মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই

প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারী ২০১৫
  • প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচী বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪০ কোটি মার্কিন ডলারের (প্রায় ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা) ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচী (পিইডিপি-৩) বাস্তবায়নে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। রবিবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন ও বিশ্বব্যাংকের পক্ষে কান্ট্রি ডাইরেক্টর জোহানেস জাট স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর শেষে মেজবাহ উদ্দিন বলেন, শিক্ষার জন্য বিনিয়োগ মানে দেশের ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ। এ কর্মসূচী বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থায়ন করছে দাতারা। চলমান তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচীর জন্য আরও ৪০ কোটি মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার ৯৮ শতাংশ এবং প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনের হার ৮০ শতাংশে উন্নীত করে প্রাথমিক শিক্ষা মানের অগ্রগতি অব্যাহত রাখা হবে। এ ছাড়া এ প্রকল্পের আওতায় মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ ও শূন্যপদ পূরণের নিশ্চয়তা বিধানে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষা বছরের প্রথম মাসেই ৯০ শতাংশ স্কুলে পাঠ্যবই বিতরণ নিশ্চিত করা হবে। জোহানেস জাট বলেন, বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি শিশুই আজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। সরকারের ধারাবাহিক কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরে সর্বজনীন শিক্ষা এবং ছেলে-মেয়ে শিক্ষার্থীর সমতা অর্জন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত কর্মসূচীর জন্য অতিরিক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে ১ কোটি ৯০ লাখ শিশুকে স্কুলমুখী করা এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদান ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করা নিশ্চিত হবে। আরও বেশি সংখ্যক শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসা ছাড়াও এ কর্মসূচীর অধীনে বিশেষ করে অনগ্রসর এলাকাসমূহে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা অব্যাহত রাখা হবে এবং স্কুলের সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো মান উন্নত করা হবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা ও শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বাড়াতে ২০১১ সালে এ কর্মসূচী হাতে নেয় সরকার। দাতাগোষ্ঠীর সহায়তা নির্ভর মেগা কর্মসূচী বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয় ২২ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা। এটি বাস্তবায়নের শুরুতেই বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করেছিল প্রায় দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অর্থায়ন করেছিল প্রায় দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এছাড়াও অর্থায়নে সহায়তা করেছিল ডিএফআইডিসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা। অর্থায়নকারী দাতা সংস্থাগুলো হচ্ছে, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ডিএফআইডি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস এইড, সিডা, জাপান আন্তর্জাতিক সহাযোগিতা সংস্থা (জাইকা), কানাডিয়ান সিডা এবং ইউনিসেফ। সূত্র জানায়, পিইডিপি-৩ কর্মসূচীর অধীনে দেশব্যাপী ৩ হাজার ৬৮৫টি শ্রেণীকক্ষ নির্মাণ, ২ হাজার ৭০৯টি বিদ্যালয় পুনঃনির্মাণ, একজন শিক্ষকের অনুকূলে ৪০ জন ছাত্রের সমন্নয় তথা অনুপাত ১ : ৪০-তে নামিয়ে আনা, ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৫৫টি টয়লেট স্থাপন, ৪৯ হাজার ৩০০টি নলকূপ, ৫৩ হাজার ৭৫০টি প্রস্রাবখানা নির্মাণ, ১১ হাজার ৬০০টি শ্রেণীকক্ষ মেরামত ও জেলা-উপজেলায় রিসোর্স সেন্টার করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারী ২০১৫

২৬/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অন্য খবর



ব্রেকিং নিউজ: