মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

হলুদ ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে বিস্তীর্ণ মাঠ প্রান্তর

প্রকাশিত : ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
হলুদ ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে বিস্তীর্ণ মাঠ প্রান্তর
  • সান্তাহারে সরিষা চাষ

মোঃ হারেজুজ্জামান হারেজ ॥ কম খরচ ও পরিশ্রমে বেশি মুনাফা আনে যে সব ফসল তার মধ্যে অন্যতম হলো সরিষা। বহুমুখী উপকারী ফসল এই সরিষা। এ থেকে প্রধান উৎপাদিত সামগ্রী তেল। পাশাপাশি পাওয়া যায় খইল ও খড়ি। এছাড়া সরিষা ক্ষেত থেকে মধু আহরণ কৃষকের বাড়তি আয়ের সুযোগ করে দেয়।

এবারও বগুড়ার সান্তাহার পৌরসভাসহ আদমদীঘি উপজেলায় করা হয়েছে সরিষা চাষ। চলতি রবিশস্য মৌসুমে প্রায় সাড়ে ২৪ হাজার একর জমিতে রবিশস্য চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সরিষা চাষ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার একর জমিতে। আদমদীঘি উপজেলা কৃষি অফিসার শাহাদুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সুষম সার ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, ফলন বাড়াতে ফসলের রকম ভেদে সারের প্রয়োগ আবশ্যক। কৃষকদের অসচেতনতার কারণে নির্ধারিত সার প্রয়োগ না করায় ফসলের ফলন ঘাটতি হয়ে থাকে। তিনি বলেন, সরিষা চাষের জন্য জিপসাম সার ও জৈব সার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জিপসাম সার গাছের স্বাস্থ্য ভাল রাখে এবং দানা ভাল করে ফলন বাড়ায়। জৈব সার মাটির শক্তি বৃদ্ধি করে ফসল উৎপাদনে সহায়তা করে। এ এলাকার ফসলের জমির মাটি অনেক সময় সালফারহীন হয়ে পড়ে। ফলে মাটির সালফার বাড়াতে এবং শ্রেণী বিশেষ ফসল উৎপাদন করতে যথা নিয়মে সঠিক সার ব্যবহার করলে একদিকে যেমন কীট পতঙ্গের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে পাশাপাশি ফসল উৎপাদনে ব্যাপক সহায়তা করবে। এ কারণে কৃষকদের অবশ্যই সচেতন হয়ে ফসল উৎপন্ন করতে হবে।

সরিষা শাক নামে কচি সরিষা গাছ গ্রাম ও শহরের মানুষের একটি পছন্দের তরকারি। সরিষা তেলের ব্যবহার নানাবিধ। আজকের দিনেও অনেক পুরুষ মাথায় সরিষা তেল ব্যবহার করে। শীতের দিনে গায়ে মাখা, সুস্বাদু আচার তৈরিতে সরিষা তেলের বিকল্প আর কিছু নেই। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী তরকারি রান্না ও শাক-সবজি এবং অন্যান্য উপাদেয় ভাজিতে ভোজ্য তেলের পরিবর্তে ব্যবহার করে সরিষা তেল। গ্রাম এলাকায় সন্তান জন্মের পর এই তেল ব্যবহার হয়। সরিষা ভাঙ্গানোর পর পাওয়া খইল একটি আদর্শ গোখাদ্য। খইল গরুর জন্য রুচিকর ও বলবর্ধক খাদ্য। শুধু গরু নয় মহিষ, ভেড়া ও ছাগলের বাড়তি খাদ্য হিসেবেও এটি সমাদৃত। এছাড়াও পুকুরে চাষ করা মাছের খাদ্য হিসেবেও ব্যাপক ব্যবহার করা হয়। সরিষা মাড়াইয়ের পর মেলা খড়ি সাধারণ মানুষ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও গ্রাম জনপদে বাড়ির আশপাশে চাষ করা বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত রক্ষায় বেড়া হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। সরিষা মৌসুমে কৃত্রিম উপায়ে চাষ করা ছাড়াও করা হয় মধু আহরণ।

সরিষা চাষ করা জমিতে অল্প চাষে ইরি-বোরো ধান চাষ করা যায়। সরিষার জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষে রাসায়নিক সার তেমন লাগে না। কারণ সরিষার গাছ থেকে ঝরে পড়া পাতা, ডাল ফল পচে তৈরি হয় জৈব সার। এটি রাসায়নিক সারের চেয়ে বেশি শক্তিশালী।

সরিষা প্রকৃতিতে দু’ভাবে পরিবর্তন আনে। একটি হলো ক্ষেতে বীজ বপন করার পর গাছ কিছুটা বেড়ে উঠলে সবুজে ভরে ওঠে দিগন্ত। দ্বিতীয়বার যখন সরিষা গাছে ফুল ফোটে তখন আরেক দফা পরিবর্তন চোখে পড়ে।

প্রকাশিত : ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০২/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: