রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বারজানির নেতৃত্বে কুর্দীরা কি স্বাধীন হওয়ার পথে

প্রকাশিত : ৭ জানুয়ারী ২০১৫
  • এনামুল হক

ইরাকী কুর্দীরা অবশ্য ১৯৯১ সালে প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের পর থেকে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে এসেছে মাসুদ বারজানির নেতৃত্বে। আর ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন হামলা ও দখলদারীর পর বাগদাদ সরকার দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়েছে এবং ততই শক্তিশালী হয়েছে কুর্দীস্তান আঞ্চলিক সরকার। গত বছর ইরাকী কুর্দীরা পূর্ণ রাষ্ট্রসত্তা অর্জনের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অতিক্রম করে এবং সেটা ঘটে আইসিসের উত্থানপর্বে।

আইসিস বাহিনী জুনের প্রথম দিকে ফাল্লুজার উত্তরে জড়ো হয় এবং মাত্র ৪ দিনের মাথায় ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী মসুল দখল করে নেয়। আইসিসের অগ্রাভিযানের মুখে সরকারী বাহিনী যখন দল বেঁধে পালাচ্ছিল সে সময় বারজানির নির্দেশে কুর্দী সৈন্যরা তেলসমৃদ্ধ এলাকা কিরকুক দখলে নেয়। ওরা দখল না করলে কিরকুক অবধারিতভাবে আইসিসের দখলে চলে যেত। যাই হোক আইসিস বাহিনী এরপর কুর্দী এলাকা লক্ষ করে এগোতে থাকলে সহসা ঝুঁকির মুখে পড়ে ইরাকী কুর্দী ও আশপাশের অঞ্চলের আরও সোয়া দুই কোটি কুর্দী। কুর্দীদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ সুন্নি। কিন্তু তাদের উদার ভাবধারার কারণে তারা আইসিসের রোষানলে পড়ে। কুর্দীস্তানের ৬শ’ মাইল দীর্ঘ ফ্রন্ট লাইন বিপন্ন হয়। অস্ত্রবলে বলীয়ান আইসিসের আক্রমণাভিযানের মুখে কুর্দীরা পিছু হটে। ৬ আগস্ট আইসিসের আর্টিলারী যখন রাজধানী ইরবিল থেকে মাত্র ৩০ মাইল দূরে সে সময় বারজানি তার কুর্দী সৈন্যদের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রও কুর্দীদের পাশে এসে দাঁড়ায় এবং পরদিন থেকে আইসিসের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করে।

এদিকে মার্কিন বিমান হামলার সহায়তা পেয়ে ইরাক শেষ পর্যন্ত আইসিসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সক্ষম হলেও জিহাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইটা প্রধানত কুর্দীরাই চালিয়ে যাচ্ছে। আর এই লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তারা তাদের স্বাধীন কুর্দীস্তানের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে চাইছে। ২৯ জুন আল-বাগদাদী খিলাফত প্রতিষ্ঠা এবং নিজেকে খলিফা ঘোষণার দু’দিন পর বারজানিও ঘোষণা করেন যে ইরাকী কুর্দীরা কয়েক মাসের মধ্যে স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোট দেবে। তিনি বলেন, ‘এখন থেকে আমরা আর আমাদের লক্ষ্য গোপন রাখব না।’

এ থেকে বোঝা যায় যে, স্পষ্টতই রাষ্ট্র গঠনের দিকে এগোতে চাইছে কুর্দীরা। তবে আমেরিকার চাপে ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে তারা তাদের স্বাধীনতা আদায় আবার একটু বিলম্বিত করেছে। আপাতত বারজানি সরকার ইরাকের মধ্য থেকে গিয়েই নিজেদের অবস্থার উন্নতির জন্য চাপ প্রয়োগের কৌশল কাজে লাগাতে চায়। তার প্রমাণ ২ ডিসেম্বর ইরাকের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি। বারজানি সরকার ইরাককে তেল সরবরাহ বন্ধ করে তা বিদেশে বিক্রি করতে চেয়েছিল। কিন্তু মার্কিন চাপে ইরাকের সঙ্গে সমঝোতায় এসে তেল সরবরাহ আবার চালু করে।

ইরাকী কুর্দীদের নেতৃত্ব তাদের ভৌগোলিক অবস্থার মতই কঠিন ও রূঢ়। ইরাক ছাড়াও সংলগ্ন আরও তিনটি দেশে ছড়িয়ে থাকা এই জনগোষ্ঠী বারবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তরফ থেকে প্রতারিত হয়েছে। এবার তারা মিত্র হিসেবে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে না, ইসরাইল ও ইরানকেও মিত্র গণ্য করছে। শুধু তাই নয় আঙ্কারার সঙ্গেও সম্পর্ক দৃঢ় করেছেÑ যদিও দীর্ঘদিন ধরে তুরস্ক কুর্দীদের তাদের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি বলে গণ্য করেছিল। সিরিয়ার সীমান্ত শহর কোবানি এখন আইসিসের দ্বারা অবরুদ্ধ। সেই শহরকে রক্ষায় লড়ছে সিরিয়ার কুর্দীরা। ওদের শক্তি বৃদ্ধি করতে এগিয়ে এসেছেন বারজানি। তাঁর পাঠানো ১৫০ ইরাকী কুর্দী এখন সিরীয় কুর্দীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ে গড়ে তুলছে বৃহত্তর কুর্দী ঐক্য। একদিন এই ঐক্যই হয়ত বৃহত্তর পরিসরে কুর্দী রাষ্ট্র গঠন করবে। অন্তত দৃশ্যমান পরিস্থিতি সেই সম্ভাবনাকে তুলে ধরছে।

সূত্র : টাইম

প্রকাশিত : ৭ জানুয়ারী ২০১৫

০৭/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: