আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জঙ্গী হামলায় উন্মত্ত পৃথিবী

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
জঙ্গী হামলায় উন্মত্ত পৃথিবী
  • জাফর ওয়াজেদ

(পূর্ব প্রকাশের পর)

গত এক দশকের বেশি সময়ে জঙ্গীবাদের, সন্ত্রাসের শিকার হয়ে কত মানুষ যে হতাহত হয়েছেন তার পরিসংখ্যান মেলে না। সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছেন। এদের কেউই আক্রমণকারী জঙ্গীদের বিরুদ্ধে কোন ক্রিয়াকলাপে যুক্ত ছিল না। পৃথিবী এবং সমাজের কোন উপকার সাধিত হচ্ছে বার বার এত নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে, কে জানে।

যারা এসব হত্যাকা- চালায় দলবদ্ধভাবে, তারা কোন একটা দৃঢ়বিশ্বাস থেকেই এই কাজ করে। অনেক নিরীহ মানুষকে মারতে যাচ্ছি, নিজেও মরবতো বটেই, কিন্তু এই মেরে ফেলার কাজটা হচ্ছে খুবই একটা বীরত্বের কাজ। এই বিশ্বাসটাকেই তাদের মস্তিষ্কে প্রবিষ্ট করায় যে, ‘মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী’। আত্মঘাতী বোমায় অনেক ‘কাফেরকে ছিন্নভিন্ন করবে এবং নিজেও ছিন্নভিন্ন হয়ে সোজা বেহেশতে প্রবেশ করবে শহীদ হয়ে। আবার দেখা যায়, এদের এমনভাবে মগজধোলাই করা হয়েছে যে, এরা বাবা-মা, ভাই-বোন, বন্ধু-স্বজনসহ শান্তিপূর্ণ জীবনের মায়া ছেড়ে গায়ে বিস্ফোরক বেঁধে মরতেও রাজি। কতখানি ধৈর্য ও জিদ থাকলে তারা স্ত্রী, পুত্র-কন্যা ফেলে মরণ আগুনে ঝাঁপ দিতে পারে- তা বিস্ময়কর। মহান সৃষ্টিকর্তা তাদের দয়া করবেন, রহমত দেবেন, বেহেশতবাসী করবেন- এই বিশ্বাস তাদের।

বিশ্বে বর্তমানে যত জঙ্গী সংগঠন তৎপর তার বড় একটা অংশই মুসলিম। ইসলাম ধর্মে মানুষকে ভালবাসা, অন্য ধর্মের মানুষকে হেয় না করা, আত্মঘাতী না হওয়া, হত্যা না করা, শান্তি বজায় রাখায় কথা বলে থাকলেও এদের কার্যক্রম এর সম্পূর্ণ বিপরীত। অথচ এরা একটা কাজ করে, তা হচ্ছে মারো, মেরে ফেলো, সে যে-ই হোক জবাই করো। এরা নেতার ভাষ্যকে সত্য বলে মানে। যুক্তির কোনো ধার ধারেও না। নিজেদের মত ও পথই তাদের কাছে গুরুত্ববহ।

জঙ্গীবাদকে বিশেষ এক ধরনের ধর্মান্ধতা বলা হয়। বিশেষ কিছু মানুষ, অর্থ ও অন্য ধরনের সামাজিক প্রতিপত্তির সঙ্গে নিজ নিজ ধর্মের চমৎকৃত করার মতো অপব্যাখ্যা করার শক্তি যাদের থাকে, জনসম্মোহন ক্ষমতা ও নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা; তারাই বিদ্বেষ ও প্রতিশোধস্পৃহা প্রবেশ করায় নিরীহদের মনে। তা করে স্রষ্টার নামে। যে সংগঠনের যতটুকু প্রসার পরিধি, যতটুকু ক্ষতি করার শক্তি, সেটাকেই তারা মারণাস্ত্রের মতো ব্যবহার করে। জঙ্গীবাদ নিজেই একটি ধর্ম। ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের কিছু মানুষ, যাদের লক্ষ্য প্রতিশোধ, আতঙ্ক ও প্রভুত্ব বজায় রাখা। তারা ভিন্ন ভিন্ন দেশে এই ধর্ম গ্রহণ করে। এরাই স্রষ্টার সৃষ্ট নিরীহ মানুষের হত্যাকারী।

১৯৮৮ সালে আফগানিস্তানের পাহাড়ে আল-কায়েদা নামক সংগঠনটি গড়ে ওঠার পরে সারাবিশ্বে তা ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের প্রতিটি অংশই স্বতশ্চালিত। যে আক্রমণের সুযোগ পায়, এগিয়ে যায়। প্রযুক্তির সুবিধা তারা ব্যাপকভাবে নিচ্ছে। জঙ্গীরা কে কখন কোথায় হামলা করে, তা স্থির হয় তাদের বিভিন্ন স্তরে প্রয়োজনে এরা অবস্থান পাল্টে ফেলতে পারে। একালে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, স্মার্ট, ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষ যারা তাদেরই রিক্রুট করে আসছে জঙ্গীরা।

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে বিশ্ববাসীকে। এদের নির্মূল করা সহজতর নয়। বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের চরিত্র এক। তাকে দমন করার চেষ্টা হবে নিরন্তর। আল-কায়েদার নেতা আল জাওয়াহিরির হুমকি বা বার্তা বাংলাদেশ সহজভাবে নিয়েছে, তা নয়। এর মোকাবেলা করতে হলে জনগণকে সঙ্গে নিতে হবে।

দেশী জঙ্গীদের সংশোধনাগারে পাঠিয়ে মগজধোলাই করা সঙ্গত। সময় বিশ্বজুড়ে এখনও জঙ্গীবাদ উদ্বিগ্ন হওয়ার পেছনে যেসব সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্ররোচনা কাজ করে; যেসব কারণ জঙ্গীবাদ, ঘৃণা; আক্রোশের জন্ম দেয়, যে সব অন্যায় পক্ষপাতিত্ব; অত্যাচার মানুষকে মরিয়া করে তোলে, সেগুলোকে চিহ্নিত করে উপড়ে ফেলা

জরুরী। জঙ্গীবাদকে যে দমন করা যাবে না, তা বিশ্বের বড় বড় নেতারাও জানে। কিন্তু জঙ্গী হয়ে ওঠার কারণগুলোকে দূর করার চেষ্টা করলে, জঙ্গী মনোভাব পরিহার করে আত্মসংশোধনে নিয়োজিত হলে জঙ্গীরা স্তিমিত হতে থাকবে। তাই জঙ্গীবাদ বিনাশে মনোভঙ্গি, দৃষ্টিভঙ্গি সবকিছুই পাল্টানোর জরুরি প্রয়োজন সর্বাগ্রে।

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৪/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: