কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

যুদ্ধাপরাধী বিচার ॥ হাসান আলী নিজ হাতে আমার কাকা ও কামিনী ঘোষকে হত্যা করে

প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারী ২০১৫
  • বাধন চক্রবর্তীর জবানবন্দী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত কিশোরগঞ্জের রাজাকার পলাতক হাসান আলীর বিরুদ্ধে ১১তম সাক্ষী বাধন চক্রবর্তী জবানবন্দীতে বলেছেন, টাকা ও গরু নিয়েও হাসান আলী নিজ হাতে আমার কাকা জীবন ঠাকুর ও কামিনী ঘোষকে গুলি করে হত্যা করে। জবানবন্দী শেষে রাষ্ট্রনিয়োজিত আসামিপক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করেন। পরবর্তী সাক্ষীর জবানবন্দীর জন্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত চাঁইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মাহিদুর রহমান ও মোঃ আফসার হোসেন চুটুর বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দীর জন্য আজ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আরেকটি মামলায় পটুয়াখালীর রাজাকার ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী মোঃ হাবিবুর রহমান বাদশার জেরার দিন পিছিয়ে আজ করা হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এ আদেশগুলো প্রদান করেছেন।

কিশোরগঞ্জের রাজাকার হাসান আলীর বিরুদ্ধে ১১তম সাক্ষী জবানবন্দী প্রদান করেছেন। ১২তম সাক্ষীর জবানবন্দীর জন্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দু’সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। সাক্ষীকে জবানবন্দীতে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর আবুল কালাম। আর জেরা করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামি পক্ষের আইনজীবী আব্দুস শুকুর।

সাক্ষী বাধন চক্রবর্তী (৫৮) তার জবানবন্দীতে বলেন, ১৯৭১ সালের ৮ অক্টোবর বাংলা আশ্বিন মসের রোজ শুক্রবার আনুমানিক ২টার সময় আমার জেঠাত ভাই সাধন চক্রবর্তী, কাকাত ভাই নারায়ন চক্রবর্তী এবং ছোট ভাই চন্দ্রন চক্রবর্তী গ্রামের উত্তর দিকে পুরুড়া বাজারে যাই। বাজারে লোকজনের মুখে জানতে পারি, রাজাকাররা আড়াইড়া গ্রামে আক্রমণ করেছে। আমরা ধারণা করি রাজাকাররা আমাদের চিকনী গ্রামেও আক্রমণ করতে পারে এই ধারণা থেকে আমরা বাড়ির উদ্দেশ্য রওয়ানা করি। বাড়িতে আসার পতে মুচি বাড়ির কাছে পৌঁছার সময় দুটি গুলির শব্দ শুনি। লোকমুখে শুনতে পাই, রাজাকাররা জীবন ঠাকুর ও কামিনী ঘোষকে গুলি করে মেরে ফেলেছে। খবর শুনে বাড়ির দিকে দৌড়াতে থাকি; বাড়ি পৌঁছে দেখতে পাই, আমার মা গৌরী রানী চক্রবর্তী এবং কাকী মিলন রানী চক্রবর্তী দুজনেই কান্নাকাটি করছে। সাক্ষী বলেন, তারা দুই জনেই আমকে জানায়, আমরা বাজারে যাওয়ার পরেই রাজাকার আসগর আলীর নেতৃত্বে পাঁচ রাজাকার কাকা জীবন ঠাকুরকে ধরে পিছমোড়া করে বেঁধে নিয়ে গেছে।

তখন মা চাচী বাঁধা দিলে তারা তাঁদের গায়ের (স্বণালঙ্কার) অলঙ্কার খুলে নেয়। রাজাকার আসগর আলী মা কাকীকে বলে টাকা দিলে কাককে ছেড়ে দিবেন। তখন কাকী তাকে তিন শত টাকা দেয়। টাকা পাওয়ার পর রাজাকার আসগর বলে এ মুহূর্তে জীবন ঠাকুরকে ছাড়তে পারবো না আমাদের কমান্ডার হাসান আলী দারোগা আড়াআড়ি গ্রামে, তার হুকুম ছাড়া তাকে ছাড়া যাবে না। আসগর আলী কাকাকে নিয়ে নৌকাতে করে নদী পার হয়ে আড়াআড়ি গ্রামের দিকে রওয়ানা দেয়। তখন একজন দালাল যার নাম সোলজার বলে জীবন ঠাকুরের গোয়ালে পাঁচটি গরু পাশের গ্রামে হাসান আলীর কাছে পৌঁছে দিতে। রাজাকাররা কাকাকে নৌকা দিয়ে নদী পার করে আড়াআড়ি গ্রামের কামিনী ঘোষের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই কাকা জীবন ঠাকুর ও কামিনী ঘোষকে মহিন্দ্র সরকারের খালী জায়গায় নিজ হাতে গুলি করে হত্যা করে।

ফোরকান মল্লিক ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত পটুয়াখালীর রাজাকার ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী মোঃ হাবিবুর রহমান বাদশার জেরার দিন পিছিয়েছে। আসামি পক্ষের আইনজীবী আব্দুল সালাম খান জেরা পিছানোর জন্য আবেদন করেন।

প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারী ২০১৫

২২/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: