মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ছুটির দিনে বাণিজ্য মেলায় উপচেপড়া ভিড় ॥ এখনও চলছে স্টল তৈরি

প্রকাশিত : ৩ জানুয়ারী ২০১৫
ছুটির দিনে বাণিজ্য মেলায় উপচেপড়া ভিড় ॥ এখনও চলছে স্টল  তৈরি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়ে ছুটির দিনে বেশ জমজমাট ছিল ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। মেলার দ্বিতীয় ও প্রথম ছুটির দিন শুক্রবার সকাল থেকেই মেলায় ছিল দর্শনার্থীদের সরব পদচারণা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের উপস্থিতি আরও বেড়ে যায়। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলায় ছিল উপচেপড়া ভিড়। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের মেলায় প্রবেশের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা যায়। এদিন ক্রেতা-দর্শনার্থী বাড়ায় অংশগ্রহণকারী স্টলগুলোর বিক্রিও ভাল হয়েছে। বিক্রেতারা জানালেন, এবারের মেলায় বিদেশী পণ্যের চেয়ে দেশীয় পণ্যের প্রদর্শনই বেশি। ক্রেতা-দর্শনার্থীও বেশি ভিড় করছে দেশীয় পণ্যের প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলোতে।

শুক্রবার সরেজমিন মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, শুক্রবার সকালে দর্শনার্থী কম থাকলেও দিনশেষে সব ধরনের স্টল ও প্যাভিলিয়নে বেচাকেনা বাড়তে থাকে। এদিকে মেলার দ্বিতীয় দিনেও কিছু স্টল ও প্যাভিলিয়ন তৈরির কাজ করতে দেখা গেছে। মেলার সার্বিক পরিবেশ অনেকাটাই অগোছালো। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা, বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ সামগ্রী পড়ে আছে। বিদেশী প্যাভিলিয়নগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ প্যাভিলিয়নের নির্মাণকাজ অসম্পন্ন। অনেক প্যাভিলিয়নে মালামাল ওঠানো হয়নি। তারপরেও মেলায় বিক্রেতাদের হাঁকডাক রীতিমতো শুরু হয়েছে। অনেক কোম্পানির পণ্য দেদার বিক্রি করছেন। বিক্রেতারা বলছেন, সবেমাত্র মেলা শুরু হয়েছে। মেলার যাবতীয় প্রস্তুতির কাজ শেষ হতে আরও দুই একদিন লাগবে। তবে মেলার সময়ের ছুটির দিনগুলোতে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ভাল থাকে। সে অর্থে মাসব্যাপী মেলার প্রথম শুক্রবার ছিল গতকাল। ফলে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে। বিক্রিও হচ্ছে আশানুরূপ। এমনকি ব্যবসায়ীদের অনেকেই বলেছেন, গত বছর মেলাতে ক্ষতি হয়েছিল। এবার সে ক্ষতি পোষাতে আগে-ভাগেই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

মেলা ঘুরে অধিকাংশ বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন মেলায় পণ্য ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি। পণ্য দরদাম করলেও বেশিরভাগই কিনছেন না। পরিবার নিয়ে মেলায় ঘুরতে আসা মিরপুরের বাসিন্দা আশ্রাফ আলী জনকণ্ঠকে বলেন, মেলায় সবাইকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। দুই সন্তানের জন্য কিছু কেনাকাটা করেছি। মেলায় আবারও আসব তাই অল্প কেনাকাটা করেছি। যদিও এই মুহূর্তে মেলায় ঘুরে বিভিন্ন পণ্য দেখাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। এদিকে আজ শনিবার থেকে দর্শনার্থীর সংখ্যা ও বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করেন ব্যবসায়ীরা। দেখা গেছে, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে অনেক প্যাভিলিয়ন ও স্টল বিশেষ ছাড় দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার উদ্বোধনের পর থেকেই বিশেষ ছাড় দিয়ে পণ্য বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। এদিকে এবারের মেলায় বিদেশী পণ্যের চেয়ে দেশীয় পণ্যের প্রদর্শনই বেশি। ক্রেতা-দর্শনার্থীও বেশি ভিড় করছে দেশীয় পণ্যের প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলোতে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ওয়ালটন, রানার, মাইওয়ান, যমুনা, আরএফএলসহ অনেক প্রতিষ্ঠান মেলায় তাদের নিজেস্ব পণ্য প্রদর্শন করছে। টেলিভিশন, ফ্রিজ, এয়ারকুলার, মোটরসাইকেল, মোবাইল, হোম ও কিচেন এ্যাপ্লায়েন্স পণ্যের নতুন অন্তত ৩০টি মডেল নিয়ে এসেছে ওয়ালটন। পাশাপাশি প্রত্যেক পণ্যে দেয়া হচ্ছে আকর্ষণীয় ছাড়। ওয়ালটনের বিপণন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (মোবাইল বিভাগ) এসএম রেজওয়ান আলম শিপলু বলেন, এবার প্রিমো সিরিজের এক্স-টু, এক্স-টু মিনি, এক্স-থ্রি, জেডএক্সসহ সর্বাধুনিক প্রযুক্তির প্রায় ৫০টি মডেলের মোবাইল সেট থাকছে বাণিজ্যমেলায়। নতুন মডেলের ওয়াল প্যাডও ক্রেতারা পাবেন আকর্ষণীয় ছাড়ে। যমুনা ইলেক্ট্রনিক্স মেলায় ফ্রিজ, টিভি, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্রদর্শন করছে। দেশীয় ব্র্যান্ড ‘দুরন্ত’ মেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে রানার অটোমোবাইল। মোটরসাইকেলপ্রেমী তরুণদের ভিড় দেখা গেল এ প্যাভিলিয়নে। এছাড়া জাপানী শার্প ইলেক্ট্রনিক্স প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির কোকোরোআই এলইডি টিভি। শার্প প্যাভিলিয়নের সেলস অফিসার আদনান শারীফ জানান, টিভি থেকে ২০ মিটারের মধ্যে কেউ রুমে ঢুকলে অটো চালু ও রুম থেকে বের হয়ে গেলে অটো বন্ধ হয়ে যাবে।

এদিকে মেলায় ভিড় এড়াতে আগেভাগেই এসে পণ্য কেনাকাটায় শামিল হয়েছেন নারীরা। শুক্রবার ছুটির দিনে নারীদের ব্যবহার সামগ্রীর স্টল ও শিশুদের খেলনার দোকানে ক্রেতাদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। মেলায় শিশু খেলনা ও নারীদের ব্যবহার সামগ্রীর বিক্রয় প্রতিষ্ঠান নাঈম এন্টারপ্রাইজের বিক্রয় প্রতিনিধি মোঃ ইলিয়াস হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা ভাবিনি উদ্বোধনের পরের দিন ক্রেতা-দর্শনার্থী এত বাড়বে। সামনের দিনগুলোতে হরতালের মতো কর্মসূচী না দেয়া হলে ভাল ব্যবসা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, শিশুদের খেলনা এবং নারীদের সাজগোজের সামগ্রী বিক্রয় হচ্ছে ভাল। তিনি জানান, এবার শিশুদের খেলনার মধ্যে সর্বনিম্ন ১০০ টাকায় ফিকশন কার এবং সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকায় রিমোট কন্ট্রোল হেলিকপ্টার বিক্রি হচ্ছে। জিনিয়া এন্টারপ্রাইজের বিক্রেতা মোঃ মহসিনের কাছে বিক্রির পরিস্থিতি জানতে চাইলে হাসিমুখে তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে মেলার বিক্রি। সামনের দিনগুলো স্বাভাবিক থাকলে বিক্রি ভাল হবে বলে তিনি মনে করেন। এ জন্য মাসব্যাপী বাণিজ্যমেলার মধ্যে হরতাল কর্মসূচী না দিতে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রকাশিত : ৩ জানুয়ারী ২০১৫

০৩/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: