কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সংসদ উৎসব মুখর ॥ ৫ মার্চ পর্যন্ত অধিবেশন চলবে

প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারী ২০১৫

সংসদ রিপোর্টার ॥ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সোমবার থেকে শুরু হয়েছে দশম জাতীয় সংসদের ৫ অধিবেশন। বছরের প্রথম অধিবেশন হওয়ায় রেওয়াজ অনুযায়ী ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। সরকার ও বিরোধী দলের সরব উপস্থিতিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ অধিবেশনের প্রথম দিনটি ছিল রীতিমতো উৎসবমুখর। সংসদ অধিবেশনের শুরুর পূর্বে স্পীকারের সভাপতিত্বে কার্যোপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে চলতি অধিবেশন আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত হয়।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল সোয়া চারটায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলের নেতা রওশন এরশাদ, এইচ এম এরশাদসহ সরকার, বিরোধীদল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের মধ্যে প্রায় সকলেই অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সংসদ অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন ও এর আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়। সকাল থেকেই সংসদের চতুর্দিকে বিপুল সংখ্যক র‌্যাব-পুলিশ অবস্থান নেয়। এর আগে রবিবার রাত থেকেই সংসদ অধিবেশন চলাকালে সংসদের চতুর্দিকে সব ধরনের সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ডিএমপি। অধিবেশনে প্রবেশ নিয়েও ছিল কড়াকড়ি ব্যবস্থা। রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, তিন বাহিনীর প্রধান, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিকেল তিনটায় সংসদের কার্যোপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হয়। এতে আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত অধিবেশন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে প্রয়োজন হলে অধিবেশনের মেয়াদ স্পীকার বাড়াতে বা কমাতে পারেন। একইসঙ্গে প্রতিদিন বিকেল সাড়ে চারটায় অধিবেশন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় কমিটি। স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, এইচ এম এরশাদ, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, রাশেদ খান মেনন, চীফ হুইপ আসম ফিরোজ ও মইনউদ্দীন খান বাদল। এদিকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে সরকারি দলের চীফ হুইপ আসম ফিরোজ ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আনেন। কার্যোপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এমপিরা ৪৫ ঘণ্টা ওই ভাষণের ওপর আলোচনা করবেন। এদিকে আদালতের অনুমতি না পাওয়ায় অধিবেশনে যোগ দিতে পারেননি কারাবন্দী সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

নির্ধারিত সময়ের ২০ মিনিট পরে সোমবার অধিবেশন শুরু হয়। ৪টা ১২ মিনিটে অধিবেশন কক্ষে আসেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচ এম এরশাদ। এরপরই আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৪টা ১৭ মিনিটে একইসঙ্গে প্রবেশ করেন স্পীকার ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। শুরুতে স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকারের অনুপস্থিতিতে সংসদ অধিবেশন পরিচালনার জন্য ৫ সদস্যের সভাপতিম-লীর নাম ঘোষণা করা হয়। তাঁরা হলেন আবুল কালাম আজাদ, হাবিবুর রহমান মোল্লা, মাহমুদ সামাদ চৌধুরী, ফখরুল ইমাম ও পিনু খান। পরে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এ সময় মোনাজাত পরিচালনা তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বাশার মাইজভা-ারি।

এরপরই ৪টা ৩০ মিনিটে বিউগল বাজানোর মধ্য দিয়ে অধিবেশন কক্ষে আসেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। স্পীকারের ডানপাশে রাখা চেয়ারে তিনি বসেন। পরে তাঁর জন্য রাখা নির্ধারিত ডায়াসে এক ঘণ্টার বেশি সময় দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি।

১৪ বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে শোক প্রস্তাব গ্রহণ ॥ পূর্ব দিগন্তে সূর্য্য উঠেছে রক্ত লাল.... মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণদানকারী এ কালজয়ী গানের গীতিকার গোবিন্দ হালদারসহ ১৪ বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে শোক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় সংসদে। শোক প্রস্তাবের তালিকায় রয়েছেন সাবেক ৪ সংসদ সদস্য। এরা হলেনÑ আলহাজ ফজলুল করিম, সরদার আমজাদ হোসেন, জামাল উদ্দিন আহম্মেদ ও প্রফুল্ল কুমার শীল। এছাড়া বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকায় ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামাল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইকবাল, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায় প্রদানকারী বিচারক কাজী গোলাম রসুল, বিজ্ঞানী প্রফেসর মাকসুদুল আলম, চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, সাংবাদিক জগলুল আহ্মেদ চৌধূরি, অভিনেতা খলিলউল্লাহ খান, চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম ও কথাসাহিত্যিক এখলাসউদ্দিন আহমদ। এছাড়া দেশে-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় নিহতদের নামেও শোক প্রকাশ করা হয়।

সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখা জানিয়েছে, অধিবেশনে উত্থাপনের জন্য এ পর্যন্ত ৯ বিল কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুত ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি বিল-২০১৪ (বিশেষ সংশোধন) পাসের তালিকায় রাখা হয়েছে। এছাড়া পাস হবে মেট্রোরেল বিল-২০১৪। সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর জন্য রাখা হয়েছে ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ বিল, ফাইন্যান্স কর্পোরেশন বিল-২০১৪, বাংলাদেশ ওশিয়ানোগ্রাফি রিসার্চ ইনস্টিটিউট বিল, দ্য ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ অর্ডার বিল-২০১৪। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর গঠিত দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে ওই বছরের ২৯ জানুয়ারি। এরপর সংসদের চতুর্থ অধিবেশনের মাধ্যমে গত ৩০ নবেম্বর শেষ হয় ২০১৪ সালের শেষ অধিবেশন।

প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারী ২০১৫

২০/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: