হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রত্যাশার শেষ নেই পর্তুগীজ কিংবদন্তির!

প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী ২০১৫
  • অতশী আলম

কখনই ভাবিনি যে, আমি তিনবার এই ট্রফি নিয়ে ঘরে ফিরতে পারব। ২০১৫ সালেও সবার সেরা হওয়ার লক্ষ্য আমার। সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হতে চাই আমি। কথাগুলো বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের সেরা তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। গত ১২ জানুয়ারি রাতে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফা ব্যালন ডি’অর অ্যাওয়ার্ড জয়ের পর কথাগুলো বলেন তিনি। এরপর ফিফা ডটকমকে দেয়া সাক্ষাতকারে আরও অনেক বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগীজ সুপারস্টার।

এক প্রশ্নের জবাবে রোনাল্ডো বলেন, ‘যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। এটা ছিল অসাধারণ একটা বছর। যে কাজটি এতদিন করেছি, সেটি চালিয়ে যেতে চাই। যত দিন যাবে, আরও উন্নতি করার সুযোগ থাকবে। আরও ভাল হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে চাই।’ গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের দশম চ্যাম্পিয়ন্স লী শিরোপা জয়ে অনবদ্য অবদান রাখেন রোনাল্ডো। এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ১৭ গোলের রেকর্ডও গড়েন। ‘লা ডেসিমা’ জয়কে তাই সেরা মুহূর্ত জানিয়ে রোনাল্ডো বলেন, ‘চমৎকার একটি বছর ছিল। যখন মাদ্রিদে এসেছিলাম, আমরা সবাই ডেসিমার চাপ অনুভব করেছিলাম। সম্ভবত চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতাটা ছিল গত বছরের সেরা মুহূর্ত। এটা ছিল দুর্দান্ত।’ অসাধারণ এই সাফল্যের কৃতিত্ব কোচ ও সতীর্থদের দিয়ে রোনাল্ডো বলেন, ‘কার্লো আনচেলোত্তির সঙ্গে কাজ করা ভীষণ আনন্দের। এটা সব ভক্ত, মাদ্রিদের সব সমর্থকের জন্য। এটা পাওয়ার যোগ্য তারা।’

টানা দুই বার ফিফা ব্যালন ডি’অর জিতে লিওনেল মেসির সঙ্গে বর্ষসেরা পুরস্কার জয়ের ব্যবধানটা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন রোনাল্ডো। ভবিষ্যতে এই ব্যবধান ঘুচিয়ে ফেলার স্বপ্ন দেখেন রিয়াল তারকা। এ প্রসঙ্গে রোনাল্ডোর ভাষ্য, ‘প্রত্যকটি মৌসুমই আমার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ। এটা (ফিফা ব্যালন ডি’অর জয়) আমাকে একই লক্ষ্য নিয়ে ২০১৫ সাল শুরু করার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। এই বছরেও ট্রফিটি জিততে চাই আমি’। ২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো ফিফা সেরার সংক্ষিপ্ত তিনজনের তালিকায় ঠাঁই পান রোনাল্ডো। সেবার না পারলেও ২০০৮ সালে প্রথম এই পুরস্কার জেতেন তিনি। এরপর কেবল ২০১০ সালে তিন জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিলেন না। ২০০৯, ২০১১ ও ২০১২ সালে মেসির পেছনে থেকে দ্বিতীয় হওয়ার জ্বালায় পুড়েন। এই চার বছর টানা বর্ষসেরা হন মেসি। ২০১৩ সালে মেসিকে পেছনে ফেলে ফিফা ব্যালন ডি’অর জিতেন রোনাল্ডো। তৃতীয়বার ফিফা সেরা হওয়া রোনাল্ডো আরও কয়েকবার জুরিখের এই অনুষ্ঠানে আসার স্বপ্ন দেখেন, ‘আমি জানি, এই পুরস্কার জিততে কতটা কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। তাই আমি আগে যতবারই এটা নিতে আসি না কেন, এখনও আমি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। আশা করি, সামনে আরও অনেক বছরই আমি এখানে আসব।’ বিনয়ী রোনাল্ডো ভবিষ্যতে মেসি ও নিউয়েরের সঙ্গে খেলার স্বপ্নও দেখেন। এ প্রসঙ্গে তার মতামত, ‘ফুটবলে অতীত বলতে কিছু নেই। সবই বর্তমান। সন্দেহ নেই অতীতেও অনেক গ্রেট ফুটবলার ছিলেন। কিন্তু আমি গর্ব অনুভব করব যদি বর্তমানের দুই সেরা মেসি আর নিউয়েরের সঙ্গে একদলে খেলতে পারি।’ এ প্রসঙ্গে মেসি বলেন, ‘আমি সব সময়ই বিখ্যাত ফুটবলারদের সঙ্গে খেলতে চাই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে রোনাল্ডোর সঙ্গে একসঙ্গে খেলাটা একটু কঠিনই। আমরা সম্পূর্ণ দুই মেরুর দুই দলে খেলি। তবে এটা ঠিক, যেহেতু আমি বিশ্বসেরা ফুটবলারদের সঙ্গে খেলতে ভালবাসি আর রোনাল্ডো তেমনই একজন, তাই একদলে খেলতে আমার কোন আপত্তি নেই।’ এখন রোনাল্ডোর বয়স ২৯ বছর। তারকা এই ফরোয়ার্ড নাকি ক্যারিয়ারটা ৪০ বছর পর্যন্ত টেনে নিতে চান। এমনটি জানিয়েছেন সিআর সেভেনের এজেন্ট। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ফিফা ডটকমকে রোনাল্ডো বলেন, ‘(হাসি) ভাল, হ্যাঁ আমি চেষ্টা করব। এর আগে অবশ্য আগের বছরগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। আমাকে ধাপে ধাপে এগুতে হবে। ফিটনেসের ্ওপর নির্ভর করছে সব। সত্যি বলতে কি, সম্ভব হলে ওই পর্যন্ত যাওয়ার ইচ্ছা আছে।’ এবার টানা দ্বিতীয়বার সম্মানসূচক ব্যালন ডি’অর অ্যাওয়ার্ড নিজের করে নিতে রোনাল্ডো পেয়েছেন মোট ৩৭.৬৬ শতাংশ ভোট। মেসি ও নিউয়েরকে কোনরকম পাত্তা না দিয়েই শ্রেষ্ঠত্ব নিজের করে নিয়েছেন ২৯ বছর বয়সী সুপারস্টার। অবশ্য জার্মান ও আর্জেন্টাইন তারকার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। ন্যূনতম ব্যবধানে নিউয়েরকে হারিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন মেসি। দ্বিতীয় হওয়া মেসি পেয়েছেন ১৫.৭৬ শতাংশ ভোট আর তৃতীয় হওয়া নিউয়েরের বাক্সে জমা পড়েছে ১৫.৭২ শতাংশ ভোট। গত বছরজুড়ে ধারাবাহিক নজরকাড়া নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে ফিফা সেরার পুরস্কার পেয়েছেন রোনাল্ডো। রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড গেল বছর প্রদর্শন করেন তুখোড় ধারাবাহিক পারফরমেন্স। ব্রাজিল বিশ্বকাপে তেমন ভাল করতে না পারলেও ক্লাব দল রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে নিয়মিত আলো ছড়িয়েছেন। গ্যালাক্টিকোদের চ্যাম্পিয়ন্স লীগের দশম শিরোপা জিততে রাখেন অগ্রণী ভূমিকা। করেন রেকর্ড ১৭ গোল। চলমান মৌসুমেও আছেন দারুণ ছন্দে।

সবার সেরা হলেও অবশ্য রোনাল্ডোর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে পারছেন না। এমনকি ফিফার ভোট কারচুপিরও অভিযোগ উঠেছে। এমন অবস্থায় আবার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে পর্তুগাল অধিনায়কের। বান্ধবী ইরিনা শায়াকের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়েছে তাঁর। বিষয়টি আঁচ করা গিয়েছিল ব্যালন ডি’অর গালা অনুষ্ঠানেই। ওইদিন জমকালো অনুষ্ঠানে রোনাল্ডোর পাশে ছিলেন না বান্ধবী ইরিনা শায়াক। গুঞ্জনের শুরু তখনই। তাহলে কি ফাটল ধরেছে রোনাল্ডো-ইরিনার সম্পর্কে? তখন সি আর সেভেন আর শায়াক দু’জনই বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে জানা গেছে, ঘটনা সত্য। তার মানে যা রটে, তা বটেও। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে রোনাল্ডো ও ইরিনার মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তাদের পাঁচ বছরের মধুর সম্পর্কেরও ইতি ঘটেছে। শুধু গত এক সপ্তাহই নয়, এই দুই তারকার মধ্যে নাকি গত কয়েক মাস ধরেই ভাল সম্পর্ক যাচ্ছিল না। বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে, সম্প্রতি রোনাল্ডোর মায়ের জন্মদিনে ইরিনা না যাওয়ায়। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে চূড়ান্ত সম্পর্কের অবনতি ঘটে। যে কারণে দু’জনের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

আগেরবার ফিফা ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে মধ্যমণি ছিলেন ইরিনা। সেরা হিসেবে সি আর সেভেনের নাম উচ্চারিত হওয়ার পর পাশে বসা বান্ধবীর লাল গালে চুম্বন একে দিয়েছিলেন রোনাল্ডো। এবারও এমন রোমান্টিক দৃশ্যের অপেক্ষায় ছিলেন সবাই। কিন্তু রাশিয়ান মডেল ইরিনা না আসায় সেটা হয়নি। গুঞ্জনের শুরু তখন থেকেই। সেই থেকে ইরিনা নাকি রোনাল্ডোকে টুইটারে অনুসরণ করাও বন্ধ করে দিয়েছেন। বোমাটা ফাটিয়েছে পর্তুগালের জনপ্রিয় ট্যাবলয়েড কুরিও ডি মানহানা। তারা জানিয়েছে, রোনাল্ডো-ইরিনার বিচ্ছেদ হয়েছে। একদিন পর নিউইয়র্ক পোস্টও ইরিনার প্রতিনিধির উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দু’জন এখন দুই মেরুতে। অর্থাৎ ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে ইরিনা ও রোনাল্ডোর মধ্যে। অবশ্য কিছু কিছু মাধ্যম এও জানাচ্ছে, তেমন কিছুই হয়নি; শুধু মনোমালিন্য দু’জনের মধ্যে। শীঘ্রই একসঙ্গে দেখা যাবে রোনাল্ডো ও ইরিনাকে!

প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী ২০১৫

২১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: