মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এড়িয়ে চলুন দুশ্চিন্তা ও ক্লান্তি

প্রকাশিত : ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
এড়িয়ে চলুন দুশ্চিন্তা ও ক্লান্তি
  • শহিদুল ইসলাম

আমার কলিগদের মুখে মাঝে মাঝেই একটি বাক্য শুনি তা হলো, এই চাকরি করতে ভাল লাগে না। এর কোন ভবিষ্যত নেই- এই জাতীয় হতাশার কথা। যদিও চাকরিটা আরামের। তারপরও কথায় ক্লান্তির ছাপ প্রকাশ পায়। এর কারণ কিন্তু শারীরিক শ্রম বেশি দিতে হয়, তা না। এই ক্লান্তির আসল কারণ হলো মানসিক চিন্তা। এই মানসিক চিন্তার কারণেই কাজের প্রতি বিরক্তভাব চলে আসে। যদি একবার নিশ্চিত হওয়া যেত : এই চাকরি যাবে না। এই চাকরি করেই সারাজিবন সবাইকে নিয়ে ভালভাবে চলা যাবে, নিজের প্রাপ্যটুকু সময়মতো পাওয়া যাবে তাহলে কাজের প্রতি কখনই বিরক্তিভাব আসত না।

ক্লান্তি দুশ্চিন্তাকে দূরে রেখে কিভাবে সামনের দিকে যাওয়া যাবে? ইংল্যান্ডের খ্যাতনামা মনবিজ্ঞানী জে. এ. ব্যাকফিল্ড তার সাইকোলজি অব পাওয়ার গ্রন্থে বলেন : যে ক্লান্তিতে আমরা বেশির ভাগ ভুগি তার জন্ম নেয় মন থেকে। কায়িক শ্রম থেকে নয়, আমি এক দর্জিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি সব সময় বসে থাকেন আপনার বিরক্ত লাগে না? তিনি উত্তরে বলেছিলেন, যখন ভাবি এই শার্ট বানানো শেষ হলেই কিছু টাকা পাব তখন বিরক্তিভাব কেটে যায়। তার মানে বোঝা গেল শরীরের শ্রম নয়, মনের হতাশা থেকেই ক্লান্তি ভাব আসে।

যারা বসে বসে কাজ করেন তারা বেশি ক্লান্ত, হতাশাগ্রস্ত হয়। কারণ হলো মনের আবেগজনিত কিছু বিষয়। কি ধরনের আবেগজনিত বিষয় বসে থাকা কর্মীদের ক্লান্ত করে? আনন্দের কিছুতে? মনের খুশিতে? না, কক্ষণও তা নয়। বসে বসে কাজ করতে গিয়ে তার ভিতর এক ঘেঁয়েমি, বিরক্তি, যোগ্যতর মূল্যায়নের অভাব, ওরের কর্মকর্তার অবহেলা, কাজে তারাহুড়া, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তাÑ এগুলোই সেই আবেগজনিত কারণ, যা কাজ করার সময় তাকে ক্লান্ত করে। এবং এই যন্ত্রণায় আক্রান্ত হয়েই কর্মক্ষেত্র থেকে বাড়ি ফিরে। হ্যা জেনে রাখুন এই ক্লান্তিই আমাদের শরীরের স্নায়ুবিক উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

যেকোন কর্মক্ষেত্রে জীবন চলার পথে একঘেয়েমি, ক্লান্তি আপনি অনুভব করবেনই। তাই এই ক্লান্তিভাব এড়িয়ে চলতে আপনি যা করতে পারেন :

* কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নিন, অবসর সময় মজাদার কোন বই পড়ুন।

* বেশ আরাম করে বসে কাজ করুন। কারণ শরীরে উদ্বেগ থাকলে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা অনুভব হয়।

* দিনে ৪-৫ বার নিজেকে জিজ্ঞেস করুন। আমি কি বেশি পরিশ্রম করছি? এটা আপনাকে বিশ্রামের কৌশল আয়ত্ত করতে শিখাবে।

* অপ্রয়োজনীয় কাগজ, ফাইল সামনে থেকে সরিয়ে রাখনু। আপনি যদি আরামে কাজকর্ম করতে চান তাহলে প্রয়োজনীয় ফাইল ছাড়া সব কিছু দূরে রাখাই উচিত।

* সামনে অনেক কর্তব্য যা আপনাকেই করতে হবে। এটা আপনার জন্য চাপ হবে। তাই ধীরে ধীরে কাজ করতে থাকুন। দেখবেন একসময় সব কাজ শেষ হয়ে গেছে।

* কাজের গুরুত্ব অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করুন।

* কোন সমস্যাসম্মুখীন হলেই তার সমাধান করুন। অযথা সমস্যা ঝুলিয়ে রাখবেন না। এতে চাপ পড়বে।

* বেশি কাজ হলে কাজের চাপ কমাতে অন্যের সঙ্গে শেয়ার করুন। কাজ ভাগাভাগি করে করাও ভাল।

* মাঝে মাঝেই দৈনন্দিন কাজের বিরতি দিয়ে পরিবার নিয়ে ঘুরে আসুন কোথাও। এতে বিরক্তিভাব কেটে যাবে। কাজের গতিও বেড়ে যাবে। মনে রাখবেন আমাদের জীবন হলো আমাদের মন যা তৈরি করে আমরা ঠিক তাই। চিন্তার মধ্যে দিয়েই আপনি যেকোন কাজে সফল হতে পারেন। শুধু ভাবতে চেষ্টা করুন যেকোন কাজকে আনন্দময় করে তুলতে পারলে জীবনের আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে উঠবে কাজকে আনন্দময় করে তুলতে তাতে পদোন্নতি বা আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাও আছে। আর তা না হলেও অন্তত আপনার দৈনন্দিন ক্লান্তি দূর হয়ে আনন্দের পরশ পেতে পারেন।

প্রকাশিত : ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৯/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: