কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ালে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরবে

প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারী ২০১৫
  • কোকোর মৃত্যুতেও নাশকতা বন্ধ করেনি ॥ তোফায়েল

সংসদ রিপোর্টার ॥ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট অবরোধ-হরতালের নামে বাংলাদেশকে নিয়ে খেলছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে নানা ধরনের অপতৎপরতা চালাচ্ছে। কিন্তু তাদের নাশকতা, সহিংসতা ও জঙ্গীবাদী তৎপরতার বিরুদ্ধে দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ালে কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, ২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বানচালের নামে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশকে ধ্বংস করতে হেন কোন ধ্বংসযজ্ঞ নেই যা তারা করেনি। কিন্তু শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় তারা নির্বাচন বানচাল করতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, ওই ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্ষুণœ হয়েছিল।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি বছরে দেশ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে, সারাবিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ যখন সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আবারও বিএনপি-জামায়াত জোট দেশবিরোধী কর্মকা- করছে। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রীর ছোট ছেলের (আরাফাত রহমান কোকো) মৃত্যুর পর দেশবাসী ভেবেছিল বিএনপি-জামায়াত তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকা- স্থগিত করবে। কিন্তু তারা তা করেনি। তাই দেশবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ালে দেশে কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে।

সরকারী দলের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা স্থগিত করায় আমাদের রফতানি বাণিজ্যে সামান্য প্রভাব পড়েনি, বরং বেড়েছে। আর আমাদের রফতানির প্রধান খাত তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্র কখনোই জিএসপি সুবিধা দিত না। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছা করলেও এখন আমাদের জিএসপি সুবিধা ফেরত দিতে পারবে না। কারণ ২০১৩ সালেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধা প্রদানের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন মার্কিন সরকারের কংগ্রেস বিষয়টি নবায়ন করলে তখন আলাদা কথা। তিনি বলেন, আমরা শুধুমাত্র প্লাস্টিক, জুট আর চামড়া খাতে জিএসপি সুবিধা পেতাম। আর জিএসপির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে ১৬টি বিষয় আমাদের পূরণ করতে বলেছিল, তার অধিকাংশই আমরা পূরণ করেছি।

ন্যাপের সংসদ সদস্য মিসেস আমিনা বেগমের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, খাদ্য উৎপাদন, খাদ্য মজুদ এবং খাদ্য সরবরাহ যাতে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় সে দিকে সরকারের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। চাল উৎপাদনে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। ক্ষেত্র বিশেষ আমরা চাল রফতানি করে থাকি, তাই নিম্নমানের চাল আমদানির কোন সুযোগ নেই। তিনি জানান, বৈশ্বিক বাণিজ্যিক প্রেক্ষাপটে কোন পণ্যের আমদানি ও রফতানি নিয়ন্ত্রণের কোন সুযোগ নেই। চালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ও রফতানি নির্ভর করে দেশের সার্বিক মজুদ পরিস্থিতি, কৃষকের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি এবং অভ্যন্তরীণ বাজার মূল্যের ওপর।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এ কে এম মাঈদুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, স্থায়ী বাণিজ্যমেলা কমপ্লেক্সটি নির্মাণের জন্য চীন সরকার ২০১ কোটি টাকা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত জমি না পাওয়ার প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায়নি। ইতোমধ্যে গত বছরের আগস্টে রাজউক কর্তৃক পূর্বাচল উপশহরে ২০ একর জমি বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) কর্তৃক বর্তমানে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ডিপিপি একনেক কর্তৃক অনুমোদনের পর পরই প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। স্থায়ী বাণিজ্যমেলা নির্মাণের কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে।

প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারী ২০১৫

২৮/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: