মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

অবরোধের মধ্যে দূরপাল্লার পরিবহন চলাচল সমস্যা হচ্ছে ॥ ও. কাদের

প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারী ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অবরোধের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ চালিয়ে নিতে পারলেও দূরপাল্লার পরিবহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, জনস্বার্থে বাণিজ্য সচল রাখা, পরিবহন চলাচল ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক-মহাসড়কে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল না থাকলে মানুষের জীবনযাত্রা অচল হয়ে যাবে।

বুধবার সচিবালয়ে দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতুর দরপত্র আহ্বান উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। সিনো-হাইড্রোর তিনটি গাড়ি হামলার মধ্যে পড়েছে। আমরা নিরাপত্তা দিয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে নতুন তিনটি সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাইকা আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে সাড়ে চয় হাজার কোটি টাকা। বাদবাকি অর্থ দেবে বাংলাদেশ সরকার। ইতোমধ্যে এই তিন সেতু নির্মাণে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল দরপত্র গ্রহণের শেষ দিন বলে জানান মন্ত্রী। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই পরামর্শক নিয়োগ, বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হবে। নবেম্বর মাসে তিন সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুর ব্যাপারে আশাবাদী মন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, প্রায় চারশ’ মিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুর সঙ্গে ৭০০ মিটার দীর্ঘ আট লেন বিশিষ্ট এ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ ও পুরনো সেতু সংস্কার করা হবে। চারলেন বিশিষ্ট দ্বিতীয় মেঘনা সেতুটি হবে প্রায় ৯৩০ মিটার দীর্ঘ। এর সঙ্গে ৬ লেন বিশিষ্ট ৮৭০ মিটার এ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ ও পুরনো মেঘনা সেতু সংস্কার করা হবে। দ্বিতীয় গোমতী সেতুর পাশে চারলেন বিশিষ্ট এক হাজার ৪১০ মিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় গোমতী সেতু নির্মাণ ও এক হাজার ১০ মিটার দীর্ঘ ৬ লেন বিশিষ্ট এ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণসহ পুরনো সড়ক সংস্কার করা হবে।

মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ১৮০ কিলোমিটার রাস্তার চারলেনের কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ১৬০ কিলোমিটার পাকা হয়েছে। জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ চারলেন প্রকল্পের তিন নম্বর প্যাকেজের কাজের অগ্রগতি নেই। এজন্য এই কোম্পানিকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কাজের অগ্রগতি না হলে এই অংশটি সেনাবাহিনীকে দেয়ার কথা জানান মন্ত্রী। এছাড়াও আগামী মে মাসের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথাও জানান তিনি।

চলতি মাসে মেট্রো রেলের টেন্ডারের কথা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, নতুন বছরে আটটি মেগা প্রকল্পের কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হবে। ২০১৬ সালে মেট্রো রেলের ফিজিক্যাল ওয়ার্ক হবে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মেগা প্রকল্পের কাজ থেমে থাকবে না। আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করাব। তিনি বলেন, এই অবস্থার মধ্যে বিদেশীরা কাজ করতে চায় না। এরপরও কোন কাজ থেমে নেই। এগিয়ে চলছে।

নাশকতা করতে বেশি লোক লাগে না মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, পরিবহন সেক্টরে উই আর ইন ট্রাবল, গাড়ি পুড়িয়ে ফেলছে। পাঁচ শতাধিক গাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করা হয়েছে। দুই শতাধিক যানবাহন পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ১০-১২টি বিআরটিসি বাস ভাঙচুর করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সাতজন ড্রাইভার-হেলপার নিহত হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, অন্ধ মায়ের সন্তান হেলপার সোহাগকেও মেরে ফেলেছে অবরোধকারীরা। এটা আন্দোলন নয়। নিষ্ঠুর রাজনীতি আমরা চাই না। এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছে, তাই কোন প্রকাশ নাশকতা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখবে না।

তিনি বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে মালিক-শ্রমিকরা কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হলেও তারা এখন পর্যন্ত গাড়ি চালাতে বদ্ধপরিকর। মানুষের যাতায়াত, সবজি পরিবহনে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে। জনগণের জানমাল রক্ষায় নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, মেট্রো রেল-পদ্মা সেতুর কাজ কেউ বাধা দিতে পারবে না। কারণ এগুলো জনগণ চায়। পরীক্ষাও অবরোধের বাইরে নেই জানিয়ে তিনি বলেন, এর প্রভাব অনেক দিন ধরে চলবে। তিনি বলেন, উন্নয়ন সবার, কোন দলের নয়। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ছাত্রছাত্রী-অভিভাবকরাও আতঙ্কগ্রস্ত। সামনে এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন সবাই। এজতেমাতেও অবরোধ তোলা হয়নি। ইডেন কলেজ ছাত্রীকে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে আলোচনা বা করণীয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আর কোন কথা থাকে না। সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এমএএন ছিদ্দিক, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী ফিরোজ ইকবাল, তিন সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক সাইদুল হক, অতিরিক্ত প্রকল্প রিচালক জাওয়েদ আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এরপর পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী।

প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারী ২০১৫

২২/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: