কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সফল ব্যক্তির গল্প

প্রকাশিত : ৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • মুসান্না সাজ্জিল

যৌবনের উৎস ও কর্মদীপ্ত জীবনের অনুসন্ধান অতীতে অনেকেই করেছেন। শেষ অবধি তাঁরা এই সিদ্ধান্ত উপনীত হন, একটি পরিকল্পনামাফিক রুটিন- কর্মদীপ্ত জীবন ও যৌবনের মূল উৎস। প্রতিটি সফল মানুষের বিজয়ী হওয়ার মূলে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা, যা প্রতিদিন প্রথাগত অনুষ্ঠানের মতোই অনুসরণ করা হয়। অতীতের রঙ্গিন ক্যালেন্ডার পাল্টে এখন নানা এ্যাপস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় নিজেদের পূর্ব পরিকল্পনার কথা। ‘প্রতিটি দিন একটি নতুন দিন এবং প্রতিটি সময় হলো আদর্শ সময়’ জীবনে চলার পথে এমন স্লোগান যারা ব্যবহার করেন, তারাই সাফল্যা অর্জন করেন। সফল শিল্পী, লেখক, সুরকার, দার্শনিক, বিজ্ঞানী এবং অন্যান্য পেশাগত ক্ষেত্রে স্বনামধন্য এমন ১৬১ জন ব্যক্তির ওপর গবেষণা করে একটি বই রচনার দায়িত্ব নেন লেখক ম্যাসন কারি। অসাধারণ এই বইয়ের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, সকল মানুষের কাছে নিয়মানুবর্তিতা অবকাশের চেয়ে বেশি কিছু। ছোট-খাট অনেক বিষয়ের উল্লেখ থাকলেও, মূল উপজীব্য নিচে তুলে ধরা হলো-

হ এমন কাজের ক্ষেত্র, যেখানে কম মনোযোগ নষ্ট হয়

জ্যোন অস্টিন নিজের দরজার কব্জায় যে মৃদু শব্দ, তা ঠিক করেননি, যাতে তার রুমে কেউ আসলেই তিনি আগে টের পান। উইলিয়াম ফোকনার ঠিক এমনি এক পন্থা অবলম্বন করতেন। দরজার কপাট লাগিয়ে রুম বন্ধ করে রাখতেন, যেন কেউ তার কাজে বিরক্ত করতে না পারে। মার্কিন লেখক মার্ক টোয়েনের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ঘটনা ঘটে। তাঁর পরিবার দরজার পাশে একটি ঘণ্টার ব্যবস্থা করেন। ফলে যখনি পরিবারের কোন সদস্যের দরকারি কোন বিষয় থাকত, তখনি ঘণ্টা বাজানো হতো। সবচেয়ে মজার দৃষ্টান্তটি সম্ভবত গ্রাহাম গ্রীনের। তিনি তাঁর লেখালেখির সুবিধার্থে একটি গোপন রুম ভাড়া করে রেখেছিলেন। যার ঠিকানা বা ফোন নাম্বার জানা ছিল কেবল তার স্ত্রীর। ফলে সফল ব্যক্তিদের জীবন আলোচনা করে জানতে পারি, কাজের পরিবেশে যৎসামান্য মনোযোগের ঘাটতি আমাদের ক্ষতির কারণ হতে পারে। ফলে মনমতো কাজের পরিবেশ সফলতার অন্যতম কারণ।

হ প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস

প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস আমাদের মানসিক কর্মদীপ্ততা ও স্থিরতা বৃদ্ধি করে। চার্লস ডিকেন্স প্রতিদিন তিন-চার ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করতেন। চলার পথে রাস্তায় অবলোকন করা মানুষের গল্প, চিত্র এবং চরিত্রগুলো উঠে আসত তাঁর গল্পে। চাইকোভস্কি প্রতিদিন রুটিন করে দু’ঘণ্টা হাঁটতেন এবং এই নিয়মের কোন ব্যত্যয় ঘটাতেন না। বেটোফেন প্রতিদিন খাওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য হাঁটাহাঁটি করতেন এবং সঙ্গে রাখতেন পেন্সিল ও পেপার। যাতে কোন আইডিয়া মাথায় ঘুরপাক খেলে তা টুকে রাখতে পারেন। এরিক সেতিও এমন অভ্যাস রপ্ত করেছিলেন। প্রতিদিন এরিক প্যারিসের শ্রমিক অধ্যুষিত অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতেন এবং রাস্তার ধারের কোন ল্যাম্পপোস্টে এসে শেষ হতো তার পথচলা। এই সম্পর্কে একটি গল্পও চালু আছে। যুদ্ধকালীন সময়ে যখন এসব ল্যাম্পপোস্ট বন্ধ করে দেয়া হয়, তখন এরিকের কাজের গতিও হ্রাস পায়।

হ কাজের পরিমাপ

এ্যান্থটি ট্রোলপি প্রতিদিন কেবল তিন ঘণ্টা লিখতেন। কিন্তু লেখার ক্ষেত্রে তার কিছু হিসাব-নিকাশও ছিল, যেমন : প্রতি ১৫ মিনিটে এ্যান্থটি ২৫০ শব্দ লেখার চেষ্টা করতেন। নির্দিষ্ট তিন ঘণ্টার মধ্যে তাঁর বই পড়া শেষ হলেই নতুন বই পড়া শুরু করতেন। আর্নেস্ট হ্যামিংওয়ে ও বিএফ স্কিনার নিজেদের লেখা গ্রাফ কিংবা চার্টে লিখে রাখতেন যাতে প্রতিদিনের কাজের পরিমাপ করতে পারেন।

হ গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং ব্যস্ত কাজের মধ্যে ব্যবধান তৈরি করতে হবে। সফল ব্যক্তিরা সর্বদা তা মেনে চলতেন।

হ একজন সাহায্যকারী সহযাত্রী সকলের কাম্য যিনি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনার কাজকে আরও গতিশীল করবে। বিখ্যাত ব্যক্তিরা এমন সাহায্যকারী জীবনসঙ্গীর মাধ্যমে নিজের কাজকে সহজ করেছেন। বিখ্যাত ব্যক্তিদের স্ত্রী কিংবা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাহায্যের ঘটনা তাদের ব্যক্তিগত জীবনে সফলতা বয়ে আনতে সাহায্য করে।

হ সীমিত সামাজিক জীবন

সফল ব্যক্তিরা গ-িবদ্ধ সামাজিক জীবন অতিবাহিত করতেন। অর্থাৎ প্রতিবেশী কিংবা আত্মীয়দের সঙ্গে কম সময় অপচয় করতেন। যাতে নিজের কাজের ওপর গুরুত্বারোপ করা সহজ হয়।

সূত্র : হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ

প্রকাশিত : ৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৩/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: