম্ভাবনার কথা বললে বলব, আমাদের গ্রুপটা অনেক শক্তিশালী। তাই এখনি বলা কঠিন যে আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলব। তারপরও যেহেতু ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা তাই যে কোন কিছুই ঘটতে পারে। তবে প্রতিটা ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য। প্রথম তিনটা ম্যাচ গেলেই বোঝা যাবে আমরা কোনদিকে এগোচ্ছি।

বিশ্বকাপের আগে আমাদের হোম কন্ডিশনে আমরা অনেকগুলো ম্যাচ খেলেছি। এগুলোতে আমরা ভালই করেছি। তবে দেশের বাইরে খুব একটা ভাল খেলিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরটা খারাপ গেছে আমাদের। সেই হিসেবে আমি মনে করি যেহেতু এটা বিশ্বকাপ, তাই একটা চাপ কাজ করবে। তারপরও আমার বিশ্বাস প্লেয়াররা মানসিকভাবে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবে। আর এখনতো দলটা অনেক অভিজ্ঞ। ১০০ ওয়ানডে খেলা অনেকগুলো প্লেয়ার আছে দলে। অনেকে ৬০ এর বেশি ম্যাচ খেলেছে। সেই হিসেবে অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের মিশেলে খুবই সম্ভাবনাময় দল এখন। তাই আমি আশা করি সবাই ভাল করবে।

কন্ডিশন প্রসঙ্গে বলব, কন্ডিশন একেক দেশে একেক রকম হবেই। যেহেতু প্লেয়াররা এখন অনেকে অভিজ্ঞ তাই মনে করি তাদের মানসিকতারও পরিবর্তন হয়েছে। সে হিসেবে আমি মনে করি আমাদের কন্ডিশনের সঙ্গে তাড়াতাড়িই মানিয়ে নেয়াই উচিত। আর ওখানে খুব একটা ঠা-াও না। অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া এখন আমাদের মতোই। সুতরাং মনে হয় না এখানে কোন অসুবিধা হবে। ফেবারিট হিসেবে স্পেসেফিক কোন নাম বলা কঠিন। প্রথম রাউন্ড না গেলে আসলে এটা বুঝা যাবে না। বিশ্বকাপ শুরুর আগে অনেকগুলো দেশই ওই কন্ডিশনে সিরিজ খেলেছে। সে হিসেবে এদের থেকে যে কেউ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেতে পারে। আর তারকার কথা বললে বলব, এখন অনেকেই ভাল ক্রিকেট খেলছে। সেই হিসেবে বিশ্বকাপে নতুন কেউ আলো ছড়াবে।

আকরাম খান ॥ বাংলাদেশ দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠতে পারলে ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব খুশি হব। সেই সম্ভাবনাও ভাল মনে হচ্ছে আমার কাছে। কারণ বাংলাদেশ টিম এখন অনেক ভাল খেলছে। ছোট দল দুটির সঙ্গে জিতে একটা বড় দলকে হারাতে পারলেই ভাল সম্ভাবনা তৈরি হয়ে যাবে। তবে আমি বলব প্রতিপক্ষ নিয়ে যেন আমরা বেশি না ভাবি। আমরা যদি শতভাগ ভাল খেলতে পারি তাহলে যেকোন ম্যাচই আমরা জিততে পারি। এই মুহূর্তে আমাদের ব্যাটিংটা ভাল হচ্ছে। ব্যাটিং লাইন আপটাও বেশ বড়। সাত-আট নম্বর পর্যন্ত ব্যাটসম্যান। আশা করি তারা সবাই নিজেদের মেলে ধরতে পারে। পেশাররাও ভাল করবে আশা করি। পাশাপাশি স্পিনারদের প্রসঙ্গে বলব সাকিব ছাড়া দুজনই নতুন। তবে যেহেতু তারা শেষ সিরিজটা ভাল খেলছে তাই আশা করি ভাল খেলবে। তবে কাজটা কঠিন হবে। কারণ বিশ্বকাপ অনেক বড় টুর্নামেন্ট। তার পরও আমি আশা করি তারা ভাল করবে। কন্ডিশন হয়ত একটু কঠিন তবে টিম যেহেতু পনেরো দিন আগে গেছে তাই কন্ডিশনের সঙ্গে তারা মানিয়ে নিতে পারবে। যারা ভাল প্লেয়ার তারা সব কন্ডিশনেই ভাল খেলে। এটা প্লেয়ারদের কোয়ালিটির ওপর নির্ভর করছে। আর ফেবারিট হিসেবে আমি কারও নাম বলতে চাচ্ছি না। কারণ আমি বাংলাদেশকে নিয়েই চিন্তা করছি অন্য কোন দলকে নিয়ে না। চ্যাম্পিয়ন কে হলো সেটা আমার কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ না। বাংলাদেশ ভাল খেলুক সেটাই আমার একমাত্র চাওয়া।

আমিনুল ইসলাম বুলবুল ॥ এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অবশ্যই ভাল। কারণ দল হিসেবে বাংলাদেশ এখন খুবই পরিণিত একটি দল। তবে ভাল করার ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতাও আছে। অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনে এই দলটার অনেকেই কখনও খেলেনি। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ‘এ’ দল কিংবা বিসিবি একাদশের আদলে দলটাকে ওই কন্ডিশনে পাঠিয়ে তৈরিও করা হয়নি। অস্ট্রেলিয়ায় কি ধরনের ক্রিকেট হচ্ছে সেই মানের কাছাকাছি কোন ক্রিকেট আমরা দেশেও করতে পারিনি। যদিও বিশ্বকাপ শুরুর পনেরো দিন আগে থেকে আমরা অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছি। কিন্তু এটা যথেষ্ট নয়। তবে যেহেতু একটি দল হিসেবে আমরা খেলব তাই দল হিসেবে যদি আমরা পারফর্ম করতে পারি তবে অবশ্যই আমরা ভাল করব এবং পার্টিকুলার ডেতে যদি আমরা ভাল করতে পারি তবে অবশ্যই আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডে যাব। সেক্ষেত্রে স্কটল্যান্ড, আফগানিস্তানকে হারানোর পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড বা নিউজিল্যন্ডের মধ্যে কাউকে হারাতে হবে। এবং সেটির ভাল সম্ভাবনাই আছে। তবে সেজন্য অবশ্যই আমাদের ভাল ক্রিকেট খেলতে হবে এবং সামর্থ্য উজাড় করে দিতে হবে।

বোলিংয়ে আমাদের জন্য মাশরাফি খুবই কার্যকর হবে। ও যদি ওর স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারে তবে সেটা বাংলাদেশকে ভাল অবস্থানে রাখবে। পাশাপাশি তাসকিন, আল-আমিনরাও হাইলি ট্যালেন্টেড ফার্স্ট বোলার। শতভাগ ফিট থেকে উইকেট থেকে সুবিধা আদায় করে নিয়ে যদি তারা বল করতে পারে তবে অবশ্যই তারা ভাল করবে। স্পিনারদের মধ্যে যেহেতু সাবিক ছাড়া দুজনই নতুন তাই পুরো ব্যাপারটা সাকিবের ওপর নির্ভর করবে। ব্যাটিংয়েও ভাল করবে আশা করি। কারণ বাংলাদেশের বেশকিছু হাইলি ট্যালেন্টে ব্যাটসম্যান আছে যাদের ফর্মও এখন ভাল। আশা করি বিশ্বকাপে তাদের সেরা ফর্মে তারা খেলবে। ওয়ানডে ক্রিকেট যেহেতু ব্যাটসম্যানদের খেলা তাই তারা প্রত্যেক ম্যাচে দলকে ভাল সংগ্রহ তারা উপহার দিতে পারবে এটাই আমার প্রত্যাশা।

ব্যক্তিগত চাওয়া প্রসঙ্গে বলব অবশ্যই স্কটল্যান্ড এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ দুটি জেতা। এবং অন্যান্য ম্যাচেও ভাল ক্রিকেট উপহার দিয়ে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় রাউন্ডে নিয়ে যাওয়া।

খালেদ মাসুদ পাইলট ॥ এবারের বিশ্বকাপে টাইগারদের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে আফগানিস্তানের সঙ্গে প্রথম ম্যাচটিতে জয় পাওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচটিতে জয় পেলে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার ভাল সম্ভাবনা তৈরি হবে। এক্ষেত্রে অবশ্য স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পাশাপাশি বড় দলগুলোর একটিকেও হারাতে হবে। সেটা করতে পারা নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কঠিন হবে। কারণ ওরা ওদের হোমে খেলবে। তবে ইংল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের ভাল সম্ভাবনা থাকবে। যেহেতু স্পিন বোলিংটা আমাদের ভাল এবং ওরা স্পিন তুলনামূলক দুর্বল। শ্রীলঙ্কার স্পিনে ভাল বিধায় ওদের সঙ্গে পারা কঠিন হবে। এমনিতে দল হিসেবে আমাদেও টোটাল টিমটাই খুবই ব্যালেন্স একটা টিম। তবে কোন বিভাগকে এক্সট্রা অর্ডিনারি বলব না। আমি মনে করি আমাদের দলটা তিন বিভাগেই সমান সমান। জিততে হলে তিনটা বিভাগেই ভাল করতে হবে আমাদের। তবে ফিল্ডিং নিয়ে কিছুটা দুচিন্তা আছে। কারণ অস্ট্রেলিয়ার মাঠগুলো অনেক বড়। এখানে ফিটনেসও খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে।

আমার দৃষ্টিতে হোম কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়াই ফেবারিট। সঙ্গে সঙ্গে নিউজিল্যান্ডকেও আমি খাবাপ চোখে দেখছি না। ওই কন্ডিশনে ওরা খুবই ভাল। ভারতের প্রস্তুতিও খুব ভাল। অস্ট্রেলিয়ায় হারলেও ওরা কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে। ওয়ার্ল্ডকাপে আসলে যেদিন যে ভাল করবে দিনটা তারই হবে। শীর্ষে যে আটটা টিম আছে আসলে তারা কেউ কারও থেকে কম না। যে কন্ডিশনে খেলা হবে তাতে এদেও যে কেউ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল। নকআউট পর্বেই মূলত আসল খেলাটা বুঝা যাবে। তারকাদের মধ্যে বিরাট কোহলির ভাল করার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার প্লেয়াররাও আলো ছড়াবে।

খালেদ মাহমুদ সুজন ॥ আশা করি বিশ্বকাপে ভাল করব আমরা। দ্বিতীয় রাউন্ডে যাব সেটাই প্রাথমিক প্রত্যাশা। বাকিটা সময় যখন আসবে তখনই বুঝা যাবে। টিমের বর্তমান যে পরিস্থিতি বা যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে তাতে আমি বিশ্বাস করি দ্বিতীয় রাউন্ড খেলতে পারব আমরা। সেক্ষেত্রে ছোট দুটি দলের পাশাপাশি দুটি বড় দলকেও হারাতে হবে। কোন দলকে হারাতে পারব সেটা আসলে সেভাবে নির্ধারণ করে বলা যাবে না। ভাল ক্রিকেট খেললে আমরা যে কোন দলকেই হারাতে পারি। তবে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো কঠিন হবে। তাই আমার মনে হয় ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা এবং নিউজিল্যান্ড এই তিনটা টিমের মধ্যেই টার্গেট থকতে হবে। টিম কম্বিনেশন খুবই সুন্দর। দলের শক্তিশালী দিক হিসেবে বলব টোটাল টিমটাই আমাদের শক্তিশালী দিক। টিমের মধ্যে সিনিয়ার-জুনিয়র ভাল কম্বিনেশন আছে। কন্ডিশন প্রসঙ্গে বলব কন্ডিশন কঠিন হতেই পারে। সেটা আমাদের মাথায় আছে। সেভাবেই আসলে ট্রেনিং হয়েছে প্লেয়ারদের সঙ্গে। বাকিটা আল্লাহ ভরসা। প্রথম ম্যাচের আগে সবমিলিয়ে তিন সপ্তাহের মতো অস্ট্রেলিয়াতে থাকব। আশা করি এই সময়ের মধ্যে ভাল প্রস্তুতি আমরা সেরে নিতে পারব।

ফেবারিট হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে এবার অনেক বেশি এগিয়ে রাখব। নিজেদের কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডও খুবই বিপজ্জনক। সাফ কন্টিনেন্টের মধ্যে ভারত এবং শ্রীলঙ্কাকে এগিয়ে রাখছি।

হাবিবুল বাশার সুমন ॥ আমাদের টিমটা বর্তমানে ভাল ফর্মে আছে। সেদিক বিবেচনা করে বলব দ্বিতীয় রাউন্ডে কোয়ালিফাই করতে পারলে বাংলাদেশ অনেক দূর যাবে। আমাদের টিমটাও খুবই ব্যালেন্স এবং ভারসাম্যপূর্ণ দল। এখন কন্ডিশনের সঙ্গে আমরা কতটুকু নিজেদের মানিয়ে নিতে পারি সেটার ওপরই আসলে আমাদের সাফল্য নির্ভর করবে। কারণ এই ধরনের কন্ডিশনে খেলে আমরা মোটেই অভ্যস্ত নই। তারপরও দল যেহেতেু প্রায় পনেরো দিন আগে থেকে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছে তাই আশা করি সবাই কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পেরেছে এবং বিশ্বকাপে আমাদের ভাল ক্রিকেট উপহার দিতে পারবে।

যেহেতু অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে খেলা হচ্ছে তাই তিনটা দেশের শিরোপা জিতার সম্ভাবনা খুব বেশি বলে মনে হচ্ছে আমার কাছে। তারা হলোÑ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপ প্রতিবারই নতুন কিছু তারকার জন্য দেয় বা এর মাধ্যমে নতুন অনেকেই তারকা হয়ে ওঠে। এখন যেহেতু ভাল খেলোয়াড়ের সংখ্যা অনেক এবং প্রতি দলেই সম্ভাবনাময় কিছু প্লেয়ার আছে, তাই আলো ছড়াবে অনেকেই। নতুনদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকেও কেউ ভাল করতে পারে।

এনামুল হক মনি ॥ প্রথম দুইটা ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য। আমি মনে করি এর উপরই নির্ভর করবে আমাদের পুরো টুর্নামেন্ট। এই দুইটা ম্যাচ যদি প্লেয়াররা ভাল খেলতে পারে তবে এবারের বিশ্বকাপে আমাদের ভাল কিছু করার সম্ভাবনা থাকবে। যেহেতু প্রথম ম্যাচটা আফগানিস্তানের সঙ্গে এবং ওদের সঙ্গে আমরা গত এশিয়াকাপে হেরেছি। তাই ওদের সঙ্গে ম্যাচটা আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া উচিত। এবং ম্যাচ বাই ম্যাচ প্ল্যান করে খেলা উচিত। দল প্রসঙ্গে বলব আমাদের দলটা খুবই ভাল হয়েছে। আমাদের সব প্লেয়ারদের বেসিক ঊনিশ-বিশ। শুধু তামিম-সাকিব থাকলেই ম্যাচ জিতব এখন আর এটা ভাবার কোন কারণ নেই। কারণ এখন দলে পারফর্মার অনেক আছে। তবে তারা দলে থাকলে দল অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হয়। দলে অলরাউন্ডার হিসেবে যারা আছে তারা খুবই ভাল অলরাউন্ডার। বোলিং কম্বিনেশনটাও ভাল। সব মিলিয়ে দলটা ভাল কম্বিনেশনে গড়া। এখন প্লেয়াররা কিভাবে নিজেদের উজাড় করে খেলতে পারে সেটার উপর নির্ভর করছে সাফল্য।

বাউন্স এবং শট বল নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। আমি বলব এটা নিয়ে এতবেশি মাথা না ঘামানোই ভাল। কারণ যারা শট বল করতে পারে তারা সব কন্ডিশনেই শট বল করতে পারে এবং বাউন্স দিতে পারে। আমরা যাদের বিপক্ষে খেলব তারা আসলে সব কন্ডিশনেই শট বল করতে পারে। তবে আমি মনে করি কোকাবোরা বলে যে শট বলটা আসবে সেটা সহজভাবেই হ্যান্ডেল করতে পারবে প্লেয়াররা। দলের ওপেনারদের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। তারা যদি ভাল শুরু করে দিতে পারে তবে তা দলের জন্য খুবই ভাল হবে। স্পিনাররা ভাল করবে। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে খেলা বলে সবাই শুধু ফার্স্ট বোলিং নিয়ে ভাবছে। তবে আমাদের স্পিনাররাও ভাল করবে।

ফেবারিট হিসেবে আমি অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে রাখছি। এরপর নিউজিল্যান্ডকে। এশিয়ার মধ্যে ভারত-শ্রীলঙ্কাও ভাল করবে। তবে এক্ষেত্রে ভারত বোলিংএ কিছুটা পিছিয়ে থাকবে। তারকা প্রসঙ্গে বলব ডিভিলিয়র্স, ডুপ্লেসিস, বিরাট কোহলিরা ভাল করবে। সঙ্গে আমাদের তামিমের কথা বলব। আসলে যেদিন যার ভাল দিন যাবে সেই ভাল করবে।

জাভেদ ওমর বেলিম ॥ বিশ্বকাপে টাইগারদের নিয়ে অনেকে-অনেক ধরনের স্বপ্ন দেখছে। কেউ কোয়ার্টার ফাইনাল, কেউ বা আবার সেমিফাইনালের কথা বলছে। তবে সত্যি কথা আমি এসবে মোটেও বিশ্বাসী নই। আমাদের যে পজিশন তাতে সেমিফাইনাল যদি আমরা খেলি তাহলে কেন আমরা ফাইনাল খেলতে পারব না বা চ্যাম্পিয়ন হতে পারব না? গত বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের দিকে তাকালে দেখবেন, ওরা দ্বিতীয় রাউন্ডে যায়নি। আমরাও দ্বিতীয় রাউন্ডে যাইনি। তবে আয়ারল্যান্ড কিন্তু সেরা ক্রিকেট খেলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। তাই আমি টাইগারদের কাছে ভাল ক্রিকেট আশা করছি। কারণ বাংলাদেশ দ্বিতীয় রাউন্ডে যাক বা না যাক এটাও আসলে গুরুত্বপূণর্, তবে তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বেটার ক্রিকেট খেলা। কারণ বিশ্বকাপ একটা ইমোশনাল ইভেন্ট। পুরো পৃথিবী এটা দেখবে। এক্ষেত্রে আমি নিজেকে বাস্তববাদী দাবি করছি না। বাংলাদেশ অবশ্যই ভাল টিম এবং ভাল খেলবে এটা আমি আশা করব। আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডে যাই বা না যাই সেটা আমার কাছে বড় ফ্যাক্টর না, আমরা বেটার ক্রিকেট খেলতে পারলাম কিনা সেটাই বড় ফ্যাক্টর। কারণ ভাল ক্রিকেট খেলতে পারাটাই আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি হবে।

আর ম্যাচ জিততে হলে অবশ্যই তিন বিভাগে ভাল করেই আমাদের জিততে হবে। ব্যাটিংটা ভাল করতেই হবে কারণ স্কোর বোর্ডে রান না থাকলে কখনই প্রতিপক্ষের সঙ্গে ফাইট দেয়া যাবে না। যদিও অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড কন্ডিশন তবুও হয়ত বোলিংয়ে আমরা স্পিনের উপরই নির্ভর করব। তবে ফিল্ডিংটা অবশ্যই ভাল হতে হবে।

অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড সবার জন্যই কঠিন কন্ডিশন। অস্ট্রেলিয়ায় বাড়তি বাউন্স থাকে, বাড়তি পেস থাকে। আবার নিউজিল্যান্ডে বল অনেক মুভ করে। সবাবই অসুবিধা হবে। তবে ওই দলই কিন্তু ভাল দল যারা দ্রুত মানিয়ে নিয়ে ভাল ক্রিকেট খেলতে পারবে। তবে আমাদের প্রস্তুতিটা আরও ভাল হওয়া উচিত ছিল। যদিও আসর শুরুর পনেরো দিন আগে থেকেই আমরা ওখানে অবস্থান করছি। ছয় মাস আগে একটা ট্যুর দিয়ে আসতে পারলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য অনেক ভাল হতো।

চ্যাম্পিয়নশিপে সবদিক বিবেচনা করলে বলব অস্ট্রেলিয়, দক্ষিণ আফ্রিকাই এগিয়ে থাকবে। উপমহাদেশের মধ্যে শ্রীলঙ্কা এবং ভারত। তারকাদের মধ্যে বিরাট কোহলি আছে পাশাপাশি চাইব আমাদের সাকিব, তামিম, মুশফিকরাও আলো ছড়াক।

মোহাম্মদ রফিক ॥ যে কন্ডিশনে এবার বিশ্বকাপ হচ্ছে সেই কন্ডিশন থেকে আমাদের কন্ডিশন কিন্তু একেবারেই ভিন্ন। ওদের উইকেটের সঙ্গে আমাদের উইকেটও ভিন্ন। তাই যে সময়ে আমরা ঐখনে গিয়েছি তাতে আমি বলব আরও এক সপ্তাহ আগে গেলে আমাদের জন্য বেশি ভাল হতো। ওখানকার উইকেটে-কন্ডিশনের সঙ্গে আরও বেশি পরিচয় ঘটত। বাংলাদেশ কি করবে বা কোন পর্যন্ত যাবে এ প্রসঙ্গে আমি কিছু বলতে চাই না। আমি মনে করি আমাদের ডে-বাই-ডে একটা একটা করে ম্যাচ প্ল্যান করে খেলতে হবে। একটা একটা করে ম্যাচ জিততে হবে। পুরো টুর্নামেন্ট নিয়ে প্লান করলে কিন্তু হবে না। তবে প্রথম ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচটা জিতলে আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক ভাল থাকবে। আর প্রথম ম্যাচ হেরে গেলে আত্মবিশ্বাস অনেক নিচে চলে যাবে। মনে রাখতে হবে এটা বিশ্বের সবচেযে বড় টুর্নামেন্ট। প্রতিপক্ষ নিয়ে চিন্তার খুব বেশি কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ এই দলগুলোর সঙ্গে আমরা ঘুরে ঘুরে খেলে থাকি। এদের সবার সঙ্গে খেলে আমরা অভ্যস্ত। পার্থক্যটা হবে আসলে ওদের কোয়লিটি এবং আমাদের কোয়ালিটি। মূলত এই জিনিসটাই আমাদের তুলে ধরতে হবে। যেহেতু ক্রিকেটে কোন নিশ্চয়তা নেই এবং ফলাফলের জন্য শেষ বল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় তাই আমি জয়-পরাজয়ের কথা বলব না। আমি চাই বাংলাদেশ ভাল ক্রিকেট খেলুক। একজন স্পিনার হিসেবে দলের স্পিন বিভাগ নিয়ে বলব, স্পিনার হিসেবে যারা আছে তাদের দুজনই নতুন। সাকিব যদি ওদের হেল্প করতে পারে, সিনিয়র প্লেয়াররা যদি কন্ডিশন নিয়ে অভিজ্ঞতা ঠিকভাবে শেয়ার করে তবে দেখবেন খেলার আগেই ওদের কনফিডেন্স তৈরি হবে এবং ভাল করবে। আর ম্যাচের রেজাল্ট অবশ্যই সব বিভাগের ওপর নির্ভর করবে। যখন যে ধাপ আসবে সেটাতেই আমাদের ভাল করতে হবে। ৫০ ওভারের মধ্যে কিভাবে প্রতিপক্ষকে কম রানে আটকানো যায় বোলারদের জন্য সেটিই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপে আমার কাছে সবার আগে আমার দেশ। তারপর আমি সাপোর্ট করব অস্ট্রেলিয়াকে। যেহেতু নিজেদের মাঠে খেলবে তাই ওদের সম্ভাবনাই বেশি বিশ্বকাপ জিতার।

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: