মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

যশোরে কেঁচো সার ব্যবহারে অভাবিত সাফল্য

প্রকাশিত : ৩ জানুয়ারী ২০১৫

সাজেদ রহমান, যশোর থেকে ॥ যশোর সদরের মাহিদিয়া গ্রামের মানুষ রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ‘কেঁচো সার’ ব্যবহার করছে। গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে এখন এই সার তৈরি হচ্ছে। নিজেদের জমিতে এই সার ব্যবহারের পাশাপাশি তারা বিক্রি করছে। এতে তাদের সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে।

ফসল উৎপাদনে রাসায়নিক সারের ক্ষতিকর প্রভাবটা এরই মধ্যে টের পেয়েছেন এ অঞ্চলের চাষীরা। তাই ফসলের ক্ষেতে ক্ষতিকর রাসায়নিক সারের বদলে তারা বেছে নিয়েছেন ‘ভার্মি কম্পোস্ট’, সহজ করে বললে ‘কেঁচো সার’। এটি ব্যবহার করে সাশ্রয়ী খরচে চাষাবাদ করা হয় এখানে। জমিতে কেঁচো সার ব্যবহার করলে একমাত্র ইউরিয়া ছাড়া টিএসপি, পটাশ, জিপসাম ও দস্তার মতো রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না। এভাবে এক বছর ধরে এ পদ্ধতিতে জমিতে চাষাবাদে সারের খরচ কমিয়েছেন এখানকার কৃষকরা। এখন বিঘাপ্রতি বেঁচে যাচ্ছে এক হাজার একশ টাকা। এ সার শুধু যে খরচ বাঁচায় তা নয়, পরিমাণেও কম লাগে।

এই সার উৎপাদনে কোন ঝামেলা নেই। ঘরে বসে অনায়াসেই তৈরি করা সম্ভব। গ্রাম এলাকায় সাধারণত মহিলারাই গোয়াল পরিষ্কার করেন। গরুর গোবর তারা বাড়ির ধারে কাছে কোন নির্দিষ্ট গর্তে ফেলেন। ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করতে হলে এ গোবর গর্তে না ফেলে কোন বড় পাত্রে রেখে তাতে একশ্রেণীর বিশেষ প্রজাতির কেঁচো ছেড়ে দিতে হয়। পরে পাত্রটি ঢেকে লক্ষ্য রাখতে হয় যেন পিঁপড়া, মুরগি ও ব্যাঙের কোন ক্ষতি করতে না পারে। ২০-২৫ দিনের মধ্যে কেঁচো ওই পাত্রের গোবর খেয়ে ভার্মি কম্পোস্টে পরিণত করে ফেলে।

মাহিদিয়া গ্রামের ৭১টি পরিবার কেঁচো সার উৎপাদনে যুক্ত। কৃষক ইউনুস আলী মোল্লার স্ত্রী ফরিদা জানান, এ সার উৎপাদনে সংসারের কাজের কোন ক্ষতি হয় না। তাদের প্রত্যেকের বাড়িতে প্রতি মাসে ১৫০ থেকে ২০০ কেজি সার তৈরি হচ্ছে।

ইউনুস আলী মোল্লা জানান, গত এক বছরে একবার বোরো ও দু’বার আমনের আবাদ করেছেন। তিনবারই নিজেদের তৈরি সার দিয়ে কাজ চালিয়েছেন। এটি ব্যবহারে ফসল আগের চেয়ে ভাল হয়েছে। একই কথা জানান গ্রামের আরও কয়েকজন উৎপাদনকারী। তাঁরা জানান, ধানের চেয়ে সবজিতে এ সারের কার্যকারিতা বেশি।

কৃষি বিভাগের উপসহকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, গত বছর আগস্টে এ গ্রামে কেঁচো সার প্রকল্প চালু করা হয়।

প্রকাশিত : ৩ জানুয়ারী ২০১৫

০৩/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: