কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

খালেদা জিয়ার স্বপ্নের পোলাও ও ভারতপ্রেম

প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারী ২০১৫
  • শাহরিয়ার কবির

বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রধান বেগম খালেদা জিয়া গত ৪ জানুয়ারি থেকে গুলশানের দলীয় কার্যালয়ে অবরোধের ভেতর দিনযাপন করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদিও বলেছেন তিনি অবরুদ্ধ নন, ইচ্ছে করলে বাড়ি যেতে পারেন, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গত ৪ জানুয়ারি থেকে তাঁর অবাধ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে, তাঁকে নয়াপল্টনের কার্যালয়ে বা প্রেসক্লাবে যেতে দেয়া হয়নি। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার স্বার্থেই তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা এ ঘটনাকে ‘সরকারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনের নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত’, ‘মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন,’ স্বৈরাচারের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ’ ইত্যাদি বলে টেলিভিশনে টক শো-এর আসর গরম করছেন। জামায়াতপ্রেমী কিছু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাও এর সমালোচনা ও নিন্দা করেছে। বাইরের এসব নিন্দা বা সমালোচনার ভেতর কতটুকু খাঁটি আর কতটুকু ভেজাল এ নিয়েও গণমাধ্যমে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। বিশেষভাবে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ এবং আমেরিকার ছয়জন কংগ্রেসম্যানের বিবৃতি সম্পর্কে গণমাধ্যমে যা বলা হয়েছে তাতে আমজনতার আক্কেল গুড়ুম হয়েছে।

বিএনপির দফতর থেকে প্রতি ঘণ্টায় খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হচ্ছে। অবরোধের নামে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসের শিকার হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধ অসহায় মানুষের আহাজারির চেয়ে গণমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে পুলিশের পিপার শ্প্রের কারণে কখন খালেদা জিয়ার নাক জ্বালা করেছে সেই সংবাদ। খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব সাংবাদিকদের গত ৮ জানুয়ারি জানিয়েছিলেন, বিএনপি নেত্রীর অবরোধের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁর কুশল জানতে ভারতের বিজেপিপ্রধান অমিত শাহ তাঁকে ফোন করেছিলেন। একই দিনে জামায়াত-বিএনপির গণমাধ্যম প্রচার করেছে আমেরিকার ছয়জন কংগ্রেস সদস্যও নাকি এ ঘটনার নিন্দা করেছেন। এর পরদিনই গণমাধ্যমের কল্যাণে আমরা জানলাম এই দুটি ঘটনাই নির্জলা মিথ্যা, বিএনপি নেত্রীর প্রতি মানুষের সহানুভূতি আদায়ের জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হয়েছে। অমিত শাহ বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাস সূত্রেও জানানো হয়েছে- বিজেপিপ্রধান ও বিএনপিপ্রধানের টেলিফোনের বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট। একইভাবে আমেরিকার কথিত ছয়জন কংগ্রেস সদস্যের তথাকথিত বিবৃতি সম্পর্কে অন্যতম ‘বিবৃতিদাতা’ ইউএস হাউস ফরেন এফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান এড রয়েস বলেছেন, কংগ্রেসম্যানদের নামে যা প্রচার করা হয়েছে তা অসত্য, খালেদা জিয়ার অবরোধ সম্পর্কে তারা কোন বিবৃতি দেননি।

বিএনপি-জামায়াতের অবরোধের নামে সন্ত্রাস ও নাশকতার বিভিন্ন ঘটনায় আমজনতা যখন বিস্তর পেরেশানিতে আছেন তখন খালেদা জিয়ার ভারতপ্রেম যথেষ্ট কৌতুকের সঞ্চার করেছে। যে খালেদা জিয়া ও বিএনপির রাজনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে পাকিস্তানপ্রেম ও ভারতবিদ্বেষ সেই বিএনপির জন্য ভারতের হিন্দুত্ববাদী নেতা বিজেপিপ্রধানের সহানুভূতি অর্জন কেন জরুরী হয়ে উঠল আমজনতার বোধগম্য হচ্ছে না। কালজয়ী কথাশিল্পী সৈয়দ মুজতবা আলীর কল্যাণে আমরা অনেক বিদেশী বাগধারার সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। তাঁর লেখায় একটি পশতুন প্রবাদের উল্লেখ রয়েছে- ‘স্বপ্নেই যদি পোলাউ খাবে ঘি দিতে কার্পণ্য করছ কেন?’ খালেদা জিয়া স্বপ্নই যদি দেখবেন বিজেপিপ্রধানকে না দেখে ভারতের রাষ্ট্রপতিকে দেখতে পারতেন! আমেরিকার ছয়জন কংগ্রেসম্যানের বদলে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হলে অবরোধ ডেকে গ্রেফতারের ভয়ে ঘরে বসে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোবল বেশি চাঙ্গা হতো। ২০১৩-এর ৬ এপ্রিল বা ৫ মের মতো লাখো মানুষ ঢাকায় জড়ো হয়ে আরও বড় তা-ব করতে পারত। বিএনপির জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে জয় নিশ্চিত ভেবে রাজনীতির জুয়া খেলায় একের পর এক ট্রাম কার্ড খেলছে বটে সঙ্গে সঙ্গে সরকারপক্ষ ওভার ট্রাম মেরে বিএনপি নেত্রীকে কৌতুকের পাত্রে পরিণত করছে।

বেগম খালেদা জিয়ার অবরোধ কতটা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত এবং কতটা সরকারপ্রণোদিত এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই বলছেন, তথাকথিত এই অবরোধ খালেদা জিয়ার প্রতি আমজনতার সহানুভূতি সৃষ্টির পক্ষে সহায়ক হবে। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বাড়িতে গিয়ে বিশ্রাম নিতে বললেও তিনি ‘অবরুদ্ধ’ থাকা পছন্দ করছেন। নইলে বিএনপিতে বাঘা বাঘা আইনজীবীর তো আকাল পড়েনি। তারা এ নিয়ে হাইকোর্টে রিট করলে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা অভিযোগে এভাবে অবরোধ করে রাখা নিঃসন্দেহে বেআইনী ও সংবিধানবিরোধী হিসেবে গণ্য হবে। আগাম জামিনসহ অনেক তুচ্ছ বিষয়েও বিএনপির আইনজীবীরা কথায় কথায় হাইকোর্টে দৌড়ান। সুপ্রীমকোর্ট বারও তাদের দখলে। প্রধান বিচারপতির দরজায় লাথি মারা থেকে শুরু করে হাইকোর্টে অগ্নিসংযোগের বহু রেকর্ড আছে বিএনপির আইনজীবীদের। তাদের প্রতি আমার বিনীত প্রশ্নÑ খালেদা জিয়ার এই অবরোধ যদি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত বা কোনও পাতানো খেলার বিষয় না হয় কেন তারা এহেন বেআইনী কাজের জন্য সরকারের বিরুদ্ধে রিট করছেন না?

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রধান বেগম খালেদা জিয়া দেশব্যাপী অবরোধ ডেকেছেন। ভেবেছিলেন তিনি ডাকবেন সঙ্গে সঙ্গে সকল যানবাহন থেমে যাবে, কলকারখানা অফিস আদালত বন্ধ হয়ে যাবে, সারাদেশ অচল হয়ে যাবে। অবরোধের ৫ম দিনেও দেখছি সব কিছু স্বাভাবিক রয়েছে। বাস-ট্রাক-লঞ্চ-স্টিমার-বিমান সব চলছে, তবে সংখ্যায় কিছু কম। কারণ অবরোধের নামে ৫ জানুয়ারির পর থেকে ৯ জানুয়ারি (২০১৫) পর্যন্ত প্রথম চার দিনে ৭০টি গাড়িতে পেট্রোল বোমা ছুড়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীসহ ২৫ জন নিরীহ মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন, যাদের বাকি জীবন পঙ্গুত্বের অভিশাপ বইতে হবে।

‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’র নামে জামায়াত-বিএনপি জোটের হরতাল ও অবরোধ কিভাবে জ্যান্ত মানুষ পুড়িয়ে মারে, কিভাবে সরকার ও জনগণের সম্পদ-সঞ্চয় ধ্বংস করে, কিভাবে শত শত পরিবারের স্বপ্ন ও আশা রাজনীতির প্রতিহিংসার আগুনে ছাই হয়ে যায় এর ভয়ঙ্কর মহড়া ২০১৩ সালের প্রায় বছরজুড়ে আমরা দেখেছি। শত শত নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও রাস্তায় পিটিয়ে কিংবা গাড়িতে পেট্রোল বোমা ছুড়ে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর নৃশংস নির্যাতন হয়েছে বিভিন্ন অজুহাতে। কখনও ইসলাম অবমাননার অজুহাতে, কখনও অভিযুক্ত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য, কখনও বিএনপি-জামায়াতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভোট দেয়ার জন্য। এসবের উদ্দেশ্য একটাই- ’৭১-এর পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণ করতে হলে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ মনোলিথিক মুসলিম রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে হবে।

২০১৪ সালে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট ও প্রতিহত করতে গিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট যে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী কর্মকা- সংঘটিত করেছে, তার আগে হেফাজতে ইসলামীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যে মহাতাণ্ডব করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এর নিন্দা করেছে। ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনকেন্দ্রিক সংখ্যালঘু নির্যাতনের জন্য প্রধানত জামায়াতে ইসলামীর জঙ্গীদের দায়ী করে কঠোর ভাষায় এর নিন্দা করেছে এবং বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জামায়াত ও হেফাজতের সংশ্রব পরিহারের জন্য। একইভাবে সরকারের প্রতি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই প্রস্তাবে বাংলাদেশের শান্তিকামী মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটলেও বিএনপি-জামায়াত ও সন্ত্রাস পরিহার করেনি, সরকারও জামায়াত নিষিদ্ধ করেনি।

এটা ঠিক যে দেশে বিদেশে প্রচণ্ড সমালোচনার কারণে গত বছর বিএনপি হরতাল-অবরোধের নামে ২০১৩ সালের পুনরাবৃত্তি করেনি। বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস ও নাশকতার শিকার। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে হরতাল বা অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচী দেয়া যেতে পারে যদি তার প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন থাকে। বিএনপি-জামায়াত যখন জোটের নামে কিংবা বিএনপি যখন এককভাবে হরতাল বা অবরোধের ডাক দেয় তখন দলের নেতাকর্মীরা ঘরে বসে থাকেন, জামায়াতের পোষা খুনীরা চোরাগোপ্তা হামলা চালায়, জ্যান্ত মানুষ পুড়িয়ে মারে, দেশের সম্পদ ধ্বংস করে। এসব সন্ত্রাসী যখন পেট্রোল বোমা ছুড়ে যাত্রীসহ বাস পুড়িয়ে কয়লা বানায় তখন একবারও ভাবে না এ সব বাসে জামায়াত-বিএনপির সমর্থকও থাকতে পারে, শুধু আওয়ামী লীগের লোকেরাই বাসে চড়ে না, সাধারণ মানুষও চড়ে। ১০ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার একজন উপদেষ্টার গাড়িতেও হামলা করেছিল এসব ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা। ২০১৩ সালের ১০ নবেম্বর একাত্তর টেলিভিশনে ফারজানা রূপার একটি প্রতিবেদন ছিলÑ রাজধানী ঢাকায় বিএনপি-জামায়াত জোট চার শ’র বেশি ছোট ছোট বোমা বানাবার কারখানা বানিয়েছে। একজন বোমা কারিগর বলেছে তারা পাঁচ শ থেকে দেড় হাজার টাকা নেয় বোমা বানাবার জন্য, সমপরিমাণ টাকা নেয় ছুড়ে মারার জন্য। বোমায় কারা মরল তাদের দেখার দরকার নেই। রেললাইন উপড়ে ফেলে যখন যাত্রীদের হত্যা করা হয় কখন কী তাদের গায়ে লেখা থাকে- এরা আওয়ামী লীগের সমর্থক? গত তিন বছরে যে কয়েক শ’ বাস পোড়ানো হয়েছে সেগুলো কি আওয়ামী লীগের কারও পৈত্রিক সম্পত্তি না বাংলাদেশের মানুষের সম্পদ? হরতাল অবরোধের সময় যখন গণমাধ্যমে আমরা জ্বলন্ত বাস ও গণপরিবহনের ছবি দেখি, যখন হাসপাতারেল বার্ন ইউনিটে শিশু বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষ মৃত্যু যন্ত্রণায় জর্জরিত হতে দেখি, নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে যখন আকাশ কেঁপে ওঠে তখন বেগম খালেদা জিয়া কি একবারও ভাবেন না, তিনিও এ দেশের একজন নাগরিক, এদেশের প্রতি, দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি তার সামান্যতম দায়িত্ব রয়েছে? তার কর্মসূচীর কারণে যেসব শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে তাদের ভেতর কি বিএনপির লোকজনের সন্তানরা নেই? ২০১৩ সালে তাদেরই ডাকা হরতাল অবরোধের কারণে যারা নিহত হয়েছে, যে সব পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে খালেদা জিয়া কি একবারও জানতে চেয়েছেন তারা কারা, কী অবস্থায় আছে? নিজেকে ইসলামের বরকন্দাজ দাবি করে খালেদা জিয়া অবরোধের নামে এবার টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমায় আসা হাজার মুসল্লিকে যে সমূহ বিপদে ফেলেছেন এর জবাব কে দেবে? এর পরও কি তিনি আশা করেন এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ সমর্থন করবে? তিনি কেন ধরে নিচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ সমার্থক শব্দ, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে হলে বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে হবে? আমরা জানি খালেদা জিয়া এবং বিএনপি নেতাদের প্রতি সরকারের অনেক আচরণ সমর্থনযোগ্য নয়। রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে সরকারের সংলাপ ও সমঝোতা গণতন্ত্রের অন্যতম অভিব্যক্তি। জামায়াত ও সন্ত্রাস পরিহার করলে বিএনপির সঙ্গে সংলাপে আওয়ামী লীগ বা সরকারের কখনও আপত্তি থাকা উচিত নয়, একইভাবে গণতন্ত্রের নামে নরহত্যা ও সন্ত্রাস কখনও অনুমোদনযোগ্য নয়।

জামায়াত স্বপ্ন দেখছেÑ খালেদা জিয়াকে তাদের জঙ্গীরা হত্যা করবে, তারেক জিয়া দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী হবেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ হয়ে যাবে, জামায়াত আইএসআই-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী মোল্লা উমরের আফগানিস্তানের মতো জঙ্গী তালেবানী রাষ্ট্র হবে বাংলাদেশ। গণমাধ্যমে বেরিয়েছে মৌলবাদী জঙ্গীদের হিটলিস্টে শেখ হাসিনার নামের সঙ্গে খালেদা জিয়ার নামও রয়েছে। কারণ জামায়াত ও আইএসআই জানে একমাত্র খালেদা জিয়া নিহত হলেই মানুষের সহানুভূতি পুঁজি করে তারেক জিয়া দেশে ফিরতে পারবেন। তারেককে তারা সেভাবেই তৈরি করছে। দশ বছর আগেই তারেক বলেছিলেন, ছাত্রদল-ছাত্রশিবির তথা বিএনপি-জামায়াত এক মায়ের গর্ভের দুই সন্তান। পাকিস্তানে বসে মা আইএসআই কিভাবে বাংলাদেশে তার সন্তানদের লালন করে এ খবর সেখানকার কাগজেও বেরিয়েছে।

আইএসআই-এর জামায়াত-বিএনপি কানেকশন আড়াল করার জন্য বিএনপির নেতারা কেবলা পরিবর্তন করে ঘন ঘন দিল্লী যাচ্ছেন, সরকারের নীতি-নির্ধারকদের মান ভাঙাতে চাইছেন। তাঁরা জানেন ২০০১ সালের মতো বিজেপি সরকারের সমর্থন না পেলে বিএনপি কখনও ক্ষমতায় যেতে পারবে না। এখন ভারত বুঝবে আইএসআই-এর পোষ্যপুত্রদের তারা কতটুকু প্রশ্রয় দেবে।

১১ জানুয়ারি, ২০১৪

প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারী ২০১৫

১২/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: